24/04/2026
জাতিসংঘের আদিবাসী ফোরামে দেশবিরোধী বক্তব্য; কাঞ্চনা চাকমাকে গ্রেপ্তারের দাবি।
গত ২০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে জাতিসংঘের স্থায়ী ফোরামের ২৫ তম অধিবেশনে আদিবাসী ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক ফোরামে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী সংগঠন পিসিজেএসএস এর প্রতিনিধি চঞ্চনা চাকমার বক্তব্য বেশ সমলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রতি বছর এই সন্ত্রাসী সংগঠনের প্রতিনিধিগণ জাতিসংঘে গিয়ে রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রপাগান্ডা ছড়িয়ে আসে। এতে দেশরক্ষা বাহিনীর সুনাম ক্ষুন্ন হয় এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়। ২২ এপ্রিল কাঞ্চনা চাকমার বক্তব্য এবছর নতুন করে সমলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তিনি বলেছেন, "সামরিক বাহিনী ও বহিরাগতদের দ্বারা ভূমি দখল, স্থানীয় আদিবাসী জনগোষ্ঠী বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং তাদের ঐতিহ্যবাহী জুম চাষ ব্যাহত হচ্ছে। সীমান্ত সড়ক নির্মাণের সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সম্ভাব্য স্থান অধিগ্রহণ করছে এবং পর্যটন উন্নয়নের পরিকল্পনাও করছে। চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চল থেকে অস্থায়ী সামরিক ক্যাম্প এখনও প্রত্যাহার করা হয়নি এবং তাদের ভূমি কমিশনের মাধ্যমে ভূমি বিরোধগুলোরও নিষ্পত্তি হয়নি"।
একটি দেশের সামরিক বাহিনী সেই দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষার মূল শক্তি। তারা সীমান্ত রক্ষা করে, বাহ্যিক আক্রমণ প্রতিরোধ করে এবং অনেক সময় দেশের ভেতরেও জরুরি পরিস্থিতিতে সহায়তা করে। পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনী এসেছে রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে। যেহেতু এই অঞ্চল ডিপ্লোমেটিক ভাবে গুরুত্ব ও ইউপিডিএফ, পিসিজেএসএস এর মত বিভিন্ন ইন্সার্জেন্সী গোষ্ঠী তৎপর সেহেতু আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের রক্ষার্থে সেনাবাহিনীর প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। কাঞ্চনা চাকমার সংগঠন আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান সন্ত লারমার নেতৃত্বাধীন সংগঠন পিসিজেএসএস(শান্তিবাহিনীর) এর গুলিতে ৩ পার্বত্য জেলায় অসংখ্য সেনাবাহিনী শহীদ হয়েছে৷ হাজার হাজার বাঙালি হত্যা, গণহত্যায় নিহত হয়েছে। ইউপিডিএফ,জেএসএস ও কেএনএফ'র মধ্যে আধিপত্যের লড়াইয়ে নিহত হয়েছে অনেক সাধারণ উপজাতি।
বাঙালি জাতীয়তাবাদকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে, বক্তব্যে কাঞ্চনা চাকমা বাঙালিদের বহিরাগত কিংবা সেটেলার বলে উল্লেখ করেছেন। যার মাধ্যমে তিনি ৭১ স্বাধীনতা ও চেতনায় আঘাত এনেছেন বলে আমি মনে করি। সঠিক রাজাকারদের বিচারের আওতায় আনতে না পারা ছিলো রাষ্ট্রের ব্যার্থতা। যার ফলে রাজাকার ত্রিদিব রায়ের উক্তরসূরিগণ স্বাধীনতার আগ থেকে আজ অব্দি বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতির বিরোধিতা করেই চলেছে। এম এন লারমা পাহাড়ে সন্ত্রাসের জন্ম দিয়েছে। পাহাড়িদের মধ্যে যারাই সন্ত্রাসবাদ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করেছে তারাই এম এন লারমা ও তার ভাই সন্ত লারমার বাহিনীর হাতে হত্যার স্বীকার হয়েছেন। এই দুই ভাই মিলে ১১টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী/জাতির মাথা বিক্রি করে, দেশের রাষ্ট্রীয় সম্পদ ভোগের মাধ্যমে, প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় দীর্ঘ ৩০ বছর আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান থেকে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে আসছে।
আজ জনমনে প্রশ্ন জাগে, ৬১ জেলায় সেনাবাহিনী যদি থাকতে পারে পাহাড়ে কেনো থাকতে পারবে না? যে অঞ্চলে সেনাবাহিনীর বুকে গুলি চলে, সেনাবাহিনীর উপর এম্বুশে আক্রমণ করে পাহাড়ি সন্ত্রাসী বাহিনীরা, যেই অঞ্চলে সেনাবাহিনী সবচাইতে বেশি রক্ত ঝড়িয়েছে, জীবনমান উন্নয়ন করেছে সেই অঞ্চলে 'সেনাবাহিনী থাকতেই হবে' এটা পার্বত্যবাসীর প্রাণের দাবি। কাঞ্চনা চাকমা ও তার দলকে যেসব পশ্চিমা অসুভ শক্তি গ্রাস করেছে, বস্তা পঁচা কমিউনিজমের ফাঁদ ও পাশ্ববর্তী কোনো এক দেশের গোয়েন্দা সংস্থার অর্থায়নে জাতিসংঘে গিয়ে রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রপাগান্ডা ছড়িয়ে আসছে তাদেরকে পার্বত্য চট্টগ্রামবাসী ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে।
