Youth Peace Foundation

Youth Peace Foundation জীবনে প্রগতির আশা নিজেকে ভয়,
সন্দেহ থেকে দূরে রাখে এবং তার
সমাধানের প্রয়াস চালাতে থাকে।

08/09/2026

৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় “মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা” প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

28/08/2026
   #    ाके
27/08/2026

# ाके

আমি পঁচিশ বছর ধরে কুরিয়ার সার্ভিসে কাজ করি। চিঠি, পার্সেল, কাগজপত্র, নোটিশ, সব পৌঁছে দিই। আগে চিঠি বেশি আসতো। এখন আসে ব...
22/08/2026

আমি পঁচিশ বছর ধরে কুরিয়ার সার্ভিসে কাজ করি। চিঠি, পার্সেল, কাগজপত্র, নোটিশ, সব পৌঁছে দিই। আগে চিঠি বেশি আসতো। এখন আসে ব্যাংকের কাগজ, চাকরির কাগজ, আদালতের নোটিশ, অনলাইন অর্ডারের বাক্স।

আমার নাম কামাল। ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, কলাবাগান, হাজারীবাগ, এই এলাকাগুলোতে আমার রুট। প্রতিদিন একটা ব্যাগ কাঁধে নিয়ে ঘুরি। বৃষ্টি হলে ভিজি। রোদ হলে পুড়ি। শীত হলে কাঁপি। কাজটা ভালো লাগে না। তবু ছাড়িনি।

আমাদের অফিসে একটা নিয়ম আছে। ঠিকানা ভুল হলে তিনবার চেষ্টা করতে হয়। তারপর লেখা হয়-

"প্রাপককে পাওয়া যায়নি।"

এই তিনটা শব্দ আমি জীবনে অসংখ্যবার লিখেছি। কিন্তু একদিন একটা খামের উপর এই তিনটা শব্দ লিখতে গিয়ে আমার হাত থেমে গিয়েছিল। খামের উপর লেখা ছিল-

প্রেরক: আবদুল হালিম
প্রাপক: রাশেদ হালিম
বাড়ি: ১৭/বি, লালমাটিয়া, ঢাকা।
নিচে ছোট করে লেখা-
জরুরি। ব্যক্তিগত।

অর্থাৎ, আবদুল হালিম নামে এক বয়স্ক বাবা তাঁর ছেলে রাশেদ হালিমের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। কিন্তু মজার বিষয় হলো, প্রেরক ও প্রাপক দুজনেরই ঠিকানা একই দেয়া-
১৭/বি, লালমাটিয়া, ঢাকা। মানে বাবা তাঁর নিজের বাড়ির ঠিকানাতেই ছেলের নামে চিঠি পোস্ট করেছেন!

আমি ঠিকানায় গিয়ে দেখি, ১৭/বি বলে কোনো বাড়িই নেই।
১৭ আছে।
১৭/এ আছে।
১৭/সি আছে।
কিন্তু ১৭/বি নেই।

পাশের দোকানের লোককে জিজ্ঞেস করলাম। লোকটা বললো, "আগে ছিল।"
"এখন?"
"ভেঙে ফ্ল্যাট হইছে।"
"হালিম সাহেব?"
লোকটা কাঁধ ঝাঁকালো, "চিনি না।"

আমি পাশের চায়ের দোকানে গেলাম। চা-ওয়ালা বললো, "আবদুল হালিম নামে একজন ছিল।"
"কোথায় গেছে?"
"মারা গেছে।"
"কবে?"
"অনেক বছর।"

আমি অফিসে ফিরে খামটা "প্রাপককে পাওয়া যায়নি" লিখে জমা দিতে পারতাম। দিইনি। পরদিন আবার গেলাম। ১৭ নম্বর বাড়ির পুরোনো দারোয়ানকে পেলাম। বয়স অনেক। নাম গফুর। আমি খামের নামটা বলতেই লোকটা আমার দিকে তাকিয়ে বললো,

"আপনি আবদুল হালিম সাহেবের ছেলের লোক?"
"না। কুরিয়ার।''
লোকটা বললো, "আবদুল হালিম সাহেব তো নাই।"
আমি জিজ্ঞেস করলাম, "তার ছেলে কোথায়?"
"বিদেশে।"
"কোন দেশে?"
"কানাডা।"
"যোগাযোগ নেই?"
"না।"

আমি জিজ্ঞেস করলাম, "কেন?"
লোকটা বললো, "বাপ ছেলের ঝামেলা।"

এই কথাটা বাংলাদেশের মানুষের খুব প্রিয়। সবকিছুর ব্যাখ্যা এক কথায় হয়ে যায়, "ঝামেলা ছিল।"

