21/08/2023
ঘটনাটি হলো হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর জীবনের
একদিন এক দরিদ্র মানুষ নবীজী (সঃ) এর জন্য এক গুচ্ছ আঙ্গুর উপহার আনলো। নবীজী হাত বাড়িয়ে আঙ্গুরের গুচ্ছটি নিলেন। তারপর মানুষটির সামনে তিনি আঙ্গুরের গুচ্ছ থেকে একটা আঙ্গুর ছিঁড়ে নিজের মুখে দিলেন। এবং আঙ্গুরে কামড় দেয়ার পর তিনি খুশি হয়ে হেসে উঠলেন। এরপর হাসি মুখে দরিদ্র মানুষটির সাথে গল্প করতে করতে একটা একটা করে তিনি সবকটা আঙ্গুর খেয়ে নিলেন।
নবীজী সবগুলো আঙ্গুর খেয়েছেন দেখে দরিদ্র মানুষটি অত্যন্ত আনন্দিত হলো।
সে ভাবে নি যে,
নবীজী তার আনা আঙ্গুর সবগুলো খাবেন।
সে পরম আনন্দ নিয়ে এক সময় বিদায় নিলো।
দরিদ্র মানুষটি চলে যাওয়ার পর ওখানে উপস্থিত সাহাবীদের একজন নবীজীকে বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেসা করলেন,
"ইয়া রাসুলুল্লাহ (সাঃ),
আপনার কাছে কেউ কোনো উপহার আনলে আপনি তা অবশ্যই সবার মাঝে ভাগ করে দেন।
কিন্তু আজ আপনি উপহার পাওয়া আঙ্গুরের গুচ্ছ থেকে আমাদের একটা আঙ্গুরও দিলেন না। সবকটা আপনি খেলেন।
এমন তো কখনো হয় না?"
সাহাবীর কথা শুনে নবীজী হাসলেন। এরপর জবাবে তিনি যা বললেন, তা অসাধারণ শিক্ষণীয়।
নবীজী ওখানে উপস্থিত সমস্ত সাহাবীদের উদ্দেশ্যে বললেন,"আঙ্গুরগুলো তোমাদের না দিয়ে সবকটা আঙ্গুর আমি এজন্যই খেয়েছি যে, আঙ্গুরগুলো খুব টক ছিলো।
যদি তোমাদের দিতাম, তবে আঙ্গুর খেতে গিয়ে আচমকা টকের তীব্রতায় তোমরা মুখ বিকৃত করতে।
এতে দরিদ্র মানুষটি বুঝে যেতো যে, তার আনা আঙ্গুরগুলো ভালো হয় নি।
এতে সে কষ্ট পেতো।
দরিদ্র মানুষটি তার পরিশ্রমের টাকা দিয়ে ঐ আঙ্গুরগুলো কিনেছিলো আমাকে খুশি করার জন্য।
সে তার সর্বোচ্চ সাধ্য দিয়ে আমাকে খুশি করতে চেয়েছিলো,
এর বিনিময়ে আমি কী করে তার মনে আঘাত দিই বলো?
দরিদ্র ভাইটিকে আমি দুঃখ দিতে চাই নি।"
দরিদ্র মানুষটির প্রতি নবীজীর আশ্চর্য সুন্দর ব্যবহার দেখে সাহাবীরা মুগ্ধ হয়ে নবীজীর দিকে চেয়ে রইল ।