18/08/2026
মহিলা বাস চালু হতেই কারও কারও পুরুষত্বে যেন জরুরি অবস্থা নেমে এসেছে! 🤭
নারীদের জন্য আলাদা বাস চালু হয়েছে খবরটা শুনে খুশি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু না! কিছু মানুষের প্রতিক্রিয়া দেখে মনে হচ্ছে, সরকার তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি থেকে একটা বাস তুলে নিয়ে গেছে!
কেউ বলছে, “এই রুটে মহিলা বাস চললে আমি ওই রাস্তা দিয়েই যাব না।”
ভাই, যাবেন না। রাস্তা তো আপনাকে ধরে টেনে নিয়ে যাচ্ছে না!
কেউ আবার বলছে, বাসের পেছনে অ্যাম্বুলেন্স রাখতে হবে!
কী অসাধারণ রসবোধ! অথচ এই একই সৃজনশীলতা যদি সমাজে সম্মান, শৃঙ্খলা আর নিরাপত্তা তৈরিতে ব্যয় করতেন তাহলে হয়তো আপনাকেই মানুষ বাহবা দিত।
সত্যিটা হলো, নারীদের জন্য আলাদা বাস চালু হওয়ায় আপনাদের কারও চলাফেরা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে না। আপনার বাস কেড়ে নেওয়া হচ্ছে না। আপনার রাস্তা বন্ধ হচ্ছে না। আপনার অধিকারও কেউ হরণ করছে না।
তাহলে এত জ্বালা কেন?নাকি সমস্যা বাসে নয় সমস্যা হলো, এতদিন নারীদের গণপরিবহনে যে অস্বস্তি, হয়রানি আর অনিরাপত্তার মধ্য দিয়ে চলতে হতো, সেটাকেই কিছু মানুষ স্বাভাবিক বলে ধরে নিয়েছিল?
নারীরা নিরাপদে বাসে উঠবে, এতে আপত্তি।
নারীরা স্বস্তিতে যাতায়াত করবে, এতে আপত্তি।
নারীরা নিজেদের জন্য আলাদা পরিবহন সুবিধা পাবে, এতেও আপত্তি।
অথচ একজন নারীর প্রতিদিনের গণপরিবহন অভিজ্ঞতা কেমন, সেটা নিয়ে প্রশ্ন করলে অনেকের মুখে তালা পড়ে যায়!মহিলা বাস কোনো পুরুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নয়। এটা নারীদের নিরাপত্তার জন্য একটি ব্যবস্থা।
আর যারা এই উদ্যোগ নিয়ে অশ্লীল ইঙ্গিত, কুরুচিপূর্ণ রসিকতা কিংবা অবমাননাকর মন্তব্য করছেন, তাদের বলছি, নারীদের জন্য বাসের সার্ভিসিংয়ের চেয়ে আগে নিজেদের মানসিকতার সার্ভিসিং করুন।
কারণ বাসে নারী-পুরুষ পাশাপাশি চলতে পারে, কিন্তু সভ্যতা আর কুরুচি পাশাপাশি চলতে পারে না। নারীরা নিরাপদে চলবে, নারীরা কাজ করবে, নারীরা চালক হবে, কন্ডাক্টর হবে, রাস্তায় নামবে এটাই স্বাভাবিক।
অস্বাভাবিক হলো একজন নারী একটু নিরাপদে চলাফেরা করার সুযোগ পেলেই কারও কারও এত অস্বস্তি শুরু হয়ে যাওয়া।
মহিলা বাসকে নিয়ে হাসাহাসি করার আগে আয়নায় একবার তাকান।
সমস্যাটা বাসের সিটে, রুটে কিংবা চালকের আসনে নাও থাকতে পারে সমস্যাটা হয়তো আপনার চিন্তার ভেতরেই বসে আছে।
নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে ঠাট্টা নয় সম্মান দেখানো শিখুন।
কারণ একটি সভ্য সমাজে নারী নিরাপদে চলবে এটা কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, এটা ন্যূনতম অধিকার। 🖤