25/06/2026
গতকাল বিকেলে আমার এক মেয়ে ফ্রেন্ড কল দিয়ে কাঁদতে কাঁদতে জিজ্ঞেস করছিল আর্জেন্ট একটা বাসা খুঁজে দিতে পারব কিনা?
আমি তাকে পাল্টা জিজ্ঞেস করেছিলাম- মাসের শেষের দিকে এমন আর্জেন্ট বাসা লাগবে কেন? এখন যে বাসাতে আছো সেটার কি হয়েছে?
ও অনেকটা মন/ম*/রা হয়েই বলছিল- দুপুরের দিকে বাড়িওয়ালার সাথে সামান্য কথা কা*/টা/কা*/টি হয়েছে। এতেই বাড়িওয়ালা বাসা ছেড়ে দিতে বলেছে।
আমি আবারও পাল্টা জিজ্ঞেস করেছিলাম- হুট করে এভাবে বাসা ছেড়ে দিতে বললো? কি হয়েছে বলো তো। কার দোষই বা ছিল?
পরে কান্নারত কণ্ঠেই বলল- ফ্ল্যাটে কারেন্ট বিল সাধারণত ৪০০ টাকার মতো আসে। কিন্তু বাসায় উঠার আগেই বাড়িওয়ালা এই মিটার দিয়ে ১০০০ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ করে রেখেছে। এই মাস থেকে সেই খরচ করা বিদ্যুতের টাকা আমারদেরকে দিতে বলছে।
সেই টাকার পরিমাণ সামান্য হলেও একটা কথা ছিল। কিন্তু টাকার পরিমাণ অনেক বেশি, ২৪০০ টাকা। এই বিদ্যুৎ আমরা খরচ করিনি।
তবুও ভদ্রতার খাতিরে ৬০০ টাকা দিব বলেছিলাম কিন্তু বাড়িওয়ালা রাজি হয়নি। উল্টো আমাদের সবাইকে ধমকাধমকি করেছে, গা*/লা/গা/লি করেছে।
আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম- উনাকে বুঝানোর চেষ্টা করোনি?
ও বলল- হাতেপায়ে ধরে অনেক বুঝানোর চেষ্টা করেছিলাম। না পেরে পরে বলেছিলাম, আঙ্কেল রুমের জুনিয়র মেয়েগুলোর কলেজের ফার্স্ট ইয়ার ফাইনাল পরীক্ষা চলতেছে। আপনি একটা মাস সময় দিন আমরা সামনের মাসেই বাসা ছেড়ে দিব।
এটাও বলেছিলাম, আপনি তো আমাদের বাবার বয়সীই। আপনার মেয়েরা এমন সিচুয়েশনে থাকলে আপনি কি এটা করতে পারতেন?
কিন্তু উনি আমাকে ধমক দিয়ে বলেছে- এই মেয়ে তুমি বেশি কথা বলো, চুপ থাকো নয়তো মুখ কিন্তু সেলাই করে দিব।
এসব কথা শোনার পরই আমরা সবাই বাসা খোঁজার জন্যে বের হয়েছি। আর এখন তোমাকে কল করেছি।
কথাগুলো বলে ও একদম চুপচাপ ছিল। মোবাইলের এ পাশ থেকে বুঝা যাচ্ছিল ও কা*/ন্না করছে।
মেয়ে হলেও ও অনেকটা শক্ত মনের মানুষ, সহজে ভেঙে পড়ে না। কিন্তু বাড়িওয়ালা যে খুব বেশি বাজে ব্যবহার করেছে সেটা বুঝতে পারছিলাম তার কা*/ন্না শুনেই।
ও আমাকে কল করার পরপরই গতকাল সন্ধ্যায় পরিচিত কয়েকজনের কাছে খোঁজ নিয়েছিলাম বাসা ভাড়া দিবে কিনা। কিন্তু মাসের শেষের দিক হওয়ায় তেমন কেউই দিতে রাজি হয়নি।
গতকাল রাত আটটার দিকে ও আরেকবার কল করে জিজ্ঞেস করছিল কোন বাসা খুঁজে পেয়েছি কিনা?