আমি বললাম, "কী ঝামেলা?"
লোকটা বললো, "সেইটা আমি জানি না।"
তারপর একটু থেমে বললো, "তবে শেষের দিকে আবদুল হালিম সাহেব প্রতিদিন বিকেলে গেটের সামনে বসে থাকতেন।"
"কেন?"
"ছেলের জন্য।"
"ছেলে আসতো?"
"না।"

আমি চুপ করে গেলাম।

কানাডায় ছেলেটার নাম ছিল রাশেদ হালিম। ফেসবুকে খুঁজলাম। পেলাম না। লিংকডইনে পেলাম একজনকে। নাম মিলে যায়। ঢাকায় জন্ম। কানাডায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। বয়সও মিলে। আমি তার প্রোফাইলের ছবি দেখলাম। একজন হাসিখুশি মানুষ। বউ। দুইটা বাচ্চা। বরফের মধ্যে দাঁড়িয়ে ছবি। ক্যাপশনে লেখা-

"Home is where your people are."

আমি অনেকক্ষণ ঐ কথাটার দিকে তাকিয়ে ছিলাম। হোম ইজ হোয়্যার ইয়োর পিপল আর। মানুষ কত সহজে ইংরেজিতে এমন কথা লিখে ফেলে। নিজের ভাষায় বলতে গেলে বুক কাঁপে।

আমি তাকে মেসেজ পাঠালাম, "আপনার নামে একটা চিঠি এসেছে।"

কোনো উত্তর নেই।

দুই দিন পর উত্তর এলো, "Who are you?"
আমি বললাম, "আমি কুরিয়ার সার্ভিসে কাজ করি। আপনার বাবা একটা চিঠি পোস্ট করেছে।"
সে লিখলো, "My father died years ago."
আমি বললাম, "চিঠিটা আপনার জন্যই।"

অনেকক্ষণ কোনো উত্তর নেই।
তারপর লিখলো, "Don't contact me again."

আমি চুপ করে গেলাম। চিঠিটা আমার ড্রয়ারে রয়ে গেল।
তারপর এক সপ্তাহ। দুই সপ্তাহ। এক মাস। আমি চিঠিটা অফিসে জমা দিইনি।

একদিন সন্ধ্যায় রাশেদের কাছ থেকে মেসেজ এলো, "What does the letter say?"
আমি বললাম, "আমি খুলি নাই।"
সে আবার লিখলো, "Can you send me a picture?"

আমি খামের ছবি পাঠালাম।
সে অনেকক্ষণ কোনো উত্তর দিলো না।

তারপর লিখলো, "That's my father's handwriting."
আমি বললাম, "আপনি চিঠিটা চান?"
অনেকক্ষণ পর উত্তর এলো, "Yes."
আমি বললাম, "ঠিকানা দেন।"

সে ঠিকানা দিল। সেদিনই আমি চিঠিটা পাঠিয়ে দিলাম। কাজ শেষ। ভাবলাম, এবার আমার দায়িত্ব শেষ। তিন দিন পর একটা ফোন এলো। বিদেশি নম্বর। আমি ধরলাম। ওপাশ থেকে একটা পুরুষের গলা।

"আপনি কামাল?"
"জি।"
"আমি রাশেদ।"
"জি।"
"চিঠিটা পেয়েছি।"

আমি চুপ করে থাকলাম।

সে বললো, "আপনি কি জানেন, আমার বাবা মারা যাওয়ার আগে শেষবার আমাকে কী বলেছিলেন?"
"না।"
"বলেছিলেন, তুই যদি কোনোদিন ফিরে আসিস, আমার কাছে আসিস না।"

আমি কিছু বললাম না।

সে বললো, "আমি আর ফিরিনি।"

তারপর দীর্ঘ নীরবতা।

"চিঠিতে কী ছিল জানেন?"
"না।"

সে হাসলো।

তারপর বললো, "আমার বাবা কখনো কাউকে চিঠি লিখতেন না।"

আমি অবাক হলাম।

বললাম, "কিন্তু এটা তো আপনার বাবার হাতের লেখা।"
"হ্যাঁ।"
"তাহলে?"
"তিনি লিখেছিলেন। কিন্তু পাঠাননি।"

আমি বুঝলাম না।

রাশেদ বললো, "চিঠিটা তিনি নিজের আলমারিতে রেখে গিয়েছিলেন।"
"কীভাবে পোস্ট হলো?"
"তার বাড়ি বিক্রি করার পর নতুন মালিক পুরোনো আলমারির কাগজপত্রের মধ্যে খামটা পেয়েছিলেন। হয়তো ভেবেছেন পোস্ট করা হয়নি, তাই দয়ায় পড়ে ডাকবাক্সে ফেলে দিয়েছেন।"
আমি বললাম, "চিঠিতে কী ছিল?"
রাশেদ কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললো, "একটা মাত্র বাক্য।"
"কী?"

