22/11/2025
বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (BNBC) ২০২০ এবং ভূতাত্ত্বিক জরিপ অনুসারে বাংলাদেশকে ভূমিকম্পের ঝুঁকির মাত্রার ওপর ভিত্তি করে মূলত চারটি জোনে (Zone) ভাগ করা হয়েছে। নিচে বাংলাদেশের ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকাগুলো নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন তুলে ধরা হলো:
প্রতিবেদন: বাংলাদেশে ভূমিকম্পের ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলসমূহ
বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে তিনটি টেকটোনিক প্লেটের (ইন্ডিয়ান, ইউরেশিয়ান এবং বার্মিজ প্লেট) সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় এটি ভূমিকম্পের প্রবল ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। রিখটার স্কেলে বড় মাত্রার ভূমিকম্পের সম্ভাবনা বিবেচনায় দেশকে নিম্নোক্তভাবে ভাগ করা হয়েছে:
১. অতি প্রবল ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল (Danger Zone / Zone-4)
এই অঞ্চলগুলো ভূতাত্ত্বিক চ্যুতির (Fault Line) খুব কাছাকাছি অবস্থিত, বিশেষ করে 'ডাউকি ফল্ট'-এর নিকটবর্তী। এখানে ৭ থেকে ৮ বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্প হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্তর্ভুক্ত জেলাসমূহ: সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, শেরপুর, কুড়িগ্রাম এবং সিলেটের সীমান্তবর্তী পার্বত্য এলাকা।
ঝুঁকির কারণ: ইন্ডিয়ান প্লেট ও ইউরেশিয়ান প্লেটের সংঘর্ষ এবং ডাউকি ফল্টের অবস্থান।
২. উচ্চ থেকে মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল (High to Moderate Risk / Zone-3)
এই অঞ্চলগুলো অতি ঝুঁকিপূর্ণ জোনের ঠিক পরেই অবস্থিত। এখানেও বড় মাত্রার ভূমিকম্পের যথেষ্ট আশঙ্কা রয়েছে।
অন্তর্ভুক্ত জেলাসমূহ: রংপুর, দিনাজপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
৩. মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল (Moderate Risk / Zone-2)
দেশের রাজধানীসহ মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের বড় একটি অংশ এই জোনের অন্তর্ভুক্ত। যদিও এটি ভূতাত্ত্বিকভাবে মাঝারি ঝুঁকিতে, তবে অতিরিক্ত জনসংখ্যা এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি এখানে সবচেয়ে বেশি হতে পারে।
অন্তর্ভুক্ত জেলাসমূহ: ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, কুমিল্লা, টাঙ্গাইল, চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং কক্সবাজার।
ঢাকার অবস্থা: ঢাকা ভূতাত্ত্বিকভাবে 'জোন-২' এ পড়লেও, অপরিকল্পিত ভবন এবং নরম মাটির কারণে বড় ভূমিকম্পে এখানে ব্যাপক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হয় (লিকুইফেকশন বা মাটি তরলীকরণের ঝুঁকি)।
কুমিল্লা: আপনি ছবির জন্য যে কুমিল্লা বিভাগের কথা বলেছিলেন, সেটিও এই মাঝারি থেকে উচ্চ ঝুঁকির বলয়ে পড়ে, কারণ এটি ভারতের ত্রিপুরা ও মিজোরামের ফল্ট লাইনের কাছাকাছি।
৪. কম ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল (Low Risk / Zone-1)
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল তুলনামূলকভাবে ভূমিকম্পের কম ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে একদম নিরাপদ নয়।
অন্তর্ভুক্ত জেলাসমূহ: খুলনা, যশোর, বরিশাল, পটুয়াখালী, ফরিদপুর এবং সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকা।
সারসংক্ষেপ ও পর্যবেক্ষণ:
১. সিলেট ও উত্তরবঙ্গ (রংপুর-ময়মনসিংহ): ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল বা এপিসেন্টার হওয়ার সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা এই অঞ্চলগুলোতে।
২. ঢাকা ও চট্টগ্রাম: জনসংখ্যার ঘনত্ব ও বহুতল ভবনের কারণে মানবিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি এখানে সর্বোচ্চ।
৩. প্রস্তুতি: ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয়, তাই 'ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড' মেনে ভবন নির্মাণ করাই বাঁচার একমাত্র উপায়।
এই বিভাজনটি ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর এবং আন্তর্জাতিক গবেষকদের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে ।
তথ্য সংগ্রহে Comilla Division-কুমিল্লা বিভাগ
#কুমিল্লা_বিভাগ
সতর্কতার জন্য শেয়ার করুন