04/06/2024
السلام عليكم ورحمة الله
বাঙালির দুরারোগ্য অসুখের নাম হলো হিংসা ।
হিংসা কারো ক্ষতি করতে পারে না, নিজের ছাড়া ।
অন্যের ভালো কিছু দেখে হিংসায় কাতর হয়ে সেটা ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কামনা করা। হিংসাকে আরবিতে ‘হাসাদ’ বলে।
হিংসা আত্মার রোগ ।
ইসলাম অন্যের প্রতি হিংসা করাকে সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করেছে।
الإمام الصادق (ع) : إياکُم أن يحسُدَ بعضکم بعضاً؛ فإنَّ الکفرَ أصله الحسد.
ইমাম সাদিক (আঃ) বলেছেন : ‘একে অপরের সাথে হিংসা করা থেকে বিরত থাকো, কেননা হিংসা হল কুফরের ভিত্তি স্বরূপ'। (আল কাফী, খণ্ড ৮, পৃ. ৮, হাদীস নং ১)
হিংসা অন্ধ এবং সে অন্যের গুন গুলো কখনই দেখে না ।
🪻 হিংসুকের চিহ্নসমূহ :
الإمام الصادق (ع) : قال لُقمان (ع) لابنه: و للحاسد ثلاثُ علاماتٍ: يغتبُ إذا غابَ وَ يَتملّقُ إذا شهَدَ وَ يَشمَتُ بَالمُصيبةِ.
হযরত লোকমান (আঃ) স্বীয় পুত্রকে বললেন : ‘হিংসুকের তিনটি চিহ্ন রয়েছে : পিঠ-পিছনে গীবতকরে, সামনা সামনি তোষামোদ করে এবং অন্যের বিপদে আনন্দিত হয়।' (আল খেসাল, পৃষ্ঠা ১২১, হাদীস নং ১১৩)
◾হিংসা ও ঈর্ষার মধ্যে লক্ষণীয় পার্থক্য রয়েছে যদিও এটা আপাতদৃষ্টিতে একই মনে হয়।
আপনি একই সাথে হিংসুক ও সুখী হতে পারবেন না ।
🔹ভয়াবহ পরিণতি:
আল্লাহর বিশেষ ক্ষমা লাভ থেকে বঞ্চিত হতে হয়।
নবী করিম (সা.) সাবধানবাণী উচ্চারণ করেছেন, ‘তোমরা হিংসা-বিদ্বেষ থেকে নিবৃত্ত থাকবে। কেননা, হিংসা মানুষের নেক আমল বা পুণ্যগুলো এমনভাবে খেয়ে ফেলে, যেভাবে আগুন লাকড়িকে জ্বালিয়ে নিঃশেষ করে দেয়।’ (আবু দাউদ)।
الإمام باقر (ع) : إنّ الحسد يأکل الإيمان کما تأکل النار الحطب
ইমাম বাকির (আঃ) বলেছেন : ‘নিশ্চয়ই যেভাবে আগুন কাঠকে ভক্ষণ করে [জ্বালিয়ে নিঃশ্বেষ করে], হিংসাও ঈমানকে ভক্ষণ করে'। (আল কাফী, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩০৬, হাদীস নং ১
সাবধান ! তোমরা হিংসা করা থেকে আত্মরক্ষা করো ।
— আবু দাউদ
ভয়াবহ পরিণতি থেকে
বাঁচতে হলে এগুলি পরিহার করতে হবে।
▪️এজন্য সাধ্যমত সর্বদা নিজের দ্বীনী বা দুনিয়াবী প্রয়োজন বা আল্লাহর যিকর ও নিজের পাপের চিন্তায় নিজেকে রত রাখুন। হৃদয় পবিত্র থাকবে এবং আপনি লাভবান হবেন।
আল্লাহ আমাদের তাওফীক প্রদান করুন।🤲 আমিন।