"আমি ভুল করেছিলাম।"

আমি বললাম, "এইটুকু?"
"হ্যাঁ।"
"আর কিছু?"
"না।"

আমি বললাম, "তাহলে আপনি কাঁদছেন কেন?"
রাশেদ কান্না থামিয়ে বললো, "আমি ভেবেছিলাম, বাবারা কখনো ভুল করে না।"

আমি জানি না কেন, কথাটা শুনে আমার নিজের বাবার কথা মনে পড়লো। আমার বাবা ছিলেন রাগী মানুষ। আমি ছোটবেলায় একবার স্কুল থেকে পালিয়ে সিনেমা দেখতে গিয়েছিলাম। বাবা জানতে পেরে আমাকে এমন মেরেছিলেন যে তিনদিন স্কুলে যেতে পারিনি। তারপর আমি ঠিক করেছিলাম, কোনোদিন বাবার সঙ্গে কথা বলবো না।

দুদিন পরই বাবা মারা গেলেন। আমার রাগটা রয়ে গেল। বাবা রইলেন না। মানুষের রাগেরও একটা সমস্যা আছে। যার ওপর রাগ করা হয়, সে না থাকলেও রাগটা থেকে যায়। তারপর একদিন সেই রাগের কোনো ঠিকানা থাকে না।

রাশেদ বলল, "কামাল ভাই?"
"জি?''
"আপনি কি একটা কাজ করবেন?"
"কী?"
"আমার বাবার কবরটা খুঁজে দিতে পারবেন?"
আমি বললাম, "পারবো।"
"কেন জানি না, আমি যেতে চাই।"
"আসবেন?"
"হ্যাঁ।"

তিন মাস পর রাশেদ ঢাকায় এলো। আমি তাকে বিমানবন্দর থেকে নিতে যাইনি। কিন্তু সে নিজেই আমাকে ফোন করলে।

"কামাল ভাই, আমি ঢাকায়।"
"কোথায়?"
"পুরোনো বাসার সামনে।"

আমি গেলাম। সে গাড়ি থেকে নামলো। আমি প্রথমে চিনতেই পারিনি। ছবির চেয়ে মানুষ বাস্তবে অন্যরকম।

সে আমাকে দেখে বললো, "আপনিই কামাল?"
"জি।"

সে হাত বাড়ালো। আমি হাত ধরলাম। তার হাত কাঁপছিল। আমরা একসঙ্গে কবরস্থানে গেলাম। তার বাবার কবর খুঁজে পেলাম। রাশেদ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল। তারপর বসে পড়লো।

কোনো দোয়া পড়লো না। কিছু বললো না। শুধু মাটির উপর হাত রাখলো।

অনেকক্ষণ পর বললো, "বাবা, আমি এসেছি।"

আমি একটু দূরে দাঁড়িয়ে ছিলাম।

সে আবার বললো, "তুমি বলেছিলে, আসিস না।''

চুপ

''আমি আসিনি।''

চুপ

''তুমি ভুল করেছিলে।"

চুপ

"আমিও ভুল করেছিলাম বাবা।"

আমি আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারলাম না। দূরে সরে গেলাম।
মানুষের কিছু কথার সাক্ষী হওয়া উচিত না। কিছু কথা মৃত মানুষের আর জীবিত মানুষের মাঝেই থাকা ভালো।

ফেরার সময় রাশেদ আমাকে বললো, "কামাল ভাই, আপনি না থাকলে আমি আসতাম না।"
আমি বললাম, "আমি তো শুধু চিঠি পৌঁছাইছি।"
সে বললো, "না।"
"তাহলে?"
"আপনি আমার কাছে একটা ঠিকানা পৌঁছে দিয়েছেন।"
আমি হেসে বললাম, "কবরের ঠিকানা?"
সে মাথা নাড়লো, "না।"
"তাহলে?"
সে বললো, "বাবার কাছে যাওয়ার ঠিকানা।"

আমি কিছু বললাম না। অফিসে গিয়ে আমার ছেলেকে ফোন করলাম। সে ধরলো না। আবার করলাম। ধরলো।

বললো, "কী হয়েছে?"
আমি বললাম, "কিছু না।"
"তাহলে ফোন করছো কেন?"
আমি বললাম, "তুই কেমন আছিস?"
সে বললো, "ভালো।"
আমি বললাম, "তোর সঙ্গে আমার কোনোদিন খুব বেশি রাগারাগি হয়েছে?"
ওপাশে সে হাসলো, "আপনার তো প্রতিদিনই রাগারাগি হয়।"
আমি বললাম, "আমি যদি কোনোদিন ভুল করে থাকি?"

