08/12/2024
তৃতীয় তলার মালিক আল্লাহ তায়ালা !
--------------------------------------
চার তলা ভবনের তিন তলা ভাড়া হবে দেখে মালিকের সাথে কথা বলতে গেলাম। জরুরীভিত্তিতে আমার এক পরিচিত ব্যক্তির জন্য বাসা প্রয়োজন ছিলো।
কাঁচা পাকা চুল দাড়ির লোকটিকে দেখে জিজ্ঞেস করলাম, "আপনি বাড়ির মালিক?"
উনি বললেন, "না।"
জিজ্ঞেস করলাম, "তাহলে মালিক কে?"
তিনি বললেন, এর মালিক আল্লাহ তায়ালা।
আমি একটু অপ্রস্তুত হয়ে বললাম, "সব কিছুর মালিকই তো আল্লাহ। তবু এটা তো তিনি আপনাকে ভোগ করার জন্য দিয়েছেন। এর ভাড়া তো আপনি পাবেন?"
তিনি উত্তর দিলেন-- না বাবা, ভাড়াও আমি পাবো না। আল্লাহ তায়ালাই পাবেন।
আমি এবার একটু চমকালাম। ভালো করে ভদ্রলোকের দিকে তাকালাম। মনে মনে ভাবলাম, "মাথায় কোন গন্ডগোল আছে নাকি!"
তিনি আমাকে বাসার ভেতরে নিয়ে গেলেন। ড্রইংরুমে বসে চা খেতে খেতে বললাম, "আল্লাহ ভাড়া পাবেন--বিষয়টা ঠিক বুঝলাম না আঙ্কেল।"
তিনি বললেন-- আচ্ছা বুঝিয়ে দিচ্ছি। আমার ছয় ছেলেমেয়ে। চার তলা বিল্ডিয়ে ফ্ল্যাট আছে আটটা। ছয় ছেলেমেয়ের জন্য ছয়টা। আমরা বুড়াবুড়ি থাকি একটায়। বাকি একটি ফ্ল্যাট আল্লাহ তায়ালার নামে ওয়াকফ করা হয়েছে। সেটি থেকে যা আয় হবে, তা আল্লাহ তায়ালার পথে খরচ করা হবে। সেভাবেই ডিড করে দিয়েছি।
বললাম--বাহ্ বেশ ভালো তো বিষয়টা! তা তিন তলা আল্লাহ তায়ালা পেলেন কেন? অন্য কোনো ফ্ল্যাট নয় কেন?
জবাব দিলেন-- সব ছেলেমেয়েদের নিয়ে বসে লটারি করেছি। যার ভাগ্যে যে ফ্ল্যাট পড়েছে, সেটা তার হয়েছে। তখন লটারীতে তৃতীয় তলাটি আল্লাহ তায়ালার জন্য নির্ধারিত হয়েছে।
আমি একটু নড়েচড়ে বসলাম। বললাম, "এটা কেন করলেন?"
চাচা বললেন, "বাবা, মনে করুন, আল্লাহ তায়ালা এসে বললেন, আমি তোমার পরিবারের সাথে থাকতে চাই, তাহলে আমি কী করতাম! আমি কী পাগল হয়ে যেতাম না আল্লাহ তায়ালাকে রাখার জন্যে?"
-- নিশ্চয়।
-- সেটাই হয়েছে। আমি বাসা করার সময় আটজনকে পরিবারের সদস্য মনে করেছি। একজন সদস্য মহান আল্লাহ। সেজন্য সবসময় সবকিছুতেই তার জন্য একটা ভাগ রেখেছি।
--সবকিছু বলতে?
--সবকিছু বলতে মনে করুন, যখন চাকুরী করতাম তখন বেতনকে পরিবারের সদস্য দিয়ে ভাগ করতাম। যখন আমাদের প্রথম সন্তান হলো তখন আমরা তিনজন সদস্য হলাম। তিন জনের জন্য যা খরচ হতো, সে অনুপাতে আরেকজনের খরচ বের করে নিতাম। সেটা আল্লাহ তায়ালার পথে ব্যয় করতাম। এরপর যখন সদস্য বেড়েছে, তখন সে অনুপাতে আল্লাহ তায়ালাও ভাগ পেয়েছেন।
আবার আমার আম বাগানের ক্ষেত্রেও তাই। আট ভাগে ভাগ করে কিছু আমগাছ আল্লাহ তায়ালার ভাগে পড়েছে। সেগুলোর আম বিক্রি করা টাকা আল্লাহ তায়ালার পথে খরচ করা হয়।
আমি চাচার কথা শুনে মুগ্ধ হয়ে গেলাম। আমার মনের মধ্যে তোলপাড় হতে লাগলো। একটু আগে যাকে দেখে মানসিক সমস্যার কথা মনে হয়েছিলো, এখন তার প্রতি শ্রদ্ধায় আমার চোখ দিয়ে পানি গড়াতে লাগলো।
ভাবলাম, এই লোকগুলোর আমল কোন্ পর্যায়ের! মহান রব ইনাদের ভেতরে কী অসীম জায়গা করে নিয়েছেন! সুবহানাল্লাহ!!
(সংগৃহীত)