উন্নয়ন কার্যক্রমের জন্য যেকোনো সরকারি সংস্থা জমি অধিগ্রহণ করতে পারে। যা বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় হয়ে আসছে। জমি অধিগ্রহণের ফলে ক্ষতিগ্রস্তদের দ্বিগুণ বেশি সুবিধা ও সম্পদ দেয়া হয় পাহাড়ে। এছাড়া পাহাড়ে উন্নয়নকার্যে অধিগ্রহণকৃত জমি বেশিরভাগই খাস জমি। সীমান্ত সড়কের ফলে প্রান্তিক জুম চাষিরা ফসলের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে, পরিবহণ খরচ কমছে ও পঁচনশীল জুমের সবজি ও ফল দ্রুত বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্তে পৌছে যেতে পারছে। অসুস্থ ব্যাক্তিদের আগে পিঠে করে কিংবা বাঁশের সাথে লটকিয়ে আনা হতো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। রাস্তাঘাট উন্নয়নের ফলে গাড়ির মধ্যমে অসুস্থ ব্যাক্তিদের সঠিক সময়ে হাসপাতালে পৌছানো সম্ভব হচ্ছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে অস্ত্র আসার পথে চলতি বছর ধরা পড়েছে বেশ কিছু চালান। জানুয়ারি থেকে মার্চ এই তিন মাসে জব্দ হয়েছে ৫টি বড় চালান। এসব চালানে ছিল একে-৪৭, এম-১৬, গ্রেনেড, গ্রেনেড লঞ্চারসহ বিভিন্ন ধরনের ভারী অস্ত্র ও গোলাবারুদ। অস্ত্রের বড় অংশ আসে থাইল্যান্ড ও মিয়ানমার থেকে, এরপর এগুলো ভারত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করানো হয়। মিয়ানমার থেকে ৩ লাখ টাকার অস্ত্র বাংলাদেশে এনে ৬ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়। বাংলাদেশে অস্ত্র চোরাচালানের সবচেয়ে বড় রুট গুলোর মধ্যে একটি পার্বত্য চট্টগ্রাম সীমান্ত। এসব দূর্গম এরিয়ায় রাস্তা না থাকা দ্রুত অপারেশন ও নজরদারি করা ছিলো কষ্টসাধ্য। যার ফলে সরকার সেনাবাহিনীর মাধ্যমে দীর্ঘ ৩০০ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক করার প্রয়োজন বোধ করে।
তবে দেশদ্রোহী কাঞ্চনা চাকমা ও তার সন্ত্রাসী সংগঠন পিসিজেএসএস(শান্তিবাহিনীর) এসব অবকাঠামোগত উন্নয়নে খুব ভীত। কারণ রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো উন্নয়ন হয়ে গেলে পাহাড়ের আঞ্চলিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী গুলোর অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান বন্ধ হয়ে যাবে। রাষ্ট্রীয় বাহিনী গুলোর টহল বাড়বে। চোরাগুপ্ত হামলা করে অরক্ষিত সীমান্ত দিয়ে মায়ানমার এবং ভারতে পালিয়ে যেতে পারবে না। সাধারণ পাহাড়িদের উপর সন্ত লারমা ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না। নির্ধিদায় ভারত ও মায়ানমারে আশা যাওয়া করতে পারবে না। অন্যদিকে পাশ্ববর্তী দেশগুলো চায় পাহাড়ে কোনো রাস্তাঘাট, উন্নয়ন কার্যক্রম না হোক। এর ফলে তারা এই অঞ্চল অস্থিতিশীল রাখতে পারবে এবং বাংলাদেশের উপর চাপ তৈরি করতে পারবে।
কাঞ্চনা চাকমা হয়ত ভেবেছে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন'ই একমাত্র সমাধান। তবে তিনি হয়ত জানেন না এই চুক্তি বিতর্কিত ধারা গুলো বাস্তবায়ন করতে গেলে পাহাড় হয়ে উঠবে উক্তপ্ত, বাড়বে জাতিগত বিদ্বেস এবং সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়বে। এই চুক্তির বিতর্কিত ধারা বাস্তবায়ন করতে গেলে রক্তাক্ত হবে পাহাড়।
কাঞ্চনা চাকমার বক্তব্যে যে 'ভূমি দখল' বা 'বাস্তুচ্যুতির' অভিযোগ আনা হয়েছে, তা তথ্যের চরম বিকৃতি ছাড়া আর কিছুই নয়। বাস্তবে, পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনী কেবল সীমান্ত রক্ষাই করছে না, বরং তারা সেখানে দীর্ঘদিনের সশস্ত্র বিদ্রোহ এবং চাঁদাবাজির সংস্কৃতির বিপরীতে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরপরাধ রক্ষক হিসেবে কাজ করছে। ৩ পার্বত্য জেলায় অসংখ্য সেনাসদস্যের রক্তে ভেজা এই মাটি আজ যে শান্তির মুখ দেখছে, তা সম্ভব হয়েছে সেনাবাহিনীর কঠোর নজরদারি ও ত্যাগী মনোভাবের কারণে।
অথচ পিসিজেএসএস-এর মতো সংগঠনগুলো, যারা দীর্ঘকাল ধরে সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে সাধারণ পাহাড়ী ও বাঙালিদের রক্ত ঝরিয়েছে, তারা এখন আন্তর্জাতিক লবিংয়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে বিশ্বদরবারে প্রশ্নবিদ্ধ করার হীন প্রচেষ্টায় লিপ্ত। বাঙালিদের 'সেটেলার' বা 'বহিরাগত' হিসেবে চিহ্নিত করার যে প্রবণতা কাঞ্চনা চাকমা দেখিয়েছেন, তা মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং সংবিধানের সরাসরি বিরোধী। ৬৪ জেলার যেকোনো নাগরিক দেশের যেকোনো প্রান্তে বসবাসের অধিকার রাখে। পরিশেষে বলা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য বিচ্ছিন্নতাবাদী এবং রাষ্ট্রবিরোধী প্রপাগান্ডা প্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি