পঁচা কবি

পঁচা কবি পঁচা কবি 😜 পেজে স্বাগত
(1)

আসসালামুআলাইকুম শুভ সকাল…….আমার পেছনে যে ছেলেটা দাঁড়িয়ে আছে তাকে হয়তো অনেকেই চেনেন না……..আমিও চিনতাম না…….জামালপুর এক্...
17/09/2026

আসসালামুআলাইকুম
শুভ সকাল…….
আমার পেছনে যে ছেলেটা দাঁড়িয়ে আছে তাকে হয়তো অনেকেই চেনেন না……..
আমিও চিনতাম না…….
জামালপুর এক্সপ্রেস ট্রেন কাজ করার সুবাদে ওর সাথে পরিচয়…….
আমার প্রতি আর ট্রেনের প্রতি ওর নিখাদ ভালোবাসাই আমার মনে সে জায়গা করে নিয়েছে…….

ছোট একটা ঘটনা বলি…….
মাঝে মধ্যে আমি ৩৫৩/৩৮ ডাউন ট্রেন কাজ করি……
তেমনই কোন এক দিন খুব ভোরে তখনও দিনের আলো ফোটেনি ৫ টা বাজবে তখন ৩৮ ডাউন ময়মনসিংহ এক্সপ্রেস ট্রেনটা জাফরশাহী রেলওয়ে স্টেশনে দাঁড়ালো দেখলাম লোকোর পাশে কেউ একজন দাঁড়িয়ে আছে মনে হল…….
লোকোর জানালাটা খুলে পাশে তাকাতেই দেখলাম এই ছেলেটা…..
মনে হল ঘুম থেকে উঠে এসেছে……..
ময়া ভরা হাসি, হাত দুটো ভাঁজ করে বুকের কাছে ধরা, আমার দিকে তাকিয়ে আছে…….
সালাম দিয়ে আর কোনো কথা বলছে না শুধু আমার দিকে তাকিয়ে আছে…….
অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম কি ব‍্যপার…..?
এত ভোরে আপনি এখানে কেন…….?
উত্তরে সেই মায়া ভরা হাসি দিয়ে বলল “নামাজ পড়তে বের হয়েছি তাছাড়া গ্রুপে দেখলাম আপনি ৩৮ ডাউনে আছেন তাই ভাবলাম একটু দেখা করে যাই…..”
এমন ভালোবাসায় আমার আর কোনো কথা বের হল না……
হাতটা বের করে একটু করমর্দন করে বললেন ঠিক আছে নামাজ পড়ে বাসায় চলে যাবেন…….

জি এই ছেলেটির নাম শাহরিয়ার সাগর…….
হোম স্টেশন জাফরশাহী…….
ভাটারা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ শ্রেণীর ছাত্র….
ওর ইচ্ছে পড়াশোনা শেষ করে বাংলাদেশে রেলওয়েতে লোকোমস্টার পদে চাকরি করবেন……
ট্রেনের প্রতি ওর এমন অগাধ ভালোবাসা আমায় মুগ্ধ করে……
রোদ বৃষ্টি ঝড় শীত কুয়াশায় গরম কোন কিছুই ওকে দমিয়ে রাখতে পারে না ট্রেনের সময় হলেই সে হাজির স্টেশনে অথবা স্টেশনের কাছাকাছি কোন এক জায়গায়………
এমন ভালোবাসা সত্যিই খুব একটা দেখা যায়না……
আপনার জন্য দোয়া ও শুভকামনা রইলো…….
ভালো থাকবেন…….
durban

17/09/2026

কবি বলেছেন 🥵🙈

ছবির বাম দিকে যাকে দেখছেন। সে সিএনএন -এর সাংবাদিক এন্ডারসন কুপার। আর ডান দিকে যাকে দেখছেন। তাঁর নাম হচ্ছে জ্যাকব কক্সন। ...
17/09/2026

