25/05/2015
পোশাক শিল্প বাংলাদেশ এর অর্থনীতির মেরুদন্ড হিসেবে বর্তমানে সবার নিকট পরিচিত। শিক্ষিত , আধা -শিক্ষিত সহ বিভিন্ন গোত্র ও শ্রেনীর মানুষ্ এ শিল্পের সাথে জড়িত, তাদের জীবিকা নির্বাহের জন্য। দু'ধরনের শিক্ষিত মানুষ্ গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিতে দেখ্ত পাওয়া যায় , প্রথমটি হল সাধারন শিক্ষায় শিক্ষিত/জেনারেল এবং দ্বিতীয় টি হল টেকনিকাল/কারিগরী শিক্ষায় শিক্ষিত।কারিগরী শিক্ষায় শিক্ষিত দের ইঞ্জিনিয়ার বলা হয়, তাদের অবদান লিখে শেষ করা যাবে না পোশাক শিল্পের উন্নয়নে,আর যারা সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত তাদের অবদান কতটুক? সাধারণ শিক্ষায় যারা শিক্ষিত তাদের কি কোন অবদান নেই ? উত্তরটা আমি লিখলাম না , আপনাদের কাছে জিজ্ঞাসা রইলো।
আমি সঠিক পরিসংখান জানি না , ঠিক কতজন সাধারণ গ্রাজুয়েট পোশাক শিল্পের মধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে। তবে অনুমান করতে পারি, আপনিও পারবেন; সংক্ষাটা নিশ্চই অল্প হবে না। অন্যদিকে কারিগরী শিক্ষায় শিক্ষিত গ্রাজুয়েট এর সংখ্যা খুব বেশী নই । আর এই অল্প সংখ্যক কারিগরী গ্রাজুয়েট দ্বারা অধিকাংশ (৯৭%) মানুষ্ চালিত হচ্ছে। এর কারন কি বলে মনে হয় আপনার, সাধারণ গ্রাজুয়েটদের কি জ্ঞাণ এর অভাব নাকি টেকনিকাল সার্টিফিকেট এর অভাব? আমার মনে হই, জ্ঞাণ এর অভাব হইত নেই; কারন তাদের আছে অভিজ্ঞতা। শুধু নেই একটি টেকনিকাল সার্টিফিকেট। আর এ কারনেই অধিকাংশ সাধারণ গ্রাজুয়েটরা হচ্ছে বৈষমের শিকার।
ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি , পাবলিক ইউনিভার্সিটি, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি থেকে প্রতি বছর অনেক সাধারণ/জেনারাল গ্রাজুয়েট অনেক সপ্ন নিয়ে চাকরী খুজতে থাকে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, বর্তমান এ নিজের খাওয়া -পরার খরচ যোগানোর মত চাকরি পাওয়া দুস্কর। হতাশ হয়ে কোথায়ও সপ্নের চাকরি না পেয়া পোশাক শিল্পের দারস্ত হয়। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস এখানেও দরকার একটি মাধ্যম। মাধ্যম ছারা চাকরী হবে না। অনেক কষ্টে কোন একটা মাধ্যম যোগার করা হলে ইন্টারভিউ এর ব্যবস্তা হই। ইন্টারভিউ বোর্ড এ experience না থাকার জন্য খুব অল্প বেতন ধার্য করা হই, এর সাথে সাথে দেখানো হই আবার নতুন একটি সপ্ন "কাজ শিখ ; প্রমোশন হবে , বেতন বাড়বে"। নিরুপায় হয়ে ৫০০০ টাকা থেকে ৭০০০ টাকার বেতন এর চাকরি নিতে হয়। এ টাকা দিয়ে নিজে চলবে, নাকি পরিবার কে সহায়তা করবে?
