20/06/2026
"সমস্যাকে সমস্যা হিসেবে দেখতে হবে,এটাকে দলীয়করণ করা যাবে না"
এ কথার মর্ম সবার বোঝা উচিত, তা না হলে সমাজ, রাষ্ট্র কখনও সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাবে না।আল্লাহ হেফাজত করুক এই রাষ্ট্র ও সমাজকে।
"জাইমা রহমানকে নিয়ে একটা কার্টুন দেখলে আমার মনে হয় দিছে ভালোই দিছে, তাহলেই শেষ? আমি হেরে গেলাম এই সোসাইটিতে!
আমরা যদি রাজনৈতিক ভিন্নতার কারণে অন্যের সম্মানহানি দেখে আনন্দ পাই, তবে দিনশেষে আমরা সবাই হেরে যাব। জাইমা রহমান যদি আমার রাজনৈতিক বিরোধী পক্ষও হন, আর তাঁকে নিয়ে বানানো কোনো নোংরা কার্টুন দেখে যদি আমার মনে হয়, 'বেশ হয়েছে, ভালোই হয়েছে', তবে আমি নৈতিকভাবে হেরে গেলাম।
একইভাবে, বিএনপির কেউ যদি আমার কোনো ক্ষতি বা লাঞ্ছনা দেখে আনন্দ পায়, তবে ওনারাও হেরে যাচ্ছেন।
আমাদের সমস্যাকে 'সমস্যা' হিসেবেই দেখতে হবে একে দলীয়করণ করা যাবে না। 'আদার সাইড' বা 'এই সাইড' ভুলে যেদিন আমরা সবাই মানুষের সম্মানের পক্ষে এক জায়গায় দাঁড়াতে পারব, সেদিনই প্রকৃত সমাধান আসবে।
আমার দলের কোনো কর্মী যদি এসে বলে, 'আজকে তো অপর পক্ষকে একটা বাঁশ দিয়ে এসেছি বা ছ্যাঁকা দিয়ে এসেছি' আমি যেন তার কানের ওপর দুটো থাপ্পড় লাগিয়ে বলতে পারি, 'খবরদার, ওটা বন্ধ করো! ওটাও একটা মানুষের ইজ্জত, ওটাও একটা ব্যক্তিগত সম্মান।'
দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে কেউ অন্তত আমাকে এই জায়গায় ফ্রেম করতে পারবেন না, ইনশাআল্লাহ। ৫ই আগস্টের পর যখন কিছু জায়গায় নারীর ব্যক্তিগত পোশাক রাস্তায় এনে প্রদর্শন করা হচ্ছিলো এবং মানুষ ফূর্তি করছিলো আমি তীব্রভাবে তার বিরোধিতা করেছি।
আমি একটা রাজনৈতিক রেজিম বা শাসনের বিরোধিতা করতে পারি, কিন্তু একজন মানুষের মানবিক সম্মান রক্ষা করা আমার কাছে সবার আগে। এখানে আমাদের সবাইকে একমত হতেই হবে।
আমাদের বোনেদের উদ্দেশ্যে আমি একটা কথা বলতে চাই আমাদের চামড়াটা একটু মোটা করতে হবে, নিজেদের মানসিকতাকে আরও শক্ত করতে হবে। ডাব গাছে কেউ সহজে ঢিল মেরে ডাব পাড়তে পারে না, কারণ গাছটা অনেক উঁচুতে থাকে। আমাদের নিজেদের যোগ্যতা ও ব্যক্তিত্বকে সেই উচ্চতায় নিয়ে যেতে হবে। কেউ একটা কটু কথা বলল আর আমরা কেঁদে বুক ভাসালাম এতে সেই কটূক্তিকারীই আনন্দ পায় যে সে আমাদের আঘাত করতে পেরেছে। তাদের এই সুযোগ দেওয়া যাবে না। প্রতিক্রিয়া অবশ্যই দেখাবেন, দরকার হলে উল্টো দুটো কড়া কথা শুনিয়ে দেবেন, কিন্তু ভেঙে পড়বেন না।
আমাদের সমাজটা বৈচিত্র্যময়। এখানে বিভিন্ন মতাদর্শের ও বিভিন্ন পোশাকের মানুষ একসাথে থাকবে এটাই বাস্তব বাংলাদেশ।
আপনি যদি সমাজকে শতভাগ প্রগতিশীল বানাতে চান, কিংবা শতভাগ হুজুরদের রাষ্ট্র বানাতে চান মনে রাখবেন, পবিত্র কোরআনও কিন্তু ভিন্ন মতের মানুষের সহাবস্থানের অনুমোদন দেয়। আপনার ব্যক্তিগত জীবনে আপনার স্ত্রী কেমন হবে, সেই বাছাই করার অধিকার আপনার আছে। কিন্তু সমাজে একটা মেয়ে কীভাবে বেঁচে থাকবে, কীভাবে চলাফেরা করবে সেটা ঠিক করে দেওয়ার দায়িত্ব আল্লাহ আপনাকে দেননি।
আমি কোরআন-হাদিস পড়েছি এবং আমি স্পষ্ট জানি যেটা আপনার ভালো লাগবে না, সেখান থেকে আপনার চোখ নামিয়ে চলে যান। রাস্তায় হাঁটার সময় আপনার পকেটে হয়তো ১০ টাকা আছে, আর দোকানের শোকেসে ২৫ টাকার খাবার রাখা আছে আপনি কি তখন সেই খাবারে আক্রমণ করেন? করেন না।
তাহলে একটা মেয়ের পোশাক-আশাক যদি আপনার পছন্দ না হয়, তবে কেন আপনার মনে হবে যে সেই মেয়েটি আপনার আক্রমণযোগ্য?
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, 'সেই ব্যক্তি প্রকৃত মুমিন নয়, যাঁর মুখ এবং হাত থেকে অন্য মানুষ নিরাপদ নয়।'
আপনি যদি ইসলামের নাম নিয়ে কাউকে আক্রমণ করেন, তবে এই হাদিসটি মাথায় রাখুন।
আর যদি প্রগতির নামে এই নোংরামো করেন, তবে আপনার প্রগতির বুলিই আপনাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর জন্য যথেষ্ট।"❤️
—মারদীয়া মমতাজ
(সংসদ সদস্য)
কপি পোস্ট
#সংসদ