ছবির বাম দিকে যাকে দেখছেন। সে সিএনএন -এর সাংবাদিক এন্ডারসন কুপার। আর ডান দিকে যাকে দেখছেন। তাঁর নাম হচ্ছে জ্যাকব কক্সন। সে আগে 'ওপেন এ-আই'তে (চ্যাট জিপিটিতে)' চাকরি করতো। এরপর ওই চাকরি ছেড়ে দিয়ে আরেক নামরা এ-আই কোম্পানি অ্যানথ্রপিকে চাকরি করছিল। দিন তিনেক আগে সে টুইটারে একটা পোস্ট করে চাকরি ছেড়ে দিয়েছে। ওই পোস্টে সে লিখেছে

- AI could kill all humans by 2030 ( ২০৩০ সালের মধ্যে AI সব মানুষকে হত্যা করতে পারে।)

এরপর সিএনএন ওর ইন্টার্ভিউ নিয়েছে। ওই ইন্টার্ভিউতে সে বলেছে

- আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মাঝে এমন প্রযুক্তি চলে আসতে পারে; যেটা পুরো পৃথিবী বদলে দেবে।

কক্সনের ওই টুইটের পর এখন দেখতে পাচ্ছি ইলন মাস্ক সহ অন্যরাও বলছে

- এই প্রযুক্তির অগ্রগতিকে এখনই স্লো করতে হবে। একে নিয়মের মাঝে নিয়ে আসতে হবে।

অ্যামেরিকান সকল সংবাদ মাধ্যম গত দুই দিন ধরে এ নিয়ে রীতিমত সংবাদ শিরোনাম করেছে। ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমগুলোও এটা নিয়ে কথাবার্তা বলছে। কক্সন এই কথাও বলেছে

- ছয় মাসের মাঝে এমন এ-আই চলে আসবে। যে নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারবে এবং নিজেই নিজেকে ডেভলপ (প্রগ্রেস) করতে পারবে।

যদিও ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল এই ব্যাপারে। ট্রাম্প বলেছে

- আমি মনে করি না স্লো করার কোন দরকার আছে। কারন চীন এই প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদেরও আগাতে হবে।

আমার ঠিক জানা নেই, অ্যামেরিকান কোম্পানিগুলো ঠিক এই মুহূর্তে কেন এ-আই প্রযুক্তিকে স্লো করতে বলছে। চীন কি তাহলে এমন কিছু বানিয়ে ফেলেছে? যেটা অ্যামেরিকার জন্য হুমকি হতে পারে কিংবা এমন কিছু?

হতেও পারে আবার নাও হতে পারে। তবে আগামী এক থেকে দুই বছরের মাঝে আমরা সম্পূর্ণ ভাবে এ-আই-এর যুগে প্রবেশ করবো বলেই আমার মনে হচ্ছে। আমার এ-আই ভালো লাগে না। কিন্তু মনে হচ্ছে এটাই আগামীর পৃথিবী।

মানুষ বিলীন হয়ে যাবে কিনা জানি না। তবে এটা নিশ্চিত ভাবে বলতে পারি- মানুষের পেশার পরিবর্তন হবে। অনেক ক্ষেত্রে আর মানুষের দরকারই হবে না। এমনকি পড়াশুনার ব্যাপারটা সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়ে যাবে।

এই যে কক্সনের ছবি দেখছেন। যে চাকরি ছেড়ে দিয়েছে। কত হবে এই ছেলেটার বয়স? দেখলাম ২৭/২৮। ওকে কিন্তু মাস্টার্স-পিএইচডি করতে হয় নাই। ক্যামব্রিজ থেকে গণিতে অনার্স করেই সে ওপেন এ-আইতে চাকরি করতে শুরু করেছে। তাও আবার চার বছর আগে থেকে।

ইন-ফ্যাক্ট আমাদের এখানে এখন যারা চাকরি দেয়। ওরা ডিগ্রী দেখতেও চায় না। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অনেক শিক্ষার্থী পড়াশুনা ফেলে দিয়ে ভালো ভালো চাকরিতে চলে যাচ্ছে। কারন ওদের ওই বিষয়ে স্কিল আছে। আমার এখানে এক ব্রিটিশ ছাত্র এস্তোনিয়ায় এসেই এক আইটি ফার্মে চাকরি পেয়ে গেছে। ও পড়াশুনা ছেড়ে চলে গেছে! চাকরি করছে এখন।