সে চুপ করে গেল।

আমি বললাম, "তাহলে আমাকে বলিস।"
"কেন?"
"যাতে আমি ঠিক করতে পারি।"
সে কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললো, "আব্বা, আপনি ঠিক আছেন তো?''
"হ্যাঁ।"
"কিছু খাইছেন?"
"না।"
"খেয়ে ঘুমান।"

ফোন কেটে গেল।

আমি অনেকক্ষণ ফোনটার দিকে তাকিয়ে রইলাম। তারপর ড্রয়ার খুললাম। রাশেদের বাবার চিঠির একটা ফটোকপি সেখানে রেখেছিলাম। মাত্র এক লাইন।

''আমি ভুল করেছিলাম।''

আমি কাগজটা হাতে নিয়ে ভাবলাম, মানুষ পৃথিবীতে কত কিছু লিখে। উপন্যাস। কবিতা। ইতিহাস। আইন। প্রেমপত্র। ক্ষমাপত্র। কিন্তু জীবনের সবচেয়ে কঠিন চিঠিটা সম্ভবত এই তিনটা শব্দের, আমি ভুল করেছিলাম। এই তিনটা শব্দ বলতে একজন বাবার পঁচাত্তর বছর লাগে। একজন ছেলের ত্রিশ বছর। কখনো কখনো পুরো একটা জীবন।

পরদিন অফিসে গিয়ে টেবিলে এক পুরোনো পার্সেল পড়ে থাকতে দেখলাম। প্রাপক মৃত, প্রেরকের খোঁজ নেই। ফেরত যাওয়ার অপেক্ষায় ধুলো জমছে খামের উপর। আমি কিছুক্ষণ সেটার দিকে তাকিয়ে রইলাম। মনে হলো, পৃথিবীতে কত অভিমান, কত অসম্পূর্ণ কথা এভাবেই কোনো না কোনো টেবিলে ঠিকানাহীন হয়ে জমা পড়ে থাকে।

অফিসে ভালো লাগলো না। আমি বাড়ি ফিরে এলাম।

আমার ছেলে তখন ঘরে বসে ফোন দেখছিল। আমি তার পাশে গিয়ে বসলাম। সে তাকালো।

আমি বললাম, "তোর সাথে আমার একটা কথা ছিল।"
সে অবাক হয়ে বললো, "কী কথা?"

আমি ড্রয়ার থেকে রাশেদের বাবার চিঠির ফটোকপিটা বের করে তার সামনে রাখলাম।

সে খামটার দিকে, তারপর আমার দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইল।
তারপর হঠাৎ উঠে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরলো।

অনেক বছর পর। খুব অল্প সময়ের জন্য। কিন্তু যথেষ্ট। আমি তার পিঠে হাত রাখলাম। কিছু বললাম না। আমার মনে হলো, সেদিন যদি রাশেদের বাবার চিঠিটা পৌঁছে না দিতাম, তাহলে হয়তো আমার ছেলেকে আমি এই কথাগুলো কোনোদিন বলতাম না।

আমি এখনও কুরিয়ারে কাজ করি। এখনও ভুল ঠিকানার পার্সেল আসে। এখনো অফিসে তিনটা শব্দ লেখা হয়,

"প্রাপককে পাওয়া যায়নি।"

কিন্তু আমি আর আগের মতো সহজে লিখতে পারি না। কারণ আমি জানি, কখনো কখনো মানুষ ঠিকানায় থাকে না। অভিমানে থাকে। দূরত্বে থাকে। ভুল বোঝাবুঝিতে থাকে। কখনো বিদেশে থাকে। কখনো কবরের নিচে। আর কখনো, একই বাড়িতে থেকেও একটা দরজার ওপাশে থাকে। তাই কোনো চিঠি হাতে নিয়ে যদি মনে হয়, "লোকটা তো নেই।" আমি একটু অপেক্ষা করি। কারণ ঠিকানাটা ভুল হতে পারে। কিন্তু চিঠিটা নয়। চিঠি সাধারণত ঠিক মানুষটার কাছেই যেতে চায়। শুধু পৌঁছাতে কখনো কখনো একজন কামালের দরকার হয়!

