17/05/2026
আমরা সবাই এর ভিতর জেনেছি জুল হিজ্জাহ মাস কতোটা গুরুত্বপূর্ণ। এক কথায় বলা চলে লাইলাতুল ক্বদরের মতোই মূল্যবান। এখানে একটা ব্যাপার লক্ষনীয় লাইলাতুল ক্বদর আমরা রমাদানের শেষ দশকে সন্ধান করে থাকি। নির্দিষ্ট করে বলার সুযোগ নেই কবে লাইলাতুল ক্বদর। আর আল্লাহ তাআ’লা জুল-হিজ্জাহ-এর প্রথম দশকের প্রতিটি দিনকেই মহিমান্বিত করে দিয়েছেন। তাই প্রতিটা দিন আমাদের সর্বচ্চো চেষ্টা থাকবে সর্বোত্তমভাবে কাটানোর। একটা নোটে ছোটো খাটো প্ল্যান করা যায়। যেমনটা রমাদান নিয়ে থাকে। যেমন:
১. জুলহিজ্জাহ-এর প্রথম দশকে ইন শা আল্লাহ প্রতিদিনই আওয়াল ওয়াক্তে সালাত আদায় করা, যারা সালাতের ব্যাপারে উদাসিন উনারা কমপক্ষে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত সময় মতো আদায় করে নেন সেদিকে খেয়াল করা। কিয়ামতের মাঠে সালাতের হিসাব না দিয়ে কেউ ১ চুল পরিমানও নড়তে পারবে না তাই যে যতো ভালো কাজ করুক না কেন ফরয সালাতের ব্যাপারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়া।
২. ফরয পর্দার হুকুম মেনে চলার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়া। প্রতিটা বেপর্দা নারী পুরুষের জন্য মালাইকাগন লানত দিতে থাকেন।
৩. এই ১০ দিনের প্রতিটা দিনই যতোটুকু পারা যায় সাদাকাহ করা। সরাসরি দেয়ার ব্যবস্থা না থাকলে আলাদা একটা বক্সে নিয়্যাত করে রেখে দেয়া। পরে সুযোগ মতো হকদারকে সেটা দিয়ে দেয়া যায়।
৪. প্রতিটা দিনেই বাবা মায়ের খোঁজ নেয়া, সেবা যত্ন আগের চেয়ে বাড়িয়ে দেয়া।
৫. মানুষের মনের অস্থিরতা দূর করে দেয়ার চেষ্টা করা
৬. অসহায় দরিদ্রদের পাশে থাকার চেষ্টা করা। (সেটা শুধু আর্থিকভাবে সহযোগিতা করে না, আর্থিক সামর্থ্য না থাকলে মানসিকভাবে সাপোর্ট দেয়া, সবরের প্রতিদানগুলো রিমাইন্ড করা)
৭. গীবত, মিথ্যা তহমত যেন ভুলেও না হয়ে যায় এবং সেগুলো চিরতরে পরিহার করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়া
৮. সুন্নাহ এবং নফল সালাত (তাহিয়্যাতুল ওযু, সালাতুল ইশরাক, দোহা, জাওয়াল), লাইলাতুল কিয়াম, যিকির নিয়মিত করা এবং আগের চেয়ে বাড়িয়ে দেয়া
৯. প্রতিটা কাজই আল্লাহ তাআ’লার সন্তুষ্টির জন্য করা এবং সুন্দর নিয়্যাতে শুরু করা
১০. কুরআন তিলওয়াত, তরজমা, তাফসীর পড়া শুরু করা বা যারা নিয়মিত যতটুকু পড়েন পরিমানে আরও বাড়িয়ে দেয়া
১১. ছোটো বড় সবাইকে হাদিয়া দেয়ার চেষ্টা করা
১২. কুরবানীর পশু কেনা এবং জবহ করার পুরো ব্যাপারটা যেন সবাই ইখলাসের সাথে করে সেদিকে খুব করে খেয়াল রাখা। বাজারের সেরা গরু কুরবানী করার রিয়া যেন মনে বাসা না বাধে।
১৩. দৈনন্দিন জীবনের কাজগুলো সুন্নাহ তরীকাতে করার ব্যাপারে বাচ্চাদেরও উৎসাহিত করা।
১৪. আরাফার দিবস নিয়ে তর্ক না করে সম্ভব হলে প্রথম ৯ দিন সিয়াম করা, সম্ভব না হলে দুই দিনই সিয়াম করে নেয়া
১৫. যুলহিজ্জাহ এর চাঁদ উঠার পর থেকে নখ চুল না কাটা
১৬. ৮ এবং ৯ যুলহিজ্জ এই দুই দিন নিচের দুয়াটা কাজের ফাকে যতো বেশি পারা যায় পড়ার চেষ্টা করা
لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ
وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ
لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ
وَهُوَ عَلٰى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
উচ্চারণ:
লা ইলাহা ইল্লাল্লহু
ওয়াহদাহু লা শারিকালাহু
লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু
ওয়াহুওয়া আলা কুল্লি শাইয়্যিন ক্বদির। (আরবীটা দেখে মিলিয়ে পড়া অবশ্যকর্তব্য)
১৭. তাকবীরে তাশরীক আদায় করা
জিলহজ্ব মাসের ৯ জিলহজ্ব ফজর থেকে ১৩ জিলহজ্ব আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ সালাত শেষে সালাম ফেরানোর পরপরই কোন প্রকার কথা না বলে একবার তাকবীর বলা ওয়াজিব।
পুরুষের জন্য আওয়াজ করে, আর মহিলাদের জন্য নীরবে নিজে শুনতে পারবে এমন ভাবে বলতে হবে ।।
তাকবীর হলঃ
اَللهُ أَكْبَرُ، اَللهُ أكْبَرُ ، اَللهُ أكْبَرُ
لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ،
وَاللهُ أَكْبَرُ، اَللهُ أَكْبَ
ﻭ ﻟِﻠّﻪ الحَمْدُ
আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার
লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু
আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার
ওয়ালিল্লাহিল হামদ (আরবীটা দেখে মিলিয়ে পড়া অবশ্যকর্তব্য)
১৮. সকাল সন্ধ্যার মাসনুন যিকিরগুলো নিজে করা এবং পরিবারের অন্যান্যদেরকে করার ব্যাপারে তাগিদ দেয়া।
সর্বশেষ আমলগুলো কবুল হওয়ার জন্য আল্লাহ তাআ’লার দরবারে বেশি বেশি ফরিয়াদ করা। মালিক আমাদের পরিচিত অপরিচিত সমস্ত ঈমানদার মাইয়্যাতের কাছে পৌছে দিন আমাদের আমলের সওয়াব। রব্বুল আ’লামিন আমাদের পরিপূর্ন হিদায়াত দান করুন এবং স্থির, প্রশান্ত হৃদয়ে উনার কাছে দুয়া করে যাওয়ার তাওফিক দান করুন। হৃদয়বান মানুষ হওয়ার তাওফিক দান করুন। তাকওয়া, তাওয়াক্বুলে পরিপূর্ন করে দিন আমাদের ক্বলবগুলো।