এখানেই শেষ নই , এই অল্প বেতনে পদবি দেওয়া হই অফিসার !!! এর মানে হলো ওভারটাইম অফিস করতে হবে, কিন্তু এর জন্য কোম্পানি কোন টাকা দিবে না !!! অফিস শুরুর সময় আছে, কিন্তু শেষ হবার কোন নির্দিষ্ট সময় নেই !!! আরো অনেক মানসিক নির্যাতন এর শিকার হবার মত নিয়ম কানুন ২০১৫ সালেও বাংলাদেশের মত একটি উন্নয়নশীল দেশ এর শতকরা ৯৫% পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠান-এ নীরব এ পালিত হয়ে আসছে।
এত চড়াই উতরাই পরিয়ে ৪-৫ বছর এর অভিজ্ঞতা নিয়ে বেতন হলো ১০০০০-১৫০০০ টাকা। সময় হলো সংসার করার। কিন্তু মনের ভিতর সন্দেহ এই টাকা দিয়ে সংসার চালাব নাকি বাবা-মা কে সাহায্য করব। চিন্তা করতে করতে চলে গেল আরো ১-২ বছর। অবশেষ এ ঝুকি নিয়ে শুরু হই সংসার। এ উপলক্ষ্যে বেতনও বেড়ে হয় ১৫০০০-২০০০০ টাকা। নতুন সংসার, নতুন চিন্তা। চাকরি হারালে সংসার চলবে কি ভাবে? এ ভয়ে কর্মস্থল এ কোনো অনিয়ম এর প্রতিবাদ এর শক্তি ও সাহস দুটোই হারিয়ে যাই। ধীরে ধীরে বক্তিত্ব হারিয়ে যায়। এভাবেই আরো ২-৩ বছর চলে যাই। বেতন হয়ত ২০০০০-২৫০০০ টাকা। এরই মধ্যে সংসার এ নতুন কোন মুখ এর আগমন হল। চাকরি হারাবার ভয় আরো বেড়ে গেল , কারন সন্তান এর ভবিস্যত এর সাথে জড়িত।এখন শুধু জী স্যার, ইয়েস স্যার ছাড়া আর কোনো ভাষা মুখে থাকে না। এর মাধ্যমে-এ উপর মহল বুঝে যায়, একে দিয়ে যা খুশি তাই করানো যাবে, এই লোক আর চাকরী ছেড়ে যাবে না। এর পর থেকে তার চাহিদা বৃদ্ধির সাথে আর বেতন বৃদ্ধি হই না। এভাবেই হইতো চাকরী ছাড়ার পূর্ব পর্যন্ত বেতন এর পরিমান দাড়ায় ২৫০০০-৩০০০০ টাকা।
প্রতিটি পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠান এর অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ পদে মালিক শ্রেণী টেকনিকাল ইঞ্জিনিয়ারদের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। এ সিদ্ধান্ত কি সব সময় সঠিক হয়? ভুল সিদ্ধান্তের দায় কার? মালিক শ্রেনীর মানুষগুলোর উপর কি একটু-ও দায় পড়ে না ? বিবাকের কাছে প্রশ্ন রইলো।
অন্য দিকে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত গ্রাজুয়েটগণ লেখাপড়া চলাকালীন সময় ইন্টার্নশীপ এর মাধ্যমেই চাকরীর সূত্রপাত হই। এ ছাড়াও সিনিয়র ব্যাচ এর সহযোগিতায় তাদের চাকরীর শুরুটা ভালো হয়। এসব এর বাইরেও রযেছে তাদের এসোসিয়েশন। তাদের চাকরীর শুরু হয় ১০০০০-১৫০০০ টাকা দিয়ে। থীয়রী নলেজ থকলেও প্রাকটিক্যাল নলেজ থাকে না। চাকরীর শুরুতেই কোন জেনারেল গ্রাজুয়েট এর সহায়তায় শুরু হয় হাতে খড়ি, কারন জেনারেল মানুষগুলো ঘাত -প্রতিঘাত এর মধ্য দিয়ে কাজ শিখে । ২-৪ বছর অভিজ্ঞতা হলেই, সিনিয়রদের সু-দৃষ্টি আর মালিক শ্রেনীর টেকনিকাল ইঞ্জিনিয়ার দের প্রতি দুর্বলতায় বেতন বেড়ে হই ১৫০০০-৩০০০০ টাকা। আরো কিছুদিনের মধ্যে-ই তারা উন্নতির চরম শেখর এ পৌছে যাই। তখন আর জেনারেল গ্রাজুয়েট দের কথা মনে থাকে না, যারা মাধ্যমে হাতে খড়ি। এ রকম উদহারণ অগনিত্ রয়াছে।
আমি আমার এই লেখার মাধ্যমে টেকনিকাল ইঞ্জিনিয়ার দের ছোট করছি না বা, হিংসা প্রকাশ করছি না । শুধু জেনারেল গ্রাজুয়েট দের দুর্দশার কথা তুলে ধরছি। যাদের যোগ্যতা আছে তাদের যোগ্যতার সঠিক মুল্লায়ান চাই। আর এর জন্য দরকার একটি প্রতিষ্ঠান, যে প্রতিষ্ঠান কথা বলবে যোগ্যতার মাপকাঠি হতে বঞ্চিত জেনারেল গার্মেন্টস গ্রাজুয়েটদের পক্ষে। যার নাম হতে পারে "Bangladesh Garments Graduate Association-বাংলাদেশ গার্মেন্টস গ্রাজুয়েট এসোসিএসন" এর মাধ্যমে ১০০% না হলেও কিসুটা অধিকার তো আদায় হবে। তাই আমার অনুরোধ, আসুন আমরা এই রকম একটি প্রঠিস্থান এর জন্য প্রযুক্তির মাধ্যমে সমবেত হই, নিচে উল্লেখিত ফেইসবুক পেজ-এ লাইক (Like) দিয়ে।
Facebook পেজ এ যোগ দিন :
"Bangladesh Garments Graduate Association-বাংলাদেশ গার্মেন্টস গ্রাজুয়েট এসোসিএসন"
লিংক :
https://www.facebook.com/bggassociation
(ইফব়াত)
০১৭৬০৬১৮৫৬৫
To create a intra relation among all graduates are related with RMG sector in Bangladesh. Also play a role for graduates to achive their rights.