Sohel R Rana

বিজ্ঞানী ড. মোবারক আহমদ খান দীর্ঘ গবেষণার পর ২০১৬ সালে পাট থেকে পলিথিনের বিকল্প এই "সোনালী ব্যাগ" আবিষ্কার করেন।পলিথিনের...
19/08/2026

বিজ্ঞানী ড. মোবারক আহমদ খান দীর্ঘ গবেষণার পর ২০১৬ সালে পাট থেকে পলিথিনের বিকল্প এই "সোনালী ব্যাগ" আবিষ্কার করেন।
পলিথিনের বিকল্প হিসেবে পাটের তৈরি এই ব্যাগটি মাটিতে ফেললে মাত্র ২-৩ মাসে পচে যায়, আর পানিতে ফেললে হয়ে যায় মাছের খাবার!

পরিবেশ রক্ষায় এটি হতে পারত পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অস্ত্র। কিন্তু অত্যন্ত আফসোসের বিষয়, এক দশকেরও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও সঠিক পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে এই ব্যাগটি এখনও সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছায়নি, বাজারে এর কোনো সহজলভ্যতা নেই। আমাদের চোখের সামনে পলিথিনে দেশ প্লাবিত হচ্ছে, অথচ ঘরের এত বড় সমাধান আলোর মুখ দেখছে না। জাতি হিসেবে এর চেয়ে বড় হতাশা আর কী হতে পারে!

বর্তমান সরকারের কাছে আকুল আবেদন, দ্রুত এই পরিবেশবান্ধব সোনালী ব্যাগের বাণিজ্যিক উৎপাদন নিশ্চিত করে বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা করা হোক।

Collect from - তথ্যলিপি

11/08/2026

খাদ্য কেনার আগে লেবেল, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের নাম ও ঠিকানা এবং মোড়কের অক্ষত অবস্থা যাচাই করুন। নিরাপদ খাদ্য ক্রয়ে সচেতন হোন-বিএফএসএ

প্রশান্তির জায়গা
26/07/2026

প্রশান্তির জায়গা

22/07/2026

“টেলিকম সেবা সম্পর্কিত প্রশ্ন ও মতামত” শীর্ষক গণশুনানিতে অংশগ্রহণের জন্য আগামী ২৬/০৭/২০২৬ তারিখের মধ্যে
http://btrc.convay.com/publichearing
ওয়েব লিংকের মাধ্যমে নিবন্ধন করুন। -বিটিআরসি

দৃশ্যটা আপনি রোজ দেখেন। সিগন্যালে দাঁড়ানো একটা সাইকেল, পিঠে কোম্পানির রঙের চৌকো ব্যাগ, ঘামে ভেজা একটা তরুণ মুখ। বৃষ্টি ...
16/07/2026

দৃশ্যটা আপনি রোজ দেখেন। সিগন্যালে দাঁড়ানো একটা সাইকেল, পিঠে কোম্পানির রঙের চৌকো ব্যাগ, ঘামে ভেজা একটা তরুণ মুখ। বৃষ্টি হলে সে ভেজে, রোদ হলে পোড়ে, আর অ্যাপে অর্ডার আসলে ছোটে।

এখন একটা সহজ প্রশ্ন, এই ছেলেটার চাকরিদাতা কে?

কোম্পানির রঙ সে বহন করছে, কোম্পানির ব্যাগ তার পিঠে, কোম্পানির অ্যাপ তার ফোনে, কোম্পানির নির্দেশে সে শহরের এক মাথা থেকে আরেক মাথায় ছোটে। অথচ গত বিশ বছর ধরে এই প্রশ্নের আইনি উত্তর ছিল, কেউ না।

কাগজে সে ছিল ‘রাইডার’, ‘পার্টনার’, ‘ফ্রিল্যান্সার, সবকিছু, শুধু শ্রমিক না। আর যেহেতু শ্রমিক না, ফলে নিয়োগপত্র নাই, ন্যূনতম মজুরি নাই, ছুটি নাই, দুর্ঘটনার দায় নাই, ছাঁটাইয়ের নোটিশ নাই।

কয়েক মাস আগে উত্তরটা বদলেছে। শ্রম আইনে ঢুকেছে নতুন শব্দ। কিন্তু কীভাবে ঢুকেছে, সেই গল্পটা বোঝা দরকার। কারণ গল্পটা এখনও ঝাপসা। অর্ধেক।

➖

বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬, শ্রমিকের অধিকারের মূল দলিল। সেখানে শ্রমিকের যেই সংজ্ঞা, সেটা লেখা হয়েছিল এমন এক পৃথিবীতে যেখানে কারখানা আছে, মালিক আছে, নিয়োগ আছে। অ্যাপ বলে কিছু নাই।

