11/02/2026
শফিকুর রহমানের রাজনৈতিক পথচলা👉🏻 তিনি জাসদ ছাত্রলীগের মাধ্যমে ছাত্র রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়েছিলেন ১৯৭৩ সালে এবং এর তিন বছর পর তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরে যোগদান করেন…..👇🏻👇🏻👇🏻👇🏻👇🏻
জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান এমসি কলেজে পড়ার সময় জাসদ ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত হন। পরে হতাশ হয়ে একটি ইসলামী সংগঠনের সংস্পর্শে আসেন এবং কয়েক বছর ছাত্রশিবির করার পর ১৯৮৪ সালে সিলেটে আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে যোগ দেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে যুদ্ধাপরাধ মামলায় দলের শীর্ষ কয়েকজন নেতার ফাঁসির পর সৃষ্ট নেতৃত্বশূন্যতায় তিনি প্রথমে সেক্রেটারি জেনারেল এবং পরে দলের আমির নির্বাচিত হন।
রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, তার নেতৃত্বে জামায়াত সাংগঠনিক সীমা ভেঙে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে এবং সংখ্যালঘু ও মুক্তিযোদ্ধাদের মনোনয়ন দিচ্ছে।
দলের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, তিনি ১৯৭৩ সালে জাসদ ছাত্রলীগের মাধ্যমে ছাত্র রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং ১৯৭৬ সালে ইসলামী ছাত্রশিবিরে যোগ দেন। তবে সে সময়ের কিছু জাসদ নেতা দাবি করেন, তিনি সমর্থক হতে পারেন, কিন্তু সক্রিয় থাকার প্রমাণ তারা পাননি।
—————-রাজনৈতিক জীবন ও জামায়াতে আসা (সংক্ষেপ)
জামায়াতে ইসলামী ও শফিকুর রহমানের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, তিনি ১৯৫৮ সালের ৩১ অক্টোবর মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৩ সালে জাসদ ছাত্রলীগের মাধ্যমে ছাত্র রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং ১৯৭৪ সালে এসএসসি পাশ করেন। ১৯৭৬ সালে এইচএসসি শেষে সিলেট মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন।
তবে সে সময়ের জাসদ নেতা ডা. মুশতাক হোসেন দাবি করেন, শফিকুর রহমান সমর্থক হতে পারেন, কিন্তু সক্রিয় সম্পৃক্ততার প্রমাণ তারা পাননি। রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে, স্বাধীনতার পর জামায়াত নিষিদ্ধ থাকায় দলের বর্তমান কয়েকজন নেতা বামঘরানার ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
জামায়াতের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৩ সালে এমবিবিএস সম্পন্ন করে ১৯৮৪ সালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে যোগ দেন। পরে সিলেট শহর, জেলা ও মহানগর আমিরের দায়িত্ব পালন করেন।
২০১৬–২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি দলের সেক্রেটারি জেনারেল ছিলেন। এর আগে ২০১১ সালে ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব পান।
২০১৯ সালের নভেম্বরে রুকনদের প্রত্যক্ষ ভোটে প্রথমবারের মতো জামায়াতের আমির নির্বাচিত হন। পরে ২০২৩ ও ২০২৫ সালেও পুনর্নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন।
_________ দলের ভেতরে উঠে আসা (সংক্ষেপ)
বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৩–২০১৬ সালে যুদ্ধাপরাধ মামলায় জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের ফাঁসির পর দলে নেতৃত্বশূন্যতা তৈরি হয়। তখন বাস্তবতায় গ্রহণযোগ্য নতুন নেতৃত্ব সামনে আনার প্রবণতা তৈরি হয় এবং সেই প্রেক্ষাপটেই শফিকুর রহমানের উত্থান সহজ হয়।
সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ বাবরের মতে, কঠিন সময়ে তিনি দলের হাল ধরেন এবং জামায়াতকে সাংগঠনিক গণ্ডি থেকে বের করে বৃহত্তর পরিসরে নেওয়ার চেষ্টা করেন; এমনকি সংখ্যালঘু ও কিছু মুক্তিযোদ্ধাকেও দলে যুক্ত করেন।
অন্যদিকে জাসদের নেতা শরীফ নূরুল আম্বিয়া বলেন, শফিকুর রহমান জাসদ ছাত্রলীগে সক্রিয় ছিলেন কি না তা স্পষ্ট নয়; তবে থেকে গেলে দেশ উপকৃত হতো বলে তার মন্তব্য। অনেকের ধারণা, মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে নিরাপত্তার কারণে জাসদ ছাত্রলীগে সম্পৃক্ততার বিষয়টি কৌশলও হতে পারে।
২০২৪ সালে এক সাক্ষাৎকারে শফিকুর রহমান বলেন, তরুণদের স্রোতে তিনি জাসদ ছাত্রলীগে যোগ দিয়েছিলেন, কিন্তু পরে ব্যাংক ও অস্ত্র লুটসহ কর্মকাণ্ডে হতাশ হয়ে সরে যান। এরপর গোপন একটি ইসলামী সংগঠনের সংস্পর্শে এসে ১৯৭৭ সালে ছাত্রশিবিরে যোগ দেন এবং পরে এর বিভিন্ন শাখায় নেতৃত্ব দেন।
১৯৮৪ সালে জামায়াতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়ে তিনি জেলা পর্যায় থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে ওঠেন। ১৯৯৮ সালে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এবং ২০১০ সালে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হন। পর্যবেক্ষকদের মতে, সাংগঠনিক দক্ষতার মাধ্যমেই তিনি ধাপে ধাপে শীর্ষ নেতৃত্বে পৌঁছান।
#জামায়াত #ছাত্রশিবির