17/08/2026
⚖️বিচার!
⚖️বিচার!!
⚖️বিচার!!!
★____★____★____★__
কিয়ামত দিবস,হাশর দিবস, বিচার দিবস।আমাদের আমলনামা যেদিন দেয়া হবে বা দেখানো হবে এবং দেয়া হবে তার জাঝা এবং সাঝা তথা পুরষ্কার ও শাস্তি। সেদিনটির নাম কুরআন মাজিদে এ তিনটি বাক্যে বলা হয়েছে।
আমাদের মিরপুর মাদরাসাতে এমন তিনটি বিচার দিবস ছিল। দুটি প্রতি সাপ্তাহে ছিল। একটি ঘটনাক্রমে অঘটন ঘটলে হত!
১-রুমের বিচার।
কিছু নিয়ম ছিল, একজন দায়িত্বরত থাকতেন,যে নিয়মের ব্যতিক্রম করবে তার নাম লিখবে।এটি সংঘটিত হবে শুধু তাদের সামনে,যারা একই কক্ষে যারা বাস করতেন,অর্থাৎ রুমমেইটদের সামনে।
এখানে যা যা নিয়ম ছিল -
১-নিচু আওয়াজে কথা বলা।
২/সর্বদা মাথায় কাপড় রাখা
৩/আহার শেষে থালাবাসন ঝুটাপানি মুক্ত রাখা।
৪/ রাত সারে ১০টা বাজার সাথে সাথে বিছানায় শুয়ে পরা
এর বিপরীত যারা করবে, সোমবার রাত সারে নয়টায় তাদের বিচার হত।
★২য় বিচার ★
এটি মঙ্গলবার বিকেলে সংঘটিত হত।এখানে সকল আবাসিক উস্তাদ এবং সকল আবাসিক ও ডে কেয়ার ছাত্রীরা উপস্থিত থাকতেন।এখানে নাম লেখার দায়িত্বে থাকতেন হেদায়া বা শরহে বেকায়ার দায়িত্বশীল ছাত্রী রা।
বিদ্র:হেদায়া বছর থেকে ছাত্রীদেরকে মাদরাসার এন্তেযামী সকল দায়িত্বগুলো ধীরে ধীরে শেখানো হত।
যে সকল কারণে তাঁরা নাম লিখতেন ---
১/নামাজ শুরু করার পাঁচ মিনিট পূর্বে সবাই নীরব হয়ে যেতে হবে।জামাতের সাথে নামাজ হত,অধিক ছাত্রী হওয়ার কারণে। এ কারণে আমরা জামাতে নামাজের অনেক মাসআলা কিতাব ছাড়া শিখতে পারতাম। দুটি জামাত হত,একটি বালেগাদের,অপরটি না বালেগাদের। উদ্দেশ্য নির্ধারিত সময়ে সবার নামাজ যেন শেষ হয়।আর ফাঁকিবাজদের যেন ধরা যায়।
যারা মাজুর,তাদের কে প্রতি ওয়াক্তে গিয়ে জিজ্ঞেস করা হত, নামাজ মাফ কিনা?এতে দিনের একটি মোটামোটি হিসাব দায়িত্বশীল ছাত্রীদের কাছে থাকত।গাফেলদের ধরা হত।
২/তাকবীরে উলার পূর্বে নামাজঘরে উপস্থিত থাকা।
৩/নামাজের পরে আমলী সূরা পড়ে জায়নামাজ ভাঁজ করা এবং রুম ত্যগ করার পূর্বে দায়িত্বশীল বোনকে জানিয়ে যাওয়া,যে
আমি আমল করেছি।
৪/অজু করা বা থালাবাটি ধোঁয়া কিংবা কাপড় ধোয়ার সময় কলের পানি চিকন করে ছাড়া বা অপচয় না করা।
৫/থালাবাটি ধোয়ার সময় কোনো প্রকার ময়লা ড্রেনে না ফেলা,বরং পূর্বেই ময়লার ঝুড়িতে ফেলে নেয়া।
৬/ভাত তরকারি কোনো খাবার ঝুড়িতে না ফেলা।
৭/দারসের সময় বা তাকরার চলা কালীন বা নামাজের সময় গোসলে না যাওয়া।
ইত্যাদি( সব মনে নেই)
*বড় বিচার*
এখানে উপস্থিত থাকতেন আবাসিক অনাবাসিক সকল উস্তাদ ও ছাত্রীরা।সব বিচারে শাস্তি ছিল ২/৪
বেএাঘাত হালকাভাবে।অথবা ১০ বার কান ধরে উঠাবসা।
কিন্তু বড় বিচারে শাস্তি ছিল, সবার সামনে ----বাড়ি।নাই বললাম। আল্লাহ মাফ করুন।
*বহিষ্কারযোগ্য বিচার*
এখানে বড় হুজুর সহ মাদরাসার সকল হুজুর ও খালাম্মারা ও সকল ছাত্রছাত্রীরা উপস্থিত থাকতেন। এবং বড় হুজুর নাম ঘোষণা করে বহিষ্কার করতেন।এটি আমি ৫ বছরে দু'বার দেখেছি।
১/মিরপুরে মোবাইল ধরা পরা সব সময় বহিষ্কার যোগ্য অপরাধ।
*কীভাবে বিচার কার্যক্রম শুরু হত*
সবাই উপস্থিত হওয়ার পর একজন বড় ছাত্রী দাঁড়িয়ে সুন্দরভাবে এস্তেগফার ও দুরূদে ইব্রাহিম পড়াতেন।আমাদের ছাত্রীদের তখন কলিজা শুকিয়ে যেত,বুক ধরফর করতো।চোখ সাদা হয়ে যেত।খালাম্মারা যখন রুমে ঢুকতেন সবাই মিলে সালাম দিয়ে মাথা ঝুকিয়ে বসে বসে দোয়া পড়তে থাকতাম!
*এতকিছু বলার উদ্দেশ্য হল,যদি এ সকল নিয়ম আমরা সারাজীবন মেনে চলতে পারতাম*
মাদরাসা র চার দেয়ালের ভেতরের জীবনটা যদি বাইরেও কাঁটাতে পারতাম।!
তবে হয়ত হাশরের মাঠে, যেদিন যিন্দেগীর বিচার বসবে,'নেকি-বদির' আমলনামা হাতে দেয়া হবে,বেহেশত্ ও দোযখের ফায়সালা হবে,হয়ত সেদিন পার পেতাম!
যেদিন বিচারক হবেন, আহকামুল হাকিমীন, রব্বুল আলামীন।
আর তিনি পূর্ণ জালালের সহিত এরশাদ করবেন।
لمن الملك اليوم؟
আজকে রাজত্ব কার?
নিজেই আবার বলবেন,
لله الواحد القهار.
অদ্বিতীয় ও প্রতাপশালী আল্লাহ তাআলার রাজত্ব।
اليوم تجزي كل نفس بما كسبت .
আজ প্রত্যেককে তার কৃতকর্মের প্রতিদান দেয়া হবে।
لا ظلم اليوم.
আজ কোনো অবিচার বা অন্যায় হবেনা।
ان الله سريع الحساب.
নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাআলা দ্রুত বিচার কার্য শুরু করবেন।
দোয়া
১/হে আল্লাহ আমাদের হিসাবটা সহজভাবে নিয়েন।
২/আমাদের আমলনামা ডান হাতে দিয়েন।
৩/আমাদের নেকির পাল্লা ভারী করে দিয়েন।
-আমীন
Mobarokah Mokarromah
゚