প্ল্যাটফর্মগুলি এই ফাঁকটাকেই ব্যবসার ভিত বানিয়েছিল। তারা বলতো, আমরা তো নিয়োগকর্তা না, আমরা "সংযোগকারী প্রযুক্তি" মাত্র। ছেলেটা আমাদের কর্মী না, “আমাদের পার্টনার।”

শব্দটা খেয়াল করেন। পার্টনার মানে অংশীদার। অংশীদার হলে মুনাফার ভাগ পাওয়ার কথা, বোর্ড মিটিংয়ে বসার কথা। এই "পার্টনার" পায় প্রতি ডেলিভারিতে কয়টা টাকা, আর কোম্পানি চাইলে যেকোনো মুহূর্তে তার আইডি বন্ধ করে দিতে পারে, কারণ দর্শানো ছাড়াই।

যেই সম্পর্কে একজনের হাতে সুইচ আর আরেকজনের হাতে হ্যান্ডেলবার, সেটার নাম অংশীদারত্ব না।

আগের এক লেখায় ব্রডশিট দেখিয়েছিল, রাষ্ট্র কীভাবে মৃত্যুর নাম "বন্যা" রেখে দায় আকাশের দিকে পাঠায়।

করপোরেশনও একই খেলা খেলে। শ্রমিকের নাম "পার্টনার" রাখলে শ্রম আইন আর তাকে স্পর্শ করে না। নামকরণ এইখানেও আইনের ফাঁক গলানোর যন্ত্র।

➖

এতদিন তার মালিক কে ছিল? সহজ উত্তর, অ্যালগরিদম।

এমন মালিক, যার অফিস নাই, চেহারা নাই, যার সাথে তর্ক চলে না। কিন্তু সে সব দেখে। কয়টা অর্ডার নিলেন, কয়টা ফেরালেন, কাস্টমার কয়টা স্টার দিলো, কত মিনিটে পৌঁছালেন, সব তার খাতায়।

রেটিং পড়লে অর্ডার কমে, অর্ডার কমলে আয় কমে। আর ‘পারফরম্যান্স’ বেশি খারাপ হলে একদিন সকালে অ্যাপ খুলে দেখবেন, আইডি ব্লক।

মানুষ-মালিকের যুগে শ্রমিক অন্তত জানতো কার কাছে গিয়ে দাঁড়াতে হবে। অ্যালগরিদম-মালিকের কোনো দরজা নাই যেখানে কড়া নাড়বেন।

এই ব্যবস্থার নিষ্ঠুরতম দিকটা ধরা পড়েছে শ্রম-গবেষণা সংস্থা বিলসের এক কর্মকর্তার বলা ছোট্ট গল্পে। তার স্ত্রী অনলাইনে ডিম অর্ডার করেছিলেন। ডেলিভারির ছেলেটা আসার পর দেখা গেলো ডিমগুলি বিজ্ঞাপনের চেয়ে ছোট।

তিনি নিতে চাইলেন না। ছেলেটা হাতজোড় করে বললো, আপা, নেন, না নিলে দামটা আমার বেতন থেকে কাটবে।

ডিম ছোট হওয়ার দায়ও শেষমেশ যার ঘাড়ে, সে-ই এই চেইনের একমাত্র মানুষ যার কোনো দর কষার ক্ষমতা নাই।

আয়ের হিসাবও একই কথা বলে। অক্সফোর্ড ইন্টারনেট ইনস্টিটিউটের ফেয়ারওয়ার্ক-গবেষণা বছর বছর বাংলাদেশের প্ল্যাটফর্মগুলিকে দশ নম্বরের স্কেলে মাপে।

২০২১ সালের প্রথম রিপোর্টে দশটা প্ল্যাটফর্মের কেউ এক-এর বেশি পায়নি। ২০২৩ সালের পাঁচটা প্ল্যাটফর্মের ঘরে শূন্য।

আর তাদের হিসাবে, তেল-মেরামতের খরচ বাদ দিলে এই খাতের বহু শ্রমিকের আয় নামে দেশের ন্যূনতম মজুরিরও নিচে।

বাইকের তেল পোড়ে শ্রমিকের পকেট থেকে। ব্যাগের বিজ্ঞাপন-ভ্যালু জমে কোম্পানির ব্র্যান্ডে।

➖

তারপর, গত নভেম্বরে, বিশ বছরের এই হিসাবে প্রথম ফাটল ধরলো।

জুলাই অভ্যুত্থানের পর গঠিত শ্রম সংস্কার কমিশন গত বছরের এপ্রিলে রিপোর্ট দিয়েছিল। নভেম্বরে সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে এলো শ্রম আইনের সংশোধনী অধ্যাদেশ, আর এই এপ্রিলে সংসদে পূর্ণাঙ্গ আইন। সব মিলিয়ে প্রায় নব্বইটা সংশোধনী।