সে যে অনেক বড় ঝামেলাতে আছে বুঝতে পারছিলাম। এতগুলো জুনিয়র মেয়েকে নিয়ে ,এত এত আসবাবপত্র নিয়ে হুট করে কোথায়ই বা উঠা যায়?
ওকে বলেছিলাম একটা দিন সময় দিতে। এরমধ্যে একটা না একটা ব্যবস্থা করে দিব।
এরপর গতকাল রাতে আমি আমার কাজের ব্যস্ততার মধ্যে ছিলাম। লেখালেখির কাজের প্রেসার বেশি থাকায় রাত জাগতে হচ্ছিল।
রাত আনুমানিক দুইটা চল্লিশের দিকে ও আবারও কল করল। ভেবেছিলাম কোন বাসার খোঁজ পেয়েছি কিনা সেটাই জিজ্ঞেস করবে।
কিন্তু ও কল করে ঠান্ডা গলায় বলল- একটু আগে বাড়িওয়ালা মা*/রা গেছে।
তার এই কথাটা শুনে আমি ঠিকমতো প্রসেসই করতে পারছিলাম না। মনে মনে ভীষণ একটা ধাক্কাও খেলাম। ও কথাটা বলে কিছুক্ষণ চুপ করে ছিল। হয়তো ওরও বিশ্বাস করতে ক*/ষ্ট হয়েছে প্রথমে।
তাকে জিজ্ঞেস করলাম- কিভাবে কি হলো?
ও জানাল- রাত ১ টার দিকে বাড়িওয়ালার প্রেসার বেড়ে যাওয়ায় উনার বাসার সবাই ধরাধরি করে হসপিটালে নিয়ে যায়। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মাঝরাস্তাতে মা*/রা যায় উনি। সম্ভবত স্ট্রোক করেছিল।
ওর সাথে এটুকু কথা হওয়ার পর আমি আর কোন কাজে মন বসাতে পারছিলাম না। পুরো ঘটনাটা নিয়ে মনে মনে ভাবছিলাম শুধু।
আজকে দুপুরে বাড়িওয়ালার জানাযা হয়েছে। জানাযার নামাজের আগেই উনার সব ছেলেমেয়েরা এসে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছিল কে কোন ফ্ল্যাটটা নিবে, কোন জমিটা নিবে।
এই খবরটাও একটু আগে আমার ফ্রেন্ডই জানাল। সাথে এটাও জানাল ওরা নিজেরা নিজেরাই পাশের গলিতে দুইটা বাসা দেখেছে।
এরমধ্যে একটা মোটামুটি পছন্দ হয়েছে। ভাড়াও কমই। কথা ফাইনাল করেই ১ তারিখ থেকে উঠে পড়বে।
ওকে আমিই নিজ থেকে জিজ্ঞেস করলাম- বাড়িওয়ালার উপর তোমার এখনো রাগ আছে?
সে তেমন কিছু বলেনি।
শুধু বলেছে- মৃ*/ত মানুষের উপর রাগ করে থাকা ঠিক না।
আমি শুধু বাড়িওয়ালার কথাটা ভাবছিলাম। উনার বাসাটার ডিমান্ড আছে, চাইলেই যেকোন সময় ভাড়াটিয়া উঠাতে পারবে এজন্যে ছোট ছোট মেয়েগুলোকে পরীক্ষার সময়ও জোর করে বাসা থেকে বের করে দিতে চেয়েছিল।
অথচ যেই বাড়ি নিয়ে গতকাল দুপুরে এতটা দম্ভ দেখিয়েছিল, মেয়েগুলোর আকুতি মিনতি না শুনে গা/লা/গা/লি করেছিল সেই বাড়িতেই আজকে দুপুরে উনি লা*/শ হয়ে পরে আছে।
এখন উনাকে কেউ আর সম্মান দিয়ে বাড়িওয়ালাও বলছে না, বলছে বাড়িওয়ালার লা*শ পরে আছে
✍️_ Ibrahim Khalil Shawon টাইমলাইন থেকে নেওয়া।