31/05/2026
বাংলাদেশে কাঁচা চামড়া থেকে জুতা, ব্যাগ বা ওয়ালেট তৈরির উপযোগী ফিনিশড লেদার বানানো একটি দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া। অনেকে শুধু কোরবানির সময় “চামড়া” দেখেন, কিন্তু বাস্তবে একটি ব্যবহারযোগ্য লেদার তৈরির পেছনে বহু ধাপ, রাসায়নিক, বিদ্যুৎ, শ্রম, পানি শোধন—সব মিলিয়ে বড় শিল্পখাত কাজ করে।
বাংলাদেশে প্রধানত গরু, মহিষ ও ছাগলের চামড়া সবচেয়ে বেশি প্রক্রিয়াজাত হয়। এর মধ্যে গরুর চামড়া জুতা ও ব্যাগ শিল্পে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়।
সাধারণভাবে একটি কাঁচা চামড়া থেকে ফিনিশড লেদার হওয়ার ধাপ
একটি গরুর কাঁচা চামড়া জুতা বা ব্যাগে ব্যবহারযোগ্য হতে সাধারণত নিচের ধাপগুলো অতিক্রম করে:
১. Raw Hide / কাঁচা চামড়া সংগ্রহ
কোরবানি বা কসাইখানা থেকে সংগ্রহ করা হয়।
এই অবস্থায় চামড়ায় থাকে:
রক্ত
চর্বি
লবণ
পশম
আর্দ্রতা
এ অবস্থায় এটি দ্রুত পচে যেতে পারে।
২. Salting / লবণ সংরক্ষণ
চামড়াকে পচন থেকে বাঁচাতে প্রচুর লবণ ব্যবহার করা হয়।
বাংলাদেশে সাধারণত:
প্রতি গরুর চামড়ায় ৬–১২ কেজি পর্যন্ত লবণ লাগে।
এরপর কয়েকদিন স্টোর করা হয়।
৩. Beamhouse Process
এটি সবচেয়ে দুর্গন্ধযুক্ত ও ভারী অংশগুলোর একটি।
এখানে করা হয়:
ভিজানো (Soaking)
চুন দেওয়া (Liming)
পশম ছাড়ানো
মাংস ও চর্বি অপসারণ (Fleshing)
এই ধাপে চামড়ার ওজন অনেক কমে যায়।
৪. Deliming & Bating
চামড়াকে নরম ও নমনীয় করা হয়।
এখানে এনজাইম ও বিভিন্ন রাসায়নিক ব্যবহার হয়।
৫. Pickling
অ্যাসিড ও লবণের মাধ্যমে pH নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
৬. Tanning (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ)
এখানেই “চামড়া” আসল অর্থে Leather হয়।
বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত:
Chrome tanning
কখনও:
Vegetable tanning
Semi chrome tanning
ব্যবহার হয়।
এই ধাপের পরে চামড়া আর সহজে পচে না।
৭. Wet Blue Stage
এ অবস্থাকে “Wet Blue” বলা হয়।
বাংলাদেশ থেকে প্রচুর ওয়েট ব্লু একসময় রপ্তানি হতো।
৮. Retanning, Dyeing & Fatliquoring
এখানে:
রঙ করা হয়
নরম করা হয়
ফিনিশিং কেমিক্যাল দেওয়া হয়
৯. Drying & Finishing
শেষ পর্যায়ে:
শুকানো
পালিশ
এমবসিং
কোটিং
গ্রেইন ঠিক করা
হয়।
তারপর জুতা বা ব্যাগ কারখানায় পাঠানো হয়।
এক বর্গফুট ফিনিশড লেদার পেতে কত খরচ হতে পারে?
এটি নির্ভর করে:
চামড়ার মান
পশুর বয়স
কাটাছেঁড়া
ট্যানারি
রাসায়নিকের ধরন
ফিনিশিং
বিদ্যুৎ ও গ্যাস খরচ
পরিবেশ শোধন ব্যয়
ইত্যাদির উপর।
বাংলাদেশের বর্তমান শিল্প বাস্তবতায় আনুমানিক হিসাব:
ধরণ
প্রতি বর্গফুট আনুমানিক উৎপাদন খরচ
সাধারণ জুতার লেদার
৭০–১৪০ টাকা
মাঝারি মানের ব্যাগ লেদার
১২০–২৫০ টাকা
প্রিমিয়াম ফুল-গ্রেইন লেদার
২৫০–৫০০+ টাকা
এখানে শুধু ট্যানারি প্রসেসিং ধরা হয়েছে।
ব্র্যান্ডিং, কাটিং ওয়েস্টেজ, ডিজাইন, কারখানা খরচ যুক্ত হলে আরও বাড়ে।
একটি গরুর চামড়া থেকে কত বর্গফুট ব্যবহারযোগ্য লেদার পাওয়া যায়?
সাধারণভাবে:
মাঝারি গরুর চামড়া: ৩৫–৫০ বর্গফুট
বড় গরুর চামড়া: ৫০–৭০+ বর্গফুট
কিন্তু পুরোটা ব্যবহারযোগ্য হয় না।
কারণ:
ঘাড় অংশ শক্ত
পেট অংশ ঢিলা
কাটা দাগ
পরজীবীর ক্ষতি
ব্র্যান্ড মার্ক
ছুরি কাটা
ইত্যাদির কারণে কিছু অংশ বাদ যায়।
বাস্তবে জুতা বা ব্যাগের জন্য usable yield অনেক সময়:
৬০%–৮৫%
এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।
কেন বাংলাদেশে চামড়ার দাম অনেক সময় কমে যায়?
এখানে একটি বড় অর্থনৈতিক বাস্তবতা আছে।
কারণ:
কাঁচা চামড়া দ্রুত নষ্ট হয়
সংরক্ষণ দুর্বল
আধুনিক slaughterhouse কম
আন্তর্জাতিক মানের finishing সীমিত
পরিবেশগত নিয়মের চাপ
ট্যানারি বর্জ্য শোধনের উচ্চ ব্যয়
বাজারে মধ্যস্বত্বভোগী বেশি
বিশেষ করে কোরবানির সময় অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে দাম পড়ে যায়।
জুতা শিল্পে কোন ধরনের লেদার বেশি ব্যবহৃত হয়?
বাংলাদেশে জুতা শিল্পে সাধারণত ব্যবহৃত হয়:
Corrected grain leather
Cow crust leather
Nappa leather
Suede
Semi-aniline leather
ব্যাগে:
Full grain
Buffalo leather
Oil pull-up leather
চাহিদা বাড়ছে।
তথ্য: চ্যাট জিপিটি থেকে সংগৃহীত।