দেশের শ্রম আইনের ইতিহাসে এত বড় ঢেউ আর আসেনি। পেছনে চাপও ছিল বিস্তর, আইএলও-তে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে চলা অভিযোগ, ইউরোপের ক্রেতাদের সাপ্লাই-চেইন আইন, আর অভ্যুত্থানের রাজনৈতিক ঋণ।

যেই শ্রমিকরা রাস্তায় রক্ত দিয়েছিল, তাদের কিছু ফেরত দেওয়ার দায়।

এই ঢেউয়ের ভিতরেই ঘটেছে সেই ঘটনা। শ্রম আইনের ১৭৫ ধারায়, ট্রেড ইউনিয়নের অধ্যায়ে, এই প্রথম ঢুকেছে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের শ্রমিক। রাইড-শেয়ারিং, ফুড ডেলিভারি, ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেস। গোলাপি ব্যাগের ছেলেটা এখন আইনত ইউনিয়ন করতে পারে।

এবং ন্যায্যতার খাতিরে এটাও লেখা থাকুক, এইবার সুপারিশ হিমাগারে যায়নি। কমিশনের রিপোর্ট থেকে আইন, এক বছরের মধ্যে। এই দেশে এটা প্রায় অলৌকিক গতি।

তাহলে গল্প শেষ? দুঃখজনক উত্তর হল, না।

এখানেই আইনটার সবচেয়ে সূক্ষ্ম কারিগরি লুকানো, এবং এটাই এই লেখার আসল খবর।

গিগ-শ্রমিক ঢুকেছে ১৭৫ ধারায়, ইউনিয়নের দরজা দিয়ে। কিন্তু মূল শ্রমিক-সংজ্ঞায় সে এখনো ঢোকে নাই। আর ওই মূল সংজ্ঞাতেই বাঁধা আছে শ্রমিকের আসল প্রাপ্যগুলি, ন্যূনতম মজুরি, ছুটি, গ্র্যাচুইটি, ক্ষতিপূরণ, কর্মঘণ্টা।

মানে আইন তাকে সংগঠিত হওয়ার অনুমতি দিয়েছে, কিন্তু প্ল্যাটফর্মের ঘাড়ে নিয়োগকর্তার দায় চাপায়নি।

মিছিল করার অধিকার পেয়েছে, কিন্তু মজুরি চাওয়ার আইন পায়নি। দাবি তোলার মঞ্চ পেয়েছে, কিন্তু দাবিটা যার কাছে তুলবে, সেই নিয়োগকর্তাই আইনের খাতায় অনুপস্থিত।

দরজাটা খুলেছে, তবে বারান্দা পর্যন্ত। ঘরের চাবি এখনো ঝুলছে।

একই অর্ধেক-নকশা গৃহকর্মীদের বেলাতেও। এই প্রথম আইন তাদের চিনলো, দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ আর ইউনিয়নের অধিকার পেলো লাখো গৃহকর্মী, যাদের সিংহভাগ নারী। ঐতিহাসিক, সন্দেহ নাই।

কিন্তু ন্যূনতম মজুরি? কর্মঘণ্টা? সাপ্তাহিক ছুটি? এখনো নাই।

➖

আন্তর্জাতিক তুলনাটা এইবার আরও জরুরি, কারণ ফুডপান্ডার মালিক বার্লিনের ডেলিভারি হিরো, উবারের সদর দপ্তর সান ফ্রান্সিসকো। ঢাকার সিগন্যালে ভেজা ছেলেটা কাজ করে সেই একই বৈশ্বিক করপোরেশনের জন্য।

যুক্তরাজ্যের সর্বোচ্চ আদালত রায় দিয়েছে, উবার-চালকরা শ্রমিক, ন্যূনতম মজুরি, ছুটির টাকাসহ। অস্ট্রেলিয়া গিগ-শ্রমিককে "কর্মীসদৃশ" স্বীকৃতি দিয়ে ন্যূনতম মজুরির আওতায় এনেছে।

ভারত ২০২০ সালেই সামাজিক নিরাপত্তা আইনে গিগ-শ্রমিকের কল্যাণ তহবিলের কাঠামো বানিয়েছে।

