06/07/2026
আমাদের জিহ্বা কি আমাদের ধ্বংসের কারণ?👅
আমাদের প্রিয় নবী রাসুলুল্লাহ (সা.) বলছেন, "আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করা আর অন্য কারো ওপর মিথ্যা বলা এক কথা নয়।"
একটু ভেবে দেখুন, আপনি আপনার বন্ধুর নামে একটা বানিয়ে কথা বললেন, সেটা একটা পাপ। কিন্তু আপনি যখন বলেন, "আল্লাহর রাসুল (সা.) এটা বলেছেন" অথচ তিনি তা বলেননি" তখন আপনি আসলে কী করছেন? আপনি দ্বীনের ভেতরে এমন কিছু ঢোকাচ্ছেন যা আল্লাহ নাজিল করেননি। আপনি মানুষের ঈমান নিয়ে খেলছেন!
রাসুল (সা.) বলছেন, যে ব্যক্তি এই কাজটা স্বেচ্ছায় করবে, সে যেন জাহান্নামে তার সিট বুকিং করে নেয়। SubhanAllah!এটা কতটা ভয়ংকর চিন্তা করে দেখেছেন?
📌♦️ধর্মীয় বিষয়ে "আমার মনে হয়" বা "আমি অমুক জায়গায় শুনেছি" বলে কোনো মনগড়া কথা শেয়ার করার কোনো সুযোগ ইসলামে নেই।📌
আবার স্ক্রলিং কালচার এ তাকায়-📺
-----------------------
রাসুলুল্লাহ (সা:)বলেছেন, "কোনো মানুষের মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শোনে (যাচাই ছাড়া) তাই বলে বেড়ায়।"
আমাদের প্রিয় রাসুল (সা:) কিন্তু বলেননি যে আপনাকে বসে বসে বড় বড় মিথ্যা গল্প বানাতে হবে ; তবেই আপনি মিথ্যাবাদী হবেন।
না!
🌀🌀শুধু আপনার কান আর মুখের মাঝখানের ফিল্টারটা যদি নষ্ট হয়ে যায়, আপনি তাতেই আল্লাহর দরবারে 'মিথ্যাবাদী' হিসেবে সার্টিফাইড হয়ে যাবেন।👂
আজকে আমাদের ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ বা টিকটকের দিকে তাকান। একটা চটকদার নিউজ এলো, একটা স্ক্যান্ডাল এলো, একটা ফরোয়ার্ডেড মেসেজ এলো আমরা এক সেকেন্ডও ভাবি না।
🏈আমাদের আঙুল নিশপিশ করে 'শেয়ার' বাটনে চাপ দেওয়ার জন্য। আমরা ভাবি, "আরে সবাই তো দিচ্ছে, আমিও দিলাম!" কিন্তু আপনি কি জানেন? ওই একটা শেয়ারের কারণে যদি সমাজে কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়, কারো সম্মান নষ্ট হয়, তবে কেয়ামতের দিন ওই পুরো পাপের একটা অংশ আপনার আমলনামায় এসে জমা হবে। কারণ আপনি যাচাই না করে ওটা ছড়িয়েছেন।
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা:) বর্ণিত-তিনি বলেছেন, আপনি যদি একটা সত্য কথাও এমন কোনো মানুষের সামনে বলেন যার সেই কথাটি হজম করার মতো জ্ঞান বা বুদ্ধি নেই, তবে সেই সত্য কথাটাই তার জন্য 'ফিতনা' বা বিভ্রান্তি তৈরি করবে।
অনেকে মনে করে, "আমি তো সত্য কথাই বলছি, কার খারাপ লাগলো তাতে আমার কী?"
♦️♦️না, ভাইয়া! ইসলাম আপনাকে শুধু সত্য বলতে শেখায়নি, সত্যটা কখন, কার সামনে এবং কীভাবে বলতে হবে, সেই প্রজ্ঞাও শেখায়।
আপনি যদি একটা জটিল থিওলজিক্যাল বা ফিলোসফিক্যাল বিষয় নিয়ে একজন সাধারণ মানুষের সামনে তর্ক শুরু করেন, সে হয়তো দ্বীন নিয়েই সন্দেহে পড়ে যাবে। আপনার উদ্দেশ্য ভালো হতে পারে, কিন্তু আপনার পদ্ধতি ভুল। 🛑🛑
তাই আপনাকে বলছি , এরপর থেকে যখনই কোনো খবর শুনবেন, কোনো পোস্ট দেখবেন, বা কারো নামে কোনো কথা আপনার কানে আসবে
⭕থামুন। একটা গভীর শ্বাস নিন। নিজেকে প্রশ্ন করুন:
✅আমি কি এটা নিশ্চিতভাবে জানি?
✅এটা ছড়ালে কি আল্লাহর রাসুল (সা.) আমাদের প্রিয় নবীর সুন্নাহর কোনো অপমান হবে?
✅এটা শেয়ার করে কি আমি আল্লাহর কাছে একজন 'মিথ্যাবাদী' হিসেবে দাঁড়াতে চাই?
মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের আমাদের জিহ্বাকে এবং আমাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আঙুলগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার তৌফিক দান করুন।
আমিন