29/07/2017
ধীরাভংস মানুষ নয়, অমানুষও নয়, একটা ভয়ংকর বিষধর সাপ। তাও আবার যেন তেন নয়, ইচ্ছাধারী সাপ! একবিংশ শতাব্দীতে ওসব তো থাকার কথা নয়! থাকলেও তা থাকবে সিনেমায়, এখানে কেন!
প্রথমে ওকে অবিশ্বাস করেছিলাম। প্রতারক, সন্ত্রাসী বা জংগী ধরণের কিছু ভেবে ক্ষেপে উঠেছিলাম।
যুবক তখন কাঁধের গাট্টিটা নামিয়ে টান মেরে মুখটা খুলে সেটা ঠেলে দিল আমার দিকে, এরপর বলল, এগুলো সোনাগয়না, টাকাপয়সা। এমন সাতাশটা গাট্টি আছে আমার। এগুলো দিয়ে আমি মানুষের সেবা করতে চাই। কথা শুনে চমকে গেলাম। এক’পা এগিয়ে একটু ঝুকে গাট্টিটার ভেতরে চোখ রাখলাম। অনেকগুলো টাকার বান্ডিল, সেগুলোর পাশে চকচক করছে মোহর!
বাপ রে! আমার গা কাঁপতে শুরু করল। একসংগে অনেক টাকা দেখলেই আমার গা কাঁপে, এটা তা নতুন নয়। আবার ওর দিকে চোখ তুলে তাকালাম, এবার তো বিস্ময়ে জমেই গেলাম। চোখের সামনেই সাপ হয়ে গেল ওই যুবক! ওটা এখন আমার দিকেই তাকিয়ে আছে, চেরা জিহবাটা বের করে হিস হিস শব্দ করছে! আমি চোখমুখ বুজে একটা লাফ দিলাম। কাঁপুনির আর দেখছে কী! তারপরও আমি যেন আচ্ছন্নের মতই আবার ফিরে তাকালাম। সাপটা তখন কথা বলল। ‘এখনও আমাকে বিশ্বাস করতে পারছ না। ভাবছ আমি কোনো জাদুকর! আরে ভাই, জাদুকর তো অন্য কিছু একটাকে ধরে ফুল বানায়, কবুতর বানায়, হয়ত সাপও বানায়। নিজেই কি সাপ হয়ে যায় কখনও?’
সাপটা আবার মানুষ রুপে ফিরে এল, এরপর বলল, ‘আমার আযোগ্যতার কারণে সাতাশটা গাট্টির মধ্যে আটকা পড়ে আছে অনেক মানুষের ভাগ্যলক্ষী। পারলে আমাকে বিশ্বাস কর, সাহায্যের হাতটা বাড়িয়ে দাও। তাতে কিছু মানুষের কল্যান হবে, নিশ্চিত।
কথাটা আমার মনে ধরল, কারণ কথা সত্য। ওকে অবিশ্বাস করছি মানেই তো ঘটনা এখানে শেষ! ওর কাছে অনেক টাকা, তাই ওকে বিশ্বাস করার ওপর মানব-কল্যানের বিশাল একটা সম্ভাবনা জড়িত। আমি শক্ত হলাম, বিষধর একটা সাপকে বিশ্বাস করে ফেললাম।
তবে আমার মাথায় হাজারো প্রশ্নের বন্যা বয়ে যাচ্ছিল। একটা সাপ সোনাগয়না-টাকাপয়সা কোথায় পেল! মানুষ্য যে চেহারাটা ও ধারণ করে আছে এ চেহারাটাই বা আসলে কার! কেনই বা ওর দায় পড়ে যাবে জীবনের ঝুকি নিয়ে মানব সেবা করতে আসার!
যুবক মৃদু হাসল, এরপর বলল, বিশ্বাস করা গেলে কাঁটে সংশয়, অসম্ভব অনেককিছুই সম্ভব হয়।
তা হয়। আমি আর দেরী না করে ধীরাভংসকে সংগে করে ছাপাখানায় চলে গেলাম। সেখানে বিধিবদ্ধ কাজকর্ম সেড়ে এরপর ওর চোখে চোখ রেখে বললাম, যদি সত্যি সত্যি মানব-কল্যান করতে চাও, তা হলে যাও, এবার তুমি ভাল একটি বই হয়ে যাও। প্রথমে মানুষের মধ্যে মানবতা ও মানবীয় অনুভুতিগুলো জাগিয়ে তোল, এরপর সোনাগয়না-টাকাপয়সা দিলে দাও। অপদার্থ কারো হাতে আগেই অর্থকড়ি এসে গেলে সেগুলো তোমার চেয়েও বিষধর আচরণ করবে, চরিত্র ধংশ করে মানুষকে সাক্ষাৎ শয়তান বানিয়ে ছাড়বে। কাজ শেষ করে সম্মানিয় পাঠক সমাজকে তোমার সম্পর্কে কথা বলতে দাও। ওনারাই দেখেশুনে রায় দেবেন, তুমি ধীরাভংস কি জাদুকর, হাস্যকর, নাকি সত্যি সত্যি একটু হলেও মানুষ ও মানবতার জন্য উপকারী।
ধীরাভংসকে যারা পথ দেখিয়ে আগ্রহী পাঠকের দরবারে হাজীর করে দিবেনঃ
রকমারী ডট কম (ফোনঃ ১৬২৯৭)।
মানবাধীকার প্রকাশন (ফোনঃ ০১৯৯৯-৯৩৭৬৩৫)।
ডাইরেকটেক পাবলিকেশন (ফোনঃ ০১৭১১-৫৪২৬৩৮)।
ধন্যবাদ।