পার্থক্যটা ধরেন। ওরা গেছে প্রাপ্যের দিকে। টাকা, বিমা, মজুরি। আমরা দিয়েছি কণ্ঠের অধিকার, সংগঠন, ইউনিয়ন। কণ্ঠ জরুরি, কিন্তু কণ্ঠ দিয়ে তো ভাত হয় না, কণ্ঠ দিয়ে ভাত চাইতে হয়। আর চাওয়ার আইনি ঠিকানাটাই এখনো ফাঁকা।

করপোরেশন কোথাও দয়া করে অধিকার দেয় না, আইন আদায় করে। লন্ডনে আইন পুরোটা চেয়েছে, তাই পুরোটা দিতে হয়। ঢাকায় আইন অর্ধেক চেয়েছে, কতটুকু মিলবে, নিজেই অনুমান করেন।

➖

আরেকটা প্রশ্ন এই লেখা এড়াতে পারে না, লাখো রাইডারের ভিতরে মেয়ে কই?

সংখ্যাটা এতই নগণ্য যে আলাদা করে গোনাই হয় না। অথচ এই কাজে ডিগ্রি লাগে না, মামা-খালু লাগে না। শুধু একটা বাহন আর একটা ফোন। কাগজে এটা নারীর জন্য সবচেয়ে খোলা দরজা হওয়ার কথা ছিল।

দরজা বন্ধ করলো কীসে? মোটরসাইকেল বা সাইকেলের মালিকানা পুরুষের। রাতের শহর পুরুষের। রাস্তার পাশের টয়লেট পুরুষের। অচেনা বাড়ির দরজায় একা কড়া নাড়ার নিরাপত্তাটুকুও পুরুষের।

মানে ডেলিভারি-অর্থনীতি পুরুষের হয়ে ওঠেনি। শহরটাই পুরুষের, ডেলিভারি তার একটা উপসর্গ মাত্র।

➖

তবে শ্রমিকরা কোনোদিনই আইনের অপেক্ষায় বসে ছিল না।

২০২১ সালেই ঢাকার রাস্তায় ফুডপান্ডার রাইডাররা নেমেছিল। কমিশন আর বকেয়া মজুরির প্রতিবাদে। রাইডারদের ফেসবুক গ্রুপগুলিতে হাজার হাজার সদস্য। ইউনিয়ন ছিল না, কিন্তু ইউনিয়নের ছায়া তৈরি হচ্ছিল।

আর সবচেয়ে কৌতূহল-জাগানো বিদ্রোহটার নাম গবেষকরা দিয়েছেন "খ্যাপ।" ফেয়ারওয়ার্কের গবেষণায় উঠে এসেছে, চালকরা ক্রমশ প্ল্যাটফর্ম এড়িয়ে সরাসরি কাস্টমার ধরছে, অ্যাপে পরিচয়, তারপর ফোন নম্বর, তারপর কমিশনের ভাগ না দিয়ে সোজা চুক্তি।

যেই অ্যালগরিদম তাকে নিংড়ায়, সে সেই অ্যালগরিদমকেই মাঝপথে ফেলে দিচ্ছে।

এটাকে চুরি বলবেন না। এটা দর কষাকষি, যার ইউনিয়ন ছিল না, সে দর কষেছে পায়ে।

এখন ইউনিয়নের আইনি রাস্তা খুলেছে। প্রশ্নটা তাই সামনে, এই দেশের প্রথম নিবন্ধিত গিগ-ইউনিয়নটা কে বানাবে, কবে বানাবে, আর বানানোর পর তার প্রথম দাবিটা কী হবে?

উত্তরটা আসলে ওই অর্ধেক আইনেরই লেখা আছে।

➖

শেষ হিসাব।

একটা খাত জিডিপির পাঁচ শতাংশ জোগায়, দশ লাখের বেশি পরিবার চালায়, "ডিজিটাল বাংলাদেশের" প্রতিটা প্রেজেন্টেশনে তার ছবি থাকে। গোলাপি ব্যাগ, হাসিমুখ, স্মার্টফোন।

বিশ বছর পর আইনের অভিধানে সেই মানুষটার নাম উঠেছে। এটা ছোট ঘটনা না, যেই শব্দ ছিলই না, সেটা এখন আছে, এবং ইতিহাস বলে অভিধানে ঢোকাটাই শ্রমিকের প্রথম জয়।

কিন্তু নামটা উঠেছে ফুটনোটে। মূল পাতায় যেখানে মজুরি লেখা হয়, ছুটি লেখা হয়, ক্ষতিপূরণ লেখা হয়, সেই পাতায় সে এখনও অনুপস্থিত।

#ব্রডশিট #গিগঅর্থনীতি #শ্রমিক #বাংলাদেশ #শ্রমআইন

Address

Nurabad, Dularhat
Dhaka
8341

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Youth Peace Foundation posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share