আমি ঠিক জানি না এ-আই কীভাবে মানব সভ্যতা ধ্বংস করতে পারে। তবে আমি এটা জানি- মানব সভ্যতা সম্পূর্ণ নতুন এক পথে হাঁটা ধরেছে। যেখানে মানুষের আর দরকার নাও হতে পারে।

সবার প্রথমে এ-আই শিক্ষিত মানুষগুলোর চাকরি খেয়ে ফেলবে। শিক্ষিত মানুষরা যে কাজ করে। মানে কাজের যেই সেক্টর , এর প্রায় ৭০ ভাগ এ-আই দখল করে নেবে আগামী পাঁচ থেকে সাত বছরের মাঝে।

বাংলাদেশে যেভাবে আপনারা বিশ্ববিদ্যালয় বানাচ্ছেন। এইসব বন্ধ করুন। আমাদের এখন আর ওই সব গতানুগতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের দরকার নেই। শিক্ষক হিসেবে আমি এই কথা বলছি। আমার নিজেরই খারাপ লাগছে। আমি এ-আই চাই না। এ-আই আমার ভালো লাগে না। এ-আই ছাড়াও তো পৃথিবী চলছিল। কিন্তু এটাই এখন ভবিষ্যৎ। এটা মেনে নিতে হবে আমাদের।

অ্যামেরিকা, চীন কারও পক্ষে এই প্রযুক্তি বন্ধ করা সম্ভব না। কারন অন্য যে কোন দেশ এমন সুপার এ-আই বানিয়ে বসে থাকতে পারে। ইরান বানিয়ে ফেলতে পারে। উত্তর কোরিয়া বানিয়ে ফেলতে পারে। অন্য যে কোন দেশ বানিয়ে ফেলতে পারে।

পৃথিবী কোথায় যাচ্ছে, আমি বলতে পারছি না। তবে আমি এটা জানি- তিন বছর আগে এ-আই ছাড়া পৃথিবী আর বর্তমান পৃথিবী এক না। আগে আমরা গুগল করতাম। কোন কিছু জানতে হলে গুগল করতাম না? এখন কী করি?

এখন করি এ-আই!

ঠিক তেমনি ভাবে- পাঁচ বছর পরের পৃথিবী আমরা হয়ত কল্পনাও করতে পারছি না। যেটা কক্সন হয়ত বুঝতে পেরেছে। নইলে তো আর লাখ লাখ টাকা দামের চাকরিটা ছেড়ে দিত না। ওকে জিজ্ঞেস করা হয়েছে

- এমন দামি চাকরি তুমি ছেড়ে দিলে?

সে বলেছে

- অন্যরা কেউ ছাড়ছিল না। কিন্তু ওরাও আমার কথা বিশ্বাস করে।

বাংলাদেশের সরকারের উচিত ভবিষ্যৎ শিক্ষা, চাকরি, সমাজ, সামরিক কিংবা অন্য সকল কিছুর ক্ষেত্রে যখন পরিকল্পনা করবেন। এ-আই-এর কথা মাথায় রাখবেন।

নইলে আপনাদেরকে একটা সময় পস্তাতে হবে। এখনই অনেক শিক্ষিত বেকার তরুণ বাংলাদেশে। পাঁচ বছর পর এদের পাঁচ ভাগের চার ভাগের কাউকে আর চাকরি ক্ষেত্রে দরকার হবে না। সমাজ তখন কোথায় যাবে, সেটা ভেবে দেখবেন। ইলন মাস্ক কিন্তু বলেছে- এ-আই পারমাণবিক বোমার চাইতেও ভয়ংকর হতে চলেছে। হায় মানুষ! নিজেকে ধংস করার প্রযুক্তি নিজেরাই আবিষ্কার করছে।

