07/03/2023
আজ ০৭ ই মার্চ মঙ্গলবার দিবাগত রাতটি হচ্ছে “লাইলাতুন নিসফি মিন শা'বান তথা মধ্য শাবানের রাত”।
হাদীসে পাকে বর্ণিত আছে, রাসূল সল্লল্লহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
“আল্লাহ তা'য়ালা মধ্য শাবানের রাতে আত্নপ্রকাশ করেন এবং মুশ-রিক ও হিংসুক ব্যক্তি ব্যতীত তাঁর সৃষ্টির সকলকে ক্ষমা করে দেন।” [সুনানে ইবনে মাজাহ- ১৩৯০]
অর্থাৎ এই রাত্রিতে মহান আল্লাহ তা'য়ালা দুই শ্রেণীর মানুষ অর্থাৎ মুশ-রিক এবং বিদ্বেষ পোষণকারী (হিংসুক) ব্যতীত সকলকেই ক্ষমা করে দেন। তাই আমাদের সকলের উচিত প্রতিদিনের ন্যায় এই রাত্রিতেও বেশি বেশি ক্ষমা প্রার্থণা করা।
তবে বর্তমানে শবে বারা'আতকে কেন্দ্র করে যে সকল মিলাদ-মাহফিল, জলশা-জুলুশ, হালুয়া রুটি ইত্যাদী খাবারের আয়োজন করা হয়, এসবের কোনো ভিত্তি কুরআন হাদীসে নেই। এসব কাজকে সুন্নাহ এবং জরুরী মনে করে করলে বিদ'আত হবে। আর বিদআতকারীর কোনো ইবাদত আল্লাহ তা'য়ালা কবুল করবেন না এবং বিদআতী ব্যক্তি হাউযে কাউসারেরও পানি পাবে না। [সহীহ বুখারী- ৭২৭৭]
আবার অনেকে আছে যারা শবে বারা'আতকে কেন্দ্র করে শবে বারা'আতের নিয়তে নির্দিষ্ট করে ১২ রাকাত নফল নামাজ আদায় করে থাকে। এসব আমলেরও কোনো ভিত্তি কুরআন হাদীসে নেই, এসবই মানুষের বানানো ভিত্তিহীন আমল।
তবে একটি দুর্বল হাদীসে এই দিনে রোজা রাখার কথা বলা হয়েছে। তাই এই দিনে রোযা রাখা সুন্নত আমল নয়, বরং কেউ কেউ বলেছেন মুস্তাহাব আমল। আর যেহেতু একটি দূর্বল হাদীসে নফল রোজা রাখার কথা বলা হয়েছে, তাই কেউ চাইলে এই দিনে নফল রোজা রাখতে পারবে। আর রাসূল সল্লালাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম শাবান মাসে খুব বেশি পরিমাণে রোজা রাখতেন, তাই এই মাসে যেকোনো দিন নফল রোজা রাখা যাবে ইন শা আল্লাহ।
আবার প্রতি আরবী মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ রোজা রাখা সুন্নত। এই রোজাকে আইয়্যামে বীজে রোজা বলা হয়। তাই সেই দৃষ্টিকোণ থেকে এই দিন সমূহে আইয়্যামে বীজের নিয়তে রোজা রাখা যেতে পারে ইন শা আল্লাহ। চলতি মাসের আইয়্যামে বীজের রোজা ০৬, ০৭, ০৮ ই মার্চ অর্থাৎ সোম, মঙ্গল এবং বুধবার রাখতে হবে। অর্থাৎ আগামীকাল রাতে সাহরী খেতে হবে।
সর্বোপরি মূল কথা হচ্ছে, আপনারা সকলেই রমাদানের প্রস্তুতি স্বরূপ এই রাত্রিতে সাধ্য মোতাবেক কিছু নফল নামাজ (যেমনঃ- সালাতুত তাসবীহ, সালাতুল হাজত, তাহাজ্জুদ, পূর্বের কাজা নামাজ), কুরআন তিলাওয়াত, জিকির আযকার, তাসবীহ তাহলীল ও তওবা এস্তেগফার পাঠ করতে পারেন ইন শা আল্লাহ। তবে নির্দিষ্ট করে শবে বরাতের নিয়তে কোনো প্রকার নফল নামাজ আদায় করবেন না, অন্যথায় সেটা বিদ'আত বলে গন্য হবে।
আমলের নিয়তে এবং দ্বীন প্রচারের উদ্দেশ্যে লিখাটি কপি করে নিজ নিজ আইডি, স্টোরি এবং গ্রুপগুলোতে পোষ্ট করে দিবেন ইন শা আল্লাহ। এতে করে আপনাদের উছিলায় অনেকেই সঠিক আমল সম্পর্কে জেনে আমল করতে পারবে এবং তা আপনাদের জন্যও সদকায়ে জারিয়াহ হিসেবে গন্য হবে ইন শা আল্লাহ