30/10/2025
মাওলানা মওদুদীকে যখন "ডারতের দালাল" বলা হয়েছিল:
==================================
২০২৪ এর ৫-ই অগাস্টের আগে ডারতের সমালোচনা করলে জং--ই, স্বাধীনতাবিরোধী আর 'পাকিস্তানের প্রেতাত্মা' জাতীয় ট্যাগ দেয়া হতো।
২০২৫ এর জুন থেকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রযন্ত্র এবং বিশেষ করে সেনাবাহিনীর সমালোচনা করা হলে জং--ই, ডারতীয় দালাল, র'এর এজেন্ট ইত্যাদি ট্যাগ দেয়ার ট্রেন্ড শুরু হয়েছে।
কিছুদিন আগে গুনভী ভাইকে টিটিপি নেটওয়ার্কের অংশ বলে অপবাদ দেয়া হয়েছে, শুধু তিনি গাযওয়া সম্পর্কিত হাদীসের আলোচনা এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সমালোচনা করেছিলেন বলে।
এই নতুন বয়ান তৈরি করছে একটা পেশাদার গোষ্ঠী, কিন্তু এর প্রচার ও সমর্থন দিচ্ছে কিছু রাজনৈতিক সংগঠনের সদস্য বা সমর্থক। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী-র সদস্য এবং সমর্থকদের অন্তত একটি অংশ যেকোন মূল্যে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর সমর্থন করাকে যেন নিজেদের দায়িত্ব বানিয়ে নিয়েছেন।
স্রেফ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সমালোচনার কারণে হরেদরে মানুষকে ট্যাগ দিচ্ছেন অনেকে। অনেকে আবার অদ্ভূত কোন বুদ্ধিবৃত্তিক জিমন্যাস্টিকসের তোড়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সমালোচনা করাকে বাংলাদেশের জন্য নিরাপত্তা হুমকি বানিয়ে ফেলেছেন। কওমী মাদ্রাসাগুলো বাংলাদেশের জন্য সিকিউরিটি থ্রেট বলে দিচ্ছেন।
মজার ব্যাপার হল, পাকিস্তানের রাষ্ট্রযন্ত্র ও সেনাবাহিনীর সমালোচনার কারণে মাওলানা মওদুদীকেও ডারতের এজেন্ট ও দালাল ট্যাগ দেয়া হয়েছিল।
ড. ভালি নাসর, ভ্যানগার্ড অফ দা ইসলামিক রেভ্যূলুশান বইতে সংক্ষেপে ঘটনাটা তুলে ধরেছেন এভাবে:
"১৯৪৮ সালের এপ্রিলে কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ডারত ও পাকিস্তান একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। চুক্তির শর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল—উভয় দেশের সরকার একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই করা থেকে বিরত থাকবে।
তবে পাকিস্তান গোপনে কাশ্মীরের স্বাধীনতার জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিল। মাওলানা শাব্বির আহমদ উসমানীকে লেখা এক চিঠিতে মাওলানা মওদুদী বলেন—
সরকার যেহেতু চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে, তাই এর শর্তাবলি সকল পাকিস্তানি নাগরিকের জন্য মেনে নেওয়া বাধ্যতামূলক। শরীয়াহ অনুযায়ী, একটি মুসলিম সরকার এবং তার নাগরিকরা যে চুক্তিতে স্বাক্ষর করে, সেই চুক্তির শর্তাবলী মেনে চলতে বাধ্য থাকে।
এই চিঠি নিয়ে গুজব ছড়াতে শুরু করে। চিঠিটিকে কাশ্মীরের জিহাদের বিরুদ্ধে একটি ফতোয়া হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়।