03/09/2025
তোমাকে ভুলে যাওয়াটা আমার পক্ষে কি খুব বেশি স্বাভাবিক? না পারি তোমাকে ভুলতে না পারি তোমাকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকতে। সম্পর্কটা নাম মাত্র ৩ বছর হলেও সেটা ছিলো ৩ যুগের সমান। প্রতিদিন ঘুম থেকে ওঠার পর থেকেই মনে হয় এই বুঝি তুমি কল দিয়ে বলবে ১০ মিনিট সময় দিচ্ছি রেডি হয়ে বের হও। রান্না করার সময় মনে হয় এই রান্নাটা তোমার এভাবে পছন্দ ছিল। এখন খিচুড়ি রান্নায় আমার ভীষণ অনিহা কারণ আমি জানি খিচুড়ি তোমার ভীষণ পছন্দ। তাইতো হোস্টেলে থাকতে যখনি রান্না করতাম নিজে যেতে না পারলেও তুমি যেখানেই থাকতে আমি তোমার জন্যে উবারয়ালাকে রিকোয়েস্ট করে খিচুড়ি পাঠিয়ে দিতাম। অথচ তখন আমি খুব আগ্রহ নিয়ে তোমার জন্য খিচুড়ি রান্না করতাম। এখনো আমার মনে আছে তোমার গায়ের গন্ধ, তোমার প্রিয় পারফিউম, তোমার প্রিয় খাবার, তোমার পছন্দের রং, তোমার পছন্দের জায়গা। এখন সবকিছু আমি অন্যজনের সাথে গুলিয়ে ফেলি। তার সাথেও আমার ৩ বছরের সংসার অথচ এখনো প্রতিনিয়ত তোমার পছন্দের সাথে তার পছন্দ গুলিয়ে ফেলি। কি আজব ব্যাপার তাই না বলো! আমি তোমার মুখ দেখেই বলে দিতে পারতাম তোমার ভিতরে কি চলছে কি ভাবছো তুমি। একটু আকাশ মেঘলা হলে আমার মন ছটফট করে বাহিরে যাওয়ার জন্য আমার কখনো তোমাকে বলতেও হয় নি চলো বের হবো বৃষ্টি দেখবো ভেজা মাটির গন্ধ নিবো। তুমি যেদিন থেকে আমার এই বাজে অভ্যাসটা বুঝে গেলে সেদিনের পর থেকে আমি ঢাকায় থাকলেই আর আকাশ মেঘলা হলে তুমি কল করে বলতে আমার ভালো লাগছে না ঘুম পাচ্ছে অথবা বলতে আমার কাছে টাকা নেই কতশত বাহানা যে দেখাতে,আমি তখন চুপ করে থাকতাম কিছুক্ষণ পরেই হেসে দিয়ে বলতে চলো বের হবো। আর এখন কখন যে আকাশ মেঘলা থাকে কখন রোদ উঠে এই চার দেয়ালের রুমে কিছুই বুঝিনা। আমাদের ৩ বছরে কখনো ব্রেকআপ না হওয়াটাই আমাদের জন্য অভিশাপ। কারণ কোনো কিছু না হারালে মানুষ তার মূল্য বুঝেনা। আমরাও আমাদের মূল্যটা কখনো বুঝতে পারিনি। আর যখন বুঝলাম তখন সব ফিরে আসার রাস্তা বন্ধ হয়ে গেলো। আমি হয়ে গেলাম অন্য কারো। নিয়তির কি খেলা দেখছো! সেই ৩ বছরে কতশত ভুল যে আমি করছি তুমি সব মেনে নিয়ে আমাকে আগলে রেখে দিতে, কখনো মুখ ফুটে বলতে না তুমি চলে যাও, হায় রে নিয়তি আমাদের! সেই ৩ বছর আমার জীবনে কোনো প্যানিক অ্যাটাক ছিলো না, অথচ এখন এই প্যানিক অ্যাটাকের মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলেছে। আমি যতদিন বাঁচবো তার মধ্যে সেই কাটানো ৩ বছর আমার জীবনের সবচেয়ে প্রিয় স্মরণীয় দিন হয়ে থাকবে। তোমার সাথে প্রতিটা মুহূর্ত প্রতিটা সময় আমার মনে থাকবে। এ শহরের প্রতিটা অলিগলি তোমার হাত ধরে চেনা। এই শহরের প্রতিটা গলিতে আমাদের এক একটা মুহূর্ত এক একটা স্মৃতি জমানো গল্প আছে। আমি যেদিকেই যাই যেদিকেই তাকাই সব তোমার আমার জমানো স্মৃতি তাই নিজেকে ঘরে বন্দি করে রেখেছি। এই বাসার প্রতিটা দেয়াল জানে তোমাকে না পাওয়া আক্ষেপের কান্নার আওয়াজ। আল্লাহর কাছে খুব করে কিছু চাইলে নাকি আল্লাহ কখনো কাউকে ফিরায় না তাহলে আমাদের কেন ফিরায় দিলো!
আমি সত্যি তোমাকে ভুলতে চাইনা। আমি সবসময় চাই তুমি আমার স্মৃতিতে থাকো, শুধু একান্তই আমার হয়ে থাকো। চাইলেও আব্বু আম্মু সেখানে গিয়ে তোমাকে সরাতে পারবে না। সেই স্মৃতি সেই ভালোবাসাটা একান্তই আমার হয়ে থাকবে। শুধুই আমার......