04/12/2023
বাংলাদেশের এডুকেশন সিস্টেম নিয়ে আগে একদিন একটা পোস্ট দিয়েছিলাম। আজ এডুকেশন সিস্টেম নিয়ে আরো কিছু বিষয় লিখতে ইচ্ছে করতেছে।
১৷ আমাদের দেশে বর্তমানে মাদ্রাসা, স্কুল প্রধাণত এই দুই পদ্ধতিতে পড়াশুনা করানো হয়৷ আমার মতে মাদ্রাসা এবং স্কুল এই ২ টা আলাদা শিক্ষা ব্যাবস্থা বাদ দিয়ে একটি মাত্র শিক্ষা ব্যাবস্থা চালু করা উচিত৷ এমনকি মাদ্রাসা এবং স্কুলের মধ্যেও নানাবিধ ভাগাভাগি রয়েছে যেমন: মাদ্রাসার মধ্যে কওমী, খারেজি এমন বেশকিছু ভাগাভাগি থাকার পাশাপাশি স্কুল লাইনেও বাংলা মিডিয়াম, ইংলিশ মিডিয়াম এমন বেশ কিছু ভাগাভাগি রয়েছে। এইসবগুলি বাদ দিয়ে যদি একটাই শিক্ষা ব্যাবস্থা গড়ে উঠে সেখানে সকল শিক্ষার্থীই একই মানুষিকতা নিয়ে বড় হয়ে উঠবে।
২। আমাদের দেশে যেহেতু একাধিক ইসলাম ধর্মের পাশাপাশি একাধিক ধর্মীয় অনুসারীর মানুষ রয়েছে তাই প্রধান ৪ টি ধর্ম সম্পর্কে শিক্ষার্থীদেরকে একটা মিনিমাম লেভেলের বাস্তব জ্ঞ্যান অর্জন বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে। প্রাথমিকভাবে আমার এই মতামত অনেকেই মেনে নিতে চাইবেন না জানি তবে আমার দৃড় আত্মবিশ্বাস আছে যে, প্রতিটা ধর্ম সম্পর্কে জানার ফলে শিক্ষার্থীরা অন্য ধর্ম সম্পর্কে সম্মান প্রদর্শনের পাশাপাশি নিজেদের নলেজ যাচাই করার সুযোগ পাবে।
৩৷ স্কুল সিস্টেমে আমাদের দেশে ১-১০ পর্যন্ত পড়নো হয়। এটা বাদ দিয়ে উন্নত দেশগুলির সাথে তাল মিলিয়ে ১-১২ পর্যন্ত স্কুলের অন্তর্ভূক্ত করা যেতে পারে। অনেকেই এখানে দ্বিমত পোষণ করতে পারেন যে, উন্নত দেশের সাথে আমাদের তাল মেলানোর দরকার কি, আমাদের এটা নাই সেটা নাই, আমরা এতো এতো বছর পিছিয়ে আছি ইত্যাদি। এইক্ষেত্রে একটা কথা বলতেই হয় যে, উন্নত দেশগুলির মত করে আমরা যথেষ্ট পরিমাণে ইন্টার্নেট নির্ভর হয়ে পড়তেছি৷ অন্য দেশের শিক্ষাব্যাবস্থা, হালচালের সাথে ইন্টারনেটের কারণে সহজেই আমরা বুঝতে সক্ষম হই৷ অপরদিকে আমাদের দেশের ছেলেমেয়েদের মেধাশক্তি যে কম ব্যাপারটা তেমন ও নয়। তাই এদেরকে পরিবেশ দিতে পারলে এবং যথাযথ নিয়ন্ত্রণ ও গাইডলাইন দিতে পারলে ইনশা আল্লাহ আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরাও বিশ্ব লিড করতে সক্ষম হবে।
৪। ইন্টারনেট জগতটা ওপেন এবং এখানে ভালমন্দ ২ দিকেই বিচরণও সহজ। এইদিকে লক্ষ্য রেখে ধর্মীয় অনুভূতি ও অন্যান্য পন্থায় শিক্ষার্থীদেরকে নিয়ন্ত্রণ করা খুব বেশি প্রয়োজন। বর্তমান কারিকুলাম অনেকটাই ডিভাইস নির্ভর। এই ডিভাইসগুলি যেন আসক্তির কারণ না হয় এবং শিক্ষার্থীদেরকে নেগেটিভ দিকে ধাবিত করতে না পারে সেই দিকে কার্য্যকরি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
৫৷ ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠা এবং রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমানোর অভ্যাস যদি ছোট থেকেই করা যায় তাহলে আমরা একটা এনারজিটিক জেনারেশন তৈরি করতে পারবো তাই এটা মাথায় রেখে আর্লি মর্নিং এই শিক্ষা কার্য্যক্রম শুরু করার পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই দুপুরে খাওয়া দাওয়া ও রেস্ট নেওয়ার ব্যাবস্থা করার পাশাপাশি বিকালে মাঠে খেলাধুলার ব্যাবস্থা থাকলে একবারে সন্ধ্যায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই মাগরিবের সালাত আদায় করে এ্যাটেন্ডেন্স চেক করে শিক্ষার্থীদেরকে ছুটি দিলে শিক্ষার্থীরা বাসায় গিয়ে তাদের পরিবারের সাথে বেশ সময় দিতে পারবে যা তাদের পরিবারের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে যথেষ্ট সহযোগী হবে ইনশা আল্লাহ। এক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই শিক্ষার্থীদের পড়াশুনার প্রতি যথাযথভাবে যত্নশীল হতে হবে। প্রয়োজনে শিক্ষকদের বেতন ভাতা বাড়িয়ে দিতে হবে তবে শিক্ষার্থীদেরকে যেন কোনভাবেই প্রতিষ্ঠানের বাহিরে আবারো অতিরিক্ত টিচার বা কোচিং এর প্রয়োজন না পড়ে সেইভাবেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে গাইড লাইনের ব্যাবস্থা করতে হবে।
