19/06/2023
#ছবি_দেখে_লিখি
শিরোনাম - "সুখের ছোঁয়া"
মা...ও মা..., আমার সেই লাল শাড়িটা দেখেছো, আলমারিতে পাচ্ছি না, নীলাঞ্জনার চিৎকারে নন্দিনী বললো কোন লাল শাড়ি?
- ওই যে যেটা পড়ে আমার স্কুলের ফাংশনে গিয়েছিলাম।
-দেখো মেয়ের কান্ড আমি কি লাল শাড়ি পড়ি যে আমার আলমারিতে শাড়ি থাকবে। দেখ কোথায় রেখেছিস সব তো আমিই গুছিয়ে রাখি।
নন্দিনী ও খুঁজতে লাগলো। অবশেষে সেটা পাওয়া গেলো একটি চেয়ারের নীচে থেকে। নীলাঞ্জনা জড়িয়ে ধরলো নন্দিনী কে...."তুমি আমার গত জন্মে মা ছিলে তাই আমি এইজন্মে তোমার বউ হয়ে এসেছি।"
দুজনের কি হাসি! শাশুড়ী বউয়ের কেমিস্ট্রি জমে ক্ষীর।
- বলছি এখন এই শাড়ীটার খোঁজ করছিস কেন?
- আসলে কিছু শাড়ি কাঁচতে দেবো। তোমার কিছু থাকে তো বলো।
নন্দিনী বললো, - আমার শাড়ি? না রে আমার কিছু কাঁচার নেই।
- বলছি মা... এই রবিবার তুমি আমি মিলে আইসক্রীম খেতে আইসক্রীম পার্লার এ যাবো। আর একাডেমিতে একটা পেন্টিং প্রদর্শনী হচ্ছে আমার বন্ধুর। আর তুমি তো আঁকা ভীষণ ভালোবাসো। সেদিন তোমার ড্রয়ার থেকে একটা আঁকা পেয়েছি। কি ভালো আঁকতে তুমি। কেন আবার নতুন করে শুরু করো না মা।
- দূর পাগলী মেয়ে তুই তো কতো ভালো লিখিস কিন্তু এখন সব স্টপ।
- আমার কথা ছাড়ো, আমি তো তোমার ছেলের প্রেমে বিন্দাস আছি।
নন্দিনী নীলাঞ্জনার নাকটা টিপে দিয়ে বললো
- পাকা বুড়ি আমার।
সত্যি দুজন মানুষের বয়সের অনেকটা ফারাক সত্তেও দুজনে কতো খোলামেলা। পাড়ার লোকেরা ও বলে, শাশুড়ী বৌমার জুটি দেখার মতো। প্রথম যখন বিয়ের পর অষ্টমঙ্গলা গেলো নন্দিনী নিজে হাতে আলতা দিয়ে পা রাঙিয়ে দিতে দিতে বলেছে আমার বাড়িতে যে লক্ষ্ণীর প্রবেশ হয়েছে তাকে যদি সাজিয়ে না দি তাহলে যে মা লক্ষ্ণীর অপমান করা হবে। প্রতিটা মেয়ে যে লক্ষ্ণী।খাবার টেবিলে আজ নন্দিনীর পছন্দের রান্নাগুলো দেখে নন্দিনী শ্যামলী কে জিজ্ঞাসা করলো
- আজ কোন দিকে সূর্য উঠেছে শ্যামলী। সব আমার পছন্দের রান্না করেছিস।
- আমি করেছি না কি গো, বৌদিমনি সেই সকাল থেকে সব রান্না করে স্কুলে গেছে। তোমার আজ না কি জন্মদিন?
নন্দিনীর দু চোখ দিয়ে জলের ধারা নেমে আসছে। আজ যে বড্ডো বাবা, মা, ছোটবেলাটা চোখের সামনে চলে আসছে।
সেই পিঁড়ি পেতে থালায় খাবার সাজিয়ে জন্মদিনের দিন খেতে দিতো। বাবা পকেট থেকে বড়ো ক্যাডবেরি বার করে সামনে রেখে দিতো। তারপর কতো বছর পেরিয়ে গেছে সংসারের যাঁতাকলে পিষে সবকিছুর পাঠ চুকে গিয়েছিলো। তারপর আজ আবার এই পঞ্চাশ বছরে এসে এক ঝলক খুশির হাওয়ায় ভাসিয়ে নিয়ে গেলো নন্দিনীকে। কলিং বেল বাজছে , শ্যামলী গিয়ে দরজা খুলে দিলো। হৈ হৈ করতে করতে নীলাঞ্জনা এসে নন্দিনীকে জড়িয়ে ধরলো...
- ওরে ছাড়... আমি তো তোর জন্যে অপেক্ষা করছি পাগলী মেয়ে।
- ঠিক আছে আজ কিন্তু সব খেতে হবে।
নন্দিনী বললো -তুই ও বসে পড়।
নীলাঞ্জনা ও খেতে বসে গেলো। নন্দিনী বললো
- প্রত্যেকটা রান্না দুর্দান্ত হয়েছে। পায়েস তো ঠিক আমার মায়ের মতো। আবার মা-র ছোঁয়া পেলাম।
মুঠোফোন বেজে উঠলো। নীলাদ্রি ভিডিও কল করেছে... - কি মা আজ খুব নীলার হাতের রান্না খাচ্ছ। আর আমায় তো দিব্যি ভুলে গেছো।
- দূর, তুই ছাড়া আমার ফটো ফ্রেমটা অসম্পূর্ণ। তুই কবে আসবি নীল?
-মা আমি খুব শীঘ্রই আসছি। কিন্তু আজ তোমার দিন, অতএব নো টেনশন। আরো কিছু কথা বলার পর নীল ফোনটা ছেড়ে দিলো। খাওয়া দাওয়া করে দুজন ঘরে বিশ্রাম করতে চলে গেলো। নন্দিনী আজ ভীষণ খুশী। যোগ্য মেয়েকে ঘরে এনেছে। সত্যি, হয়তো নীলাঞ্জনা গত জন্মে মেয়েই ছিলো।
নন্দিনী নিজের মনে গান ধরলো ঘরেতে ভ্রমর এলো গুনগুনিয়ে.....
--------সমাপ্ত----------
সংগৃহীত