19/07/2026
'পদ্মজা' উপন্যাসের দ্বিতীয় পর্বে কাহিনীর রহস্য আরও ঘনীভূত হয়। হাওলাদার বাড়িতে পদ্মজার প্রথম রাত এবং সেখানে ঘটে যাওয়া অদ্ভুত ঘটনার বিবরণ দিয়ে এই পর্বটি সাজানো হলো:
পদ্মজা — পর্ব ২
বিয়ের পর অলকানন্দা গ্রাম ছেড়ে পদ্মজা যখন আমীর আলী হাওলাদারের বিশাল রাজপ্রাসাদসম বাড়িতে এসে পৌঁছাল, তখন চারদিকে উৎসবের আমেজ। আলো ঝলমলে বাড়ি, দামি আসবাবপত্র আর দাস-দাসীদের ব্যস্ততা দেখে পদ্মজার চোখ ধাঁধিয়ে গেল। তার মনে হলো, মায়ের সেই কড়া শাসনের বন্দী জীবন থেকে সে যেন এক রূপকথার রাজ্যে এসে পড়েছে।
বাসর ঘরে পদ্মজা যখন ঘোমটা টেনে বসে ছিল, তখন তার বুক দুরুদুরু কাঁপছিল। আমীর ঘরে প্রবেশ করে অত্যন্ত আলতো করে তার ঘোমটা তুলে ধরল। পদ্মজার মায়াবী মুখের দিকে তাকিয়ে আমীর মুগ্ধ গলায় বলল, "আজ থেকে তুমি এই বাড়ির রানী, পদ্মজা। তোমার কোনো কষ্ট আমি সহ্য করব না।" আমীরের এই ভালোবাসা আর নরম ব্যবহার পদ্মজার সব ভয় দূর করে দিল। সে নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে ভাগ্যবতী নারী মনে করল।
কিন্তু সেই সুখের অনুভূতি বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না। গভীর রাতে, যখন পুরো বাড়ি নিস্তব্ধ, তখন পদ্মজার ঘুম হঠাৎ ভেঙে গেল।
সে দেখল বিছানায় তার পাশে আমীর নেই। ঘরের দরজাটা আধখোলা। পদ্মজা ভাবল, আমীর হয়তো পানি খেতে বা কোনো দরকারে বাইরে গেছে। কিন্তু বেশ কিছুক্ষণ পার হয়ে যাওয়ার পরও যখন আমীর ফিরল না, তখন পদ্মজার মনে একটু ভয় জাগল। সে গাঢ় অন্ধকারের মধ্যে আস্তে আস্তে ঘর থেকে বের হলো।
বিশাল হাওলাদার বাড়ির করিডোরগুলো রাতে কেমন যেন ভূতুড়ে লাগছিল। হাঁটতে হাঁটতে পদ্মজা বাড়ির পেছনের দিকের একটি পরিত্যক্ত এবং অন্ধকার অংশের সামনে এসে দাঁড়াল। ঠিক তখনই সে শুনতে পেল এক অদ্ভুত শব্দ—কারো চাপা গোঙানি আর গোঙানির সাথে ফিসফিস করে কথা বলার আওয়াজ!
ভয়ে পদ্মজার গায়ের লোম খাড়া হয়ে গেল। সে দেয়ালের আড়ালে লুকিয়ে উঁকি দিল। আবছা আলো-আঁধারিতে সে যা দেখল, তা বিশ্বাস করতে তার কষ্ট হলো। সে দেখল, দিনের বেলার সেই শান্ত, ভদ্র আর মার্জিত আমীর আলী হাওলাদার সেখানে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু তার চোখে-মুখে এখন এক হিংস্র ও নিষ্ঠুর অভিব্যক্তি। আমীরের সামনে একজন মানুষ হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মাটিতে পড়ে ছটফট করছে আর আমীর ঠান্ডা মাথায় তাকে হুমকি দিচ্ছে।
পদ্মজা নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিল না। ভয়ে তার মুখ দিয়ে চিৎকার বেরিয়ে আসতে চাইল, কিন্তু সে নিজের হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরল। সে বুঝতে পারল, এই বিলাসবহুল হাওলাদার বাড়ির আড়ালে এমন এক ভয়ঙ্কর অন্ধকার জগত আছে, যার কথা বাইরের কেউ জানে না। আর যে আমীরকে সে দেবতা ভাবছিল, তার ভেতরে লুকিয়ে আছে এক রক্তপিপাসু দানব।
ঠিক তখনই অসাবধানতাবশত পদ্মজার পায়ের ধাক্কায় পাশে থাকা একটি ফুলদানি নড়ে উঠল। শব্দ হওয়া মাত্রই আমীর তিক্ষ্ণ দৃষ্টিতে করিডোরের দিকে তাকিয়ে গর্জে উঠল, "কে ওখানে?"
পদ্মজা ভয়ে জমে গেল। তার মনে হলো, আজ রাতেই বোধহয় তার জীবনের শেষ দিন...।
আমি পদ্মজা
Collected
হাওলাদার বাড়ির এই প্রথম কালো অধ্যায়টি দেখার পর পদ্মজার জীবন পুরোপুরি বদলে যায়। সে কি পারবে আমীরের এই রূপের আড়ালে থাকা সত্য উন্মোচন করতে