05/04/2024
আমি গত প্রায় ৬/৭ বছর ধরে ধানমন্ডি ঈদগাহ জামে মসজিদে নামাজ পড়ি। এই মসজিদের একটা দিক আমার খুব পছন্দের ছিল - প্রচুর আলো বাতাস এবং কোনো এসি ছিল না, আমার কাছে কখনো প্রয়োজন আছে বলেও মনে হয়নি। মসজিদ বা নামাজ হলো মৃত্যুর আগে একটা মাত্র জায়গা যেখানে সবাইকে মানুষ হিসাবে এক কাতারে নিয়ে আসে। এখানে ভেদাভেদের কোনো জায়গায় ছিল না, আর এটাই আমার কাছে ইসলামের, মুসলমানদের সব থেকে বড় বিউটি মনে হয়।
আমরা মানুষেরা সেটা কেন মানবো??? সমাজের নামীদামী যারা তারা এসি রুমে আরাম করে নামাজ পড়বে, গরীব মেহনতী মানুষদের আবার এতো আরামের কি দরকার কাজেই তারা নামাজ পড়বে বাইরে.......
আমি খুব খুশি ছিলাম ধানমন্ডি এর এই মসজিদে অন্তত এই ভেদাভেদ হচ্ছে না, মনকষ্ট নিয়ে অন্তত নামাজ পড়তে হবে না। কিন্তু খুবই কষ্টের বিষয় চাটুকারিতার জয় হলো, গরমের অজুহাতে প্রায় ৮০/৯০ লাখ টাকা খরচ করে এসি এবং ডেকোরেশন করা হলো একটা তলায়।
আমার কথা হলো গরম দূর করার জন্য আমরা প্রতি টা মসজিদের চারপাশ দিয়ে কি প্রচুর ফলজ গাছ লাগাতে পারি না?????? আমার ছোট মাথায় আসে এটার ফায়দা অনেক এবং এসির থেকে অনেক সাশ্রয়ী শুধু টাকার বিবেচনায় আনলেও। কিন্তু আমাদের বড় বড় মানুষের মাথায় এটা কেন আসে না???? স্ট্যাটাস কমে যায়????
আচ্ছা কবরে কি এসি লাগাতে পারবো?????
আমি কিন্তু গাছ লাগাতেই দেখেছি.......
এবার একটু আশার কথা বলি - এই ৬/৭ বছরে এতো মানুষ কে নামাজ পড়তে আসতে আজকে প্রথম দেখলাম, যে কারণে মনটা ভালো হয়ে গেল সেটা হলো ৬০/৭০% কমবয়েসী এবং তরুণ নামাজী। এরা বাংলাদেশের সম্পদ, আর অধিকাংশ তরুণই ভালো পথে আছে শুধু দরকার ছিল এদেরকে নেতৃত্ব দিয়ে দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার একজন যোগ্য নেতার।।।।।
আমি আশাবাদী লোক, এদের মধ্যে থেকেই একজন নেতা অবশ্যই বের হয়ে আসবে।
আপনাদের মনে আছে কিনা জানি না, আমার খুব মনে পরে স্কুলের বাচ্চা ছেলেরা ঢাকার যানজট ঠিক করে ফেলেছিল মাত্র কয়েক ঘন্টায়!!!!!
যেকোনো ভালোবাসায় আবেগ আর দরদ খুব জরুরী আর দেশকে ভালোবাসতে তো আরো বেশি জরুরী - এই দুইটা জিনিসই এই তরুণদের মধ্যে আছে কিন্তু আমরা নষ্ট করে দেয়, এটাই আফসোস.......