02/10/2025
শহীদুল আলম সেদিন রাস্তায় দাঁড়িয়ে স্বৈরাচ্যবিরোধী আন্দোলনের ছবি তুলছিলেন — জীবনের ঝুঁকি নিয়ে।
এমন রিস্ক দেখে পুলিশ এসে তাকে জিজ্ঞেস করেছিল, “আপনি কী বিদেশি সাংবাদিক?”
শহীদুল নির্লিপ্তভাবে উত্তর দিয়েছিলেন, “না ভাই, আমি বাংলাদেশেরই সাংবাদিক।”
পুলিশ তখনও অবাক হয়ে বলেছিল, “বিদেশি সাংবাদিকরা তো এমন সাহস করে — মৃত্যু কি খাটোই না? আপনার এত রিস্ক নিয়ে ছবি তোলার দরকার কী?”
শহীদুল একটা মুচকি হাসি দিয়ে বলেছিলেন, “আমরা ছবি তুলে না জানালে দেশের মানুষ সত্যিটা জানবে কী করে।”
জীবন কিছুটা সাধারণ কোনো মানুষটিই লন্ডনে রসায়ন পড়ে ভর্তি ছিলেন। পরবর্তীকালে বুঝতে পেরেছিলেন—রসায়ন নয়, তার জন্য ফটোগ্রাফি। এরপর থেকে যেখানে অন্যায় দেখতেন, এগিয়ে যেতেন; ছবি তুলে সত্যিটা ছড়িয়ে দিতেন, ন্যায়বিচারের আহ্বান জানাতেন।
বন্ধুরা তখন মজার ছলে বলত—“তুই তো রসায়ন ল্যাব থেকে সরাসরি ফটো-লাবে ঢুকে পড়েছিস!” শহীদুল সেই কথায় হেসে উল্টো দিতেন।
সহজ পোশাকে চলা এই মানুষটি অসংখ্য আন্তর্জাতিক পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন, লন্ডনে নাগরিকত্বও পেয়েছিলেন। তবু তিনি সেই বিলাসিতা ত্যাগ করে দেশে ফিরে আসেন—দেবেন জীবনের সময় ও শ্রম অসহায় মানুষের জন্য।
যাকে অনেক অপশন রেখে দেশে ফিরেছেন, যাঁর নামে সরকারী ভীতি দেখা গেল—তাঁর অপরাধ একটাই ছিল: অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা, অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়া।
বাংলাদেশের রাজনীতিবিদরা যেখানে ক্ষমতার হিসেব-নিকেশে ব্যস্ত, শহীদুল তখনও মৃত্যুর স্রোতকে অস্বীকার করে মানবতার পক্ষে ফিলিস্তিনের দিকে ছুটে যাচ্ছিলেন—উদ্দেশ্য একটাই: ফিলিস্তিনকে সমর্থন জানানো, ক্ষুধার্ত মানুষদের বাঁচানো।
তার বন্ধুরা মাঝে মাঝে তাকে ‘পাগলো’ বলে ডাকত; তিনি হেসে দিতেন। শেষ পর্যন্ত তাঁর একটাই চাওয়া—বেঁচে ফিরে আসা, ফিলিস্তিনের জন্য বিজয় নিয়ে ফেরা।
এমন মানুষটি আমাদের গর্বের—দেশের এত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের ভিড়ে হয়তো আজও আমরা গর্ব করে বলতে পারি, “আমাদের একজন শহীদুল আলম আছেন।
(সংগৃহীত)