৬। কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট সংখ্যাক শিক্ষার্থীর বেশি ভর্তি হতে পারবে না, এবং সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্লাস, টেস্ট, এ্যাসেসমেন্ট, পরীক্ষা ইত্যাদি একই সময়ে হলে পুরো বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে এবং বেড়াতে যাওয়া বা অন্য যে কোন প্রয়োজনে শিক্ষার্থী অন্য শহরে গেলে উক্ত শহরের নিকটবর্তী যে কোন স্কুলে পুর্ব অনুমতি স্বাপেক্ষে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে অংশগ্রহণ করতে পারবে। এতে করে ক্লাস মিস হবে না।
৭। রেগুলার থিউরিক্যাল পড়াশুনার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ ও এক্সট্রা কারিকুলাম এ্যাক্টিভিটি ও প্রচুর পরিমাণে প্রাক্টিক্যাল নলেজ ডেভেলপমেন্টর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদেরকে দক্ষ করে গড়ে তোলা যেতে পারে। দেশের বিভিন্ন সমস্যা শিক্ষার্থীদের মাঝে তুলে ধরে সমাধানের জন্য বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা যেতে পারে, এবং এই প্রতিযোগিতায় অভিভাবকদেরকেও যুক্ত করা যেতে পারে৷ একই সাথে যেই সকল শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ক্লাস চলাকালীন সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বসে বসে সময় কাটান তাদেরকে উক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই সময়টাকে কাজে লাগানোর ব্যাবস্থা করা যেতে পারে।
৮। শিক্ষকতা পেশা একটি সম্মানের পেশা। তবে ইদানীং সেই শিক্ষকদেরকেই দেখা যায় অনেক এলাকা ভিত্তিক লিডারদেরকে তৈলমর্দন করেন যা খুবই দু:খজনক। এই অভ্যাস থেকে বের হয়ে আসা বা বের করে নিয়ে আসার জন্য সরকারীভাবেই যথাযথ ব্যাবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। ১-১২ পর্যন্ত প্রতিটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হওয়া উচিত সকল প্রকার রাজনীতি মুক্ত এবং এই ১-১২ পর্যন্ত সকল শিক্ষার্থীদেরকে সায়েন্স/আর্টস/কমার্স কোন বিভাবে বিভক্ত না করে দেশের সংবিধান ও আইন কানুন সম্পর্কে ভালভাবে অবগত করে গড়ে তোলাও জরুরি।
৯। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই ভলেন্টিয়ারি ওয়ার্কের মাধ্যমে নানাবিধ সামাজিক কার্য্যক্রম এর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে যার মাধ্যমে উক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আওতাভূক্ত এলাকার ব্যাপক সামাজিক উন্নয়ন করা যেতে পারে এবং এই কার্য্যক্রম গুলির সাথে এলাকায় অবস্থিত বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব প্রাপ্ত ব্যাক্তিদের সহযোগীতাও নেওয়া যেতে পারে।
১০। প্রতিটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এলাকাভূক্ত অঞ্চলে অতি দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের তালিকা তৈরি করে উক্ত শিক্ষার্থীদেরকে পরিপূর্ণ শিক্ষা সংক্রান্ত সহযোগীতা করা যেতে পারে। তবে তালিকা তৈরিতে কোনভাবেই যেন ঘুষ বানিজ্য না হয়, দুর্নীতি না হয় বা স্বামর্থ্য থাকা সত্বেও কেউ যেন সুযোগ না নিতে পারে সেইদিকে কার্য্যকর ভূমিকা রাখা জরুরি। এখানে একটা বিষয় উল্লেখ করা জরুরি যে, অনেক পরিবারকে দেখেছি পাচতলায় থেকেও অভাবী থাকে আবার গাছতলায় থেকেও স্বভাবী থাকে৷
এভাবে আরো একাধিক উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। পোস্টে মার্জিত ভাষায় পক্ষে বিপক্ষে মতামত প্রদান করার পাশাপাশি শিক্ষা সংক্রান্ত যে কোন বিষয়ে পর্যালোচনা করা যেতে পারে।
সর্বোপরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গুলিকে দেশের সুনাগরিক তৈরির কারখানা হিসেবে ব্যাবহার করা যেতে পারে।