16/01/2022
অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের প্রতি দানের হাত বাড়িয়ে দেওয়া রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাত এবং মানবিক কর্তব্য।
- আজকে আমরা ভার্সিটির ক্লাস শেষ করে ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবর সবাই বসলাম আর তখনি আমাদের সামনে একজন মায়ের বয়সি মুরুব্বি তার অসুস্থ মেয়েকে ঢাকা থেকে পাবনা গ্রামের বাড়ি) যাওয়ার জন্য গতকাল থেকে ২টা টিকিটের টাকার জন্য যেতে পারছে না। এই কথা গুলো বলছে আর ফুপিয়ে ফুপিয়ে কান্না করছে আমাদের সবার সামনে। তখন কয়েকজন বন্ধু তৎক্ষনিক যে যা পারছে তাই সাহায্য দিয়েছে কিন্তু দুইটা টিকিটের টাকার হচ্ছে না। উনি আমাদের সামনে থেকে যেতেই চাচ্ছিলো না।সবার কাছেই ১০-২০ টাকার জন্য হাত বাড়িয়ে দিলেও উনাকে খালি হাতে ফিরতে হয়েছিল। আমরা তখন সবাই আশে পাশে লোকজনের কাছে উনার জন্য চাওয়া শুরু করি আলহামদুলিল্লাহ ২০ মিনিটে মধ্যে ২ টা টিকিটের বাকি টাকা ম্যানেজ হয়ে যায়। ২০ মিনিটে দেখতে পারছি যে মানুষের কাছে অসহায় দের খালি হাত ফিরিয়ে দেওয়ার দৃশ্য। সবাই এক না।দয়া করে আমরা কাউকে সাহায্য করতে না পারলেও অন্যের বিপদের সময় আজে বাজে মন্তব্য না করি।
গরিবদের সাহায্যার্থে বিত্তবানদের এগিয়ে আসা উচিত এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে উত্তম নেক আমল এটিই। যেমন- কোরআনে জান্নাতিদের দানের প্রশংসায় আল্লাহতায়ালা বলছেন, তারা আল্লাহর প্রেমে অভাবগ্রস্ত, এতিম ও বন্দীকে খাদ্য দান করে। (সূরা দাহর, আয়াত ৮)। অর্থাৎ জান্নাতবাসীরা নিজেদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাদ্যই দান করে না বরং নিজেদের প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও গরিব ও অভাবী মানুষদেরকে আল্লাহর ভালোবাসায় দান করে। তাই সমাজের উঁচু শ্রেণির বিত্তবানদের উচিত খেটে খাওয়া দিনমজুর মানুষের কল্যাণে ঝাঁপিয়ে পড়া।
ফরজ ইবাদতের পর এটিই এখন দ্বিতীয় ইবাদত এবং উত্তম নেক আমল। যেমন- রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহতায়ালার কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো কোনো মুমিনকে সুখী/ খুশি করা; তার কোনো সংকট দূর করা অথবা তার কোনো ঋণ থাকলে পরিশোধ করে দেওয়া বা তার ক্ষুধা নিবারণ করা। বায়হাকি।
গরিব নিম্নবিত্ত মানুষের শ্রমে-ঘামে বিত্তবানরা যে সম্পদ উপার্জন করেছেন, এখন উচিত এই দুর্যোগে ঘরে বন্দী শ্রমজীবী মানুষের খাদ্য সংকট দূর করা এবং ভোগবিলাসিতা ও অপচয়ের টাকাগুলো দিয়ে বন্দী অসহায় শ্রমজীবী মানুষের প্রতি সাহায্যের হাত প্রসারিত করা। বর্তমান প্রেক্ষাপটে দিনমজুর মানুষ তার পরিবারের জন্য দুই থেকে তিনবেলা আহার জোগান দেওয়া তো দূরের কথা; এক বেলাতেও হিমশিম খাচ্ছেন, যা কোনো মানুষ ঘর থেকে বের হলেই উপলব্ধি করতে পারবে। বিত্তবানরা যদি দারিদ্র্য সমস্যার প্রতিকারে এগিয়ে না আসেন; তাহলে আর কারা আসবে? যেমন- কোরআন বলছে, ধনীদের সম্পদে রয়েছে গরিবের অধিকার। সূরা আল জারিয়াত, আয়াত ১৯। তাই প্রত্যেক বিত্তবানদের উচিত ক্ষুধার্তকে আহার দেওয়া, নিরাশ্রয়কে আশ্রয় দেওয়া ও #বিপদগ্রস্তকে সাহায্য করা। যেমন- রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা ক্ষুধার্তকে খাদ্য দাও, অসুস্থ ব্যক্তির সেবা কর, বন্দীকে মুক্ত কর অথবা ঋণের দায়ে আবদ্ধ ব্যক্তিকে ঋণমুক্ত কর- বুখারি। তাই আমাদের সবার দারিদ্র্যবিমোচনে এবং এই মহা দুর্যোগে দানের মানসিকতার বিকাশ চাই। শ্রমজীবী মানুষের পাশে সহযোগিতা ও দানের হাত প্রসারিত চাই। যেমন- কোরআন বলছে, আল্লাহ তোমাদেরকে যে ধন-সম্পদ দিয়েছেন, তোমরা তা থেকে তাদেরকে দাও অর্থাৎ দান কর। সূরা নূর, আয়াত ৩৩। কোরআন মানুষকে দানের কথা বারবার এই জন্য বলেছেন কারণ, দান না করলে সমাজের মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের কাছে সম্পদ পুঞ্জীভূত হয়ে পড়বে, এতে গরিবের সংখ্যা বেড়েই চলবে। তাই কোরআন নামাজ প্রতিষ্ঠার সঙ্গে জাকাতের কথা বারবার বলছে, যেমন কোরআন বলছে, তোমরা নামাজ প্রতিষ্ঠা কর, জাকাত প্রদান কর এবং আল্লাহকে উত্তম ঋণ দাও অর্থাৎ দান কর। সূরা মুজ্জাম্মিল, আয়াত ২০। খেটে-খাওয়া দিনমজুর মানুষের মাঝে বিত্তবানদের সম্পদ বণ্টন করে তাদের শ্রমের মর্যাদা দেওয়া হোক। বাংলাদেশে অনেক বিত্তবান মানুষ আছেন, দারিদ্র্যবিমোচনে একটু এগিয়ে এলে এবং বর্তমান সময়ে একটু সহযোগিতার হাত বাড়ালেই আশা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। সেই সঙ্গে কমে আসবে ধনী-গরিবের মাঝে বৈষম্য। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
আল্লাহতায়ালা বলেন, হে আদম সন্তান! তুমি দান কর, আমিও তোমাকে দান করব। বোখারি, মুসলিম। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন, তোমার সামর্থ্য অনুসারে সামান্য হলেও দান কর। বোখারি, মুসলিম। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ধনী-গরিবের মাঝে বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে উম্মতকে বলেছেন, কারও যাপিত জীবনে এক দেরহাম দান করা, মৃত্যুকালে ১০০ দেরহাম দান থেকে অধিক উত্তম। আবু দাউদ। শুধু এতটুকু বলেই ক্ষান্ত হননি, বরং মানুষকে দানের প্রতি উৎসাহ দেওয়ার লক্ষ্যে বলেছেন, দানশীলতা বেহেশতের একটি বৃক্ষস্বরূপ। যে ব্যক্তি দানশীল, সে যেন তার একটি শাখা ধরেছে, তখন শাখা তাকে ছাড়বে না (হাশরের ময়দানে) যতক্ষণ পর্যন্ত না তাকে জান্নাতে পৌঁছিয়ে দেয়। বায়হাকি। মানুষ যাতে দান করার পর এ কথা চিন্তা না করে যে, আমার সম্পদ কমে গেল কিনা। তাই রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, দান সম্পদ কমায় না। মুসলিম। আর যে দান করে না, তাকে সতর্ক করার জন্য (নিম্নবর্ণিত হাদিসের শেষে) বলেছেন, কৃপণ ব্যক্তি আল্লাহতায়ালার কাছ থেকে দূরে, মানুষ এবং বেহেশত থেকে দূরে, অথচ দোজখের নিকটে। তিরমিজি। তাই বাংলাদেশের সব বিত্তবান মানুষের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি, খেটে-খাওয়া শ্রমজীবী মানুষের প্রতি একটু সাহায্যের হাত প্রসারিত করুন।
Poverty Foundation