ঝা'ল'কাঠি থানার সামনে এই মেয়ে চি'ল্লা'ই'য়া কা'ন্না করতেছে,কেনো জানেন? সে তার স্বামীর নামে মা'ম'লা দেয়,এরপর পুলিশ জামাই ক...
17/09/2026

ঝা'ল'কাঠি থানার সামনে এই মেয়ে চি'ল্লা'ই'য়া কা'ন্না করতেছে,কেনো জানেন? সে তার স্বামীর নামে মা'ম'লা দেয়,এরপর পুলিশ জামাই কে গ্রে'ফ'তার করে!

এরপর থেকে মেয়ে থানার সামনে চি'ল্লা'ইয়া বলতেছে 'আমি জামাই ছাড়া যাবো নাআআআআআআআআআ! ওরে আল্লাহ! আমি কি করলাম এইটা? আমি যাবো নাআআআআ!🤣🤣

মেয়ে মানুষ ভাইইইই! তুই ই মা'মলা দিলি আবার তুই ই কা'ন্না করলি!😂 (ভিডিও টা কমেন্টে দেখবেন)

কিসের এতো বরাই করো আর কি আছে তোমার এই জীবনে 😅😓
16/09/2026

কিসের এতো বরাই করো আর কি আছে তোমার এই জীবনে 😅😓

মানুষ না বাঁ-চ-লে জরায়ু দিয়ে কি করুম স্যার?"—কাঁ-দ-তে কাঁ-দ-তে এমনটাই বলছিলেন রো-গী-র স্বামী।🥹মহিলা ২৭ সপ্তাহের গ'র্ভ'...
16/09/2026

মানুষ না বাঁ-চ-লে জরায়ু দিয়ে কি করুম স্যার?"—কাঁ-দ-তে কাঁ-দ-তে এমনটাই বলছিলেন রো-গী-র স্বামী।🥹

মহিলা ২৭ সপ্তাহের গ'র্ভ'ব:তী। কিন্তু হঠাৎ মা'সি'কের রা'স্তা দিয়ে র-ক্ত-পা-ত হচ্ছিলো।

প্রথমে একটা প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলো। কিন্তু অবস্থা খা'রা'প দেখে রো-গী-কে মুগদা মেডিকেল কলেজে রেফার করা হয়।

তখন বাজে প্রায় দুপুর ২:৩০। সিনিয়র ম্যাডামরা বের হয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

রো-গী আসার সাথে সাথেই আমাদের গা'ই'নীর ট্রেইনী আপুরা দেখে রো-গী-র অবস্থা খারাপ। Central placenta previa. অর্থাৎ গ'র্ভ'ফুল একেবারে জরায়ুর মুখে অবস্থিত। বাচ্চা ন'র'মাল ডেলিভারি হওয়ার রা'স্তা ব-ন্ধ হয়ে আছে গ'র্ভ'ফুল দিয়ে।

সাথে সাথেই সিনিয়র ম্যাডামদের জানানো হয়। সি'জা'রের সি'দ্ধা'ন্ত নেওয়া হলো। ইমিডিয়েটলি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়। সিনিয়র ৪ জন ম্যাডাম বাড়ি যাওয়া বাদ দিয়ে অপা"রেশন রুমে চলে গেলেন।

এই ধরনের অপারেশনের জটিলতা অনেক। একদিকে বা'চ্চা মাত্র ২৭+ সপ্তাহ। এতো ছোট বাচ্চাকে বাঁ'চা'নো টাফ, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বাঁ'চা'নো যায় ই না। তার উপর গ'র্ভ'ফুল এসে জরায়ুর মুখে ঢেকে ফেলেছে। সুতরাং গ'র্ভ'ফুল ছাড়ানোর সময় অনেক বেশি পরিমাণ র-ক্ত-পাত হয়। অ'তি'রি'ক্ত র-ক্ত-ক্ষ-রণে রো-গী মা%রাও যেতে পারে‌।

