09/07/2026
📖 কুরআনের প্রতিটি অক্ষর—আপনার জন্য অফুরন্ত নেকির ভাণ্ডার
আমরা অনেক সময় ভাবি, “আজ কুরআন পড়ার সময় হলো না”, “একটু পরে পড়ব”, কিংবা “এত অল্প পড়লে কী-ই বা হবে!” অথচ রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদের এমন এক সুসংবাদ দিয়েছেন, যা একজন মুমিনের হৃদয়কে কুরআনের দিকে ছুটে যেতে বাধ্য করে।
# প্রিয়নবী মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
“যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব থেকে একটি অক্ষর তিলাওয়াত করে, তার জন্য একটি নেকি লেখা হয়। আর প্রতিটি নেকি দশ গুণ বৃদ্ধি করা হয়। আমি বলি না যে ‘আলিফ-লাম-মীম’ একটি অক্ষর; বরং আলিফ একটি অক্ষর, লাম একটি অক্ষর এবং মীম একটি অক্ষর।”
# সুনানে আত-তিরমিজি, হাদিস: ২৯১০।
এই হাদিসের আলোকে আলেমগণ হিসাব করে আনুমানিকভাবে বলেন, কুরআনের একটি পৃষ্ঠা তিলাওয়াত করলে প্রায় ৫,০০০, একটি পারা পড়লে প্রায় ১,০০,০০০, আর পুরো কুরআন একবার খতম করলে প্রায় ৩০,০০,০০০ নেকি অর্জনের সুযোগ হতে পারে। এটি কোনো নির্দিষ্ট ও চূড়ান্ত সংখ্যা নয়; বরং হাদিসে বর্ণিত প্রতিটি অক্ষরে ১০ নেকি—এই মূলনীতির ভিত্তিতে একটি আনুমানিক হিসাব।
ভাবুন তো, দিনে যদি মাত্র ১০–১৫ মিনিট সময় বের করে কয়েক পৃষ্ঠা কুরআন পড়ি, তাহলে আল্লাহর পক্ষ থেকে কত বিশাল প্রতিদান আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে! অথচ আমরা অনেক সময় মোবাইল স্ক্রিনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দিই, কিন্তু কুরআনের জন্য কয়েক মিনিটও বের করতে পারি না।
কুরআন শুধু নেকি অর্জনের মাধ্যম নয়; এটি হৃদয়ের প্রশান্তি, ঈমানের শক্তি, জীবনের দিশা এবং আখিরাতের সফলতার পথপ্রদর্শক। যে ঘরে কুরআনের তিলাওয়াত হয়, সে ঘরে বরকত নাযিল হয়। যে হৃদয় কুরআনের সঙ্গে যুক্ত থাকে, সে হৃদয় আল্লাহর স্মরণে জীবন্ত থাকে।
চলুন, আজ থেকেই একটি ছোট্ট লক্ষ্য ঠিক করি—
# প্রতিদিন অন্তত এক পৃষ্ঠা কুরআন তিলাওয়াত করব।
# তিলাওয়াতের পাশাপাশি অর্থ ও তাদাব্বুর (গভীর চিন্তা) করার চেষ্টা করব।
# পরিবারকেও কুরআনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে উৎসাহিত করব।
হয়তো এই ছোট্ট আমলই কিয়ামতের দিন আমাদের নাজাতের কারণ হয়ে যাবে।
সুবহান আল্লাহ।
কুরআনের প্রতিটি অক্ষর উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহ আপনার আমলনামায় নেকি লিখে দেন।
তাই আজই কুরআনের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক গড়ে তুলুন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত, বুঝে পড়া এবং তার ওপর আমল করার তাওফিক দান করুন।
আমীন। #ইসলামেরকথা #ইতিহাস #হাদিস #সুনানেআবুদাউদ