20/08/2026
আপনার সঙ্গী কি আপনার কাছে প্রশান্তির মানুষ?
সারাদিনের ক্লান্তির পর
এমন একজন মানুষকে পাশে পাওয়া—
যাকে দেখলেই ভেতরটা একটু শান্ত হয়ে যায়,
যার সামনে নিজেকে প্রমাণ করতে হয় না,
সাবধানে প্রতিটি কথা বলতে হয় না—
এটাই তো এক ধরনের প্রশান্তি।
কুরআন দাম্পত্যের এই অনুভূতিকে
খুব সুন্দর একটি শব্দে প্রকাশ করেছে—
সাকিনাহ।
“তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকেই সঙ্গী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি পাও।”
(সূরা আর-রূম, ২১)
আরেকটি দোয়ায় আমরা চাই—
“হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের পক্ষ থেকে আমাদের চোখের শীতলতা দান করুন।”
(সূরা আল-ফুরকান, ৭৪)
কিন্তু একজন মানুষ কীভাবে
আরেকজনের চোখের শীতলতা হয়ে