সবকিছু রো-গীর স্বামীকে বুঝিয়ে বলা হলো, পারমিশন নেওয়া হলো। আমরা আগে থেকেই ICU কল লিখে রাখলাম, ৬-৭ ব্যাগ র%ক্ত রেডি করে রাখতে বললাম।

অবস্থা খারাপ দেখে আমি ২ বার ICU তে গে-ছি খোঁ'জ নিতে যে বেড খালি আছে কিনা। ৬ তলার ICU তে খালি নাই, ৩ তালার ICU তে খালি নাই, ইমারজেন্সির OESC ICU তেও খালি নাই। সব জায়গায় খোঁ-জ নিয়েছি নিজে সরাসরি গিয়ে।

রো-গীর লোকজন ব্লাড ব্যাংকে গিয়ে কিভাবে কি করবে বুঝতেছে না। পরে ম্যাডাম আমাকে বললো তুমি ৩ তালায় ব্লা-ড ব্যাংকে গিয়ে কথা বলে আসো দ্রুত যেন র-ক্তে-র ব্যবস্থা করে দেয়, গেলাম ব্লা-ড ব্যাংকে। ব্লাড ব্যাংকের স্টাফ দের সবকিছু বলে আসলাম যে ইমারজেন্সি ব্লাড যেনো টেনে দেওয়া হয়। তারাও সর্বোচ্চ চেষ্টা করতেছে দ্রুত র-ক্ত টেনে দেয়ার জন্য।

এরপর আমি উপরে আসলাম। ম্যাডামরা প্লাজমাসল দিয়ে অপারেশন শুরু করলেন আল্লাহ্‌'র নাম নিয়ে। ৪ জন সিনিয়র ম্যাডাম, ২ জন রেজিস্ট্রার ম্যাডাম—টোটাল ৬ জন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সাথে একজন অভিজ্ঞ এ্যানেসথেসিয়া বা অজ্ঞানের ডাক্তার।

আর বাইরে রোগীর লোকের সাথে যোগাযোগ, রক্ত ম্যানেজ, ICU এসব ম্যানেজের জন্য অপারেশন রুমের বাইরে আমরা ২ জন ডাক্তার।

দৌড়াদৌড়ি করতে করতে শে'ষ। তার উপর দুপুরে খাওয়ার সময়ও হয়নি, তখন বাজে বিকাল ৪ টা, সকালে ১ টা সিঙ্গারা খেয়েছিলাম কেবলমাত্র।

রো-গী-র স্বামীকে কল দিয়ে বারবার খোজ নিচ্ছি র-ক্ত জোগাড় হইছে কিনা।

এরপর হঠাৎ নার্স কোলে করে কাপড় প্যাঁচানো বাচ্চা কে নিয়ে বের হলো। দেখতে সুন্দর, তাকাচ্ছে কতো সুন্দর। কা'ন্না ও করছে, শ্বাস নিচ্ছে। কিন্তু বা'চ্চার ওজন অনেক কম। সাধারণত ২৮ সপ্তাহের আগে বাচ্চা শ্বাস নিতে না পারার কারণে মা%রা যায়। কিন্তু আল্লাহর অশেষ রহমতে এই বাচ্চার বয়স প্রায়ই ২৮ সপ্তাহ এবং শ্বাস ও নিচ্ছে।

নানীকে বা'চ্চা দিয়ে শিশু বিভাগে পাঠায়ে দেওয়া হলো। জানি না আল্লাহ্‌ বাচ্চাটার কপালে কি লিখছে। আমরা যে পরিমাণ কষ্ট করেছি, দোয়া করেছি, সেই কষ্টের ওসিলায় আল্লাহ্‌ বাচ্চাটাকে বাঁ-চি-য়ে দিও।

এরপর আবার অপারেশন রুমের কাছে ফিরে এলাম, মায়ের র-ক্ত-ক্ষ-রণ বেশি হচ্ছে। ম্যাডামরা রো-গী-র জীবন বাচাতে শেষ পর্যন্ত জরায়ু কে-টে ফেলার সি'দ্ধা'ন্ত নিলেন।

এতোক্ষণ স্বামী ব্লাড ম্যানেজ করতে ব্যস্ত ছিলো। কল করলাম। স্বামী ব্লাড ব্যাংক থেকে অপারেশন রুমের সামনে আসলো। বললাম "ভাই, আপনার বাচ্চা কে শিশু বিভাগে পাঠিয়েছি। কিন্তু আপনার স্ত্রীর র-ক্ত-পা-ত হচ্ছে। স্ত্রীর জীবন বা-চা-তে জরায়ু কে-টে ফেলতে হচ্ছে।"
"স্যার, মানুষ না বাঁচলে জরায়ু দিয়ে কি করবো স্যার?"
কাঁ-দ-তে কাঁ-দতে স্বামী এটাই উত্তর দিলো আমাকে। কথাটা শুনে নিজেও শান্ত থাকতে পারলাম না। উনাকে স্বান্তনা দিয়ে চলে আসলাম আবার অপারেশন রুমে।

বিকাল ৫ ট বেজে গেছে। ৩ ব্যাগ র-ক্ত অলরেডি রোগীকে দেওয়া হয়ে গেছে অপারেশন টেবিলে।

অনেক কষ্টের পর ম্যামরা জরায়ু কে-টে ফেলতে এবং র-ক্ত-পাত ব'ন্ধ করতে স'ক্ষ'ম হয়। কিন্তু প্রেশার বারবার কমে যাচ্ছিল এ্যানেসথেশিয়ার স্যারও আপ্রাণ চেষ্টা করেন। সবশেষে অপারেশন শেষ হয়।

রোগীকে পোস্ট-অপারেটিভ রুমে শিফট করা হয়। রোগীকে ফলোআপ দিয়ে আসলাম রাত ৮ টায়। আলহামদুলিল্লাহ্‌ ভালো আছে রোগী এখন। জীবন-মৃ%ত্যু%র সন্ধিক্ষণ থেকে আল্লাহ্‌ উনাকে ফিরিয়ে দিয়েছেন। আল্লাহ্‌ হয়তো চাননি বাচ্চা টা মা হা-রা হয়ে যাক, স্বামী টা স্ত্রী হা-রা হয়ে যাক।

পরে বাচ্চার খোজ নিলাম। বাচ্চা ও ভালো আছে। এটা আসলে আমাদের কাছেও অবিশ্বাস্য লাগছে। ২৭+ সপ্তাহের বাচ্চা বাঁ-চে কম। তবে আল্লাহর ইচ্ছায় মিরাকেল ঘটেছে হয়তো। সবই আল্লাহর ইচ্ছা।

আমরা আমাদের জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি এবং করে থাকি। অপারেশন শেষ করে সেই ম্যাডামরা ৬ টার দিকে বাড়িতে গেছেন। অথচ তাদের ডিউটি টাইম ছিলো ২:৩০ পর্যন্ত। সকালে ১০ মিনিট লেটে আসলে মিডিয়ায় চলে যায়, অথচ ডিউটি টাইমের বাইরে ৪/৫ ঘন্টা ডিউটি করে, এটা মিডিয়ায় যাবে না।

অনেকে বলে সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা ভালো হয় না। অথচ আমি দেখেছি আমাদের মেডিকেলে আমরা কতো ভালো ভাবে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করি।

ICU এর জন্য আমরা নিজেরা ডাক্তাররা দৌড়াচ্ছি,ব্লাড ম্যানেজ করতে ব্লাড ব্যাংকে দৌড়াচ্ছি। আর্জেন্ট রোগী হলে নিজে সাথে গিয়ে দাঁড়িয়ে থেকে আ'ল্ট্রা করায়ে আনতেছি। এরপরও ফেসবুকে লোকজন বলে আমরা ক'সা'ই।😀

~ডাঃ মেহেদী হাসান সাগর #কালেক্টেড

Address

Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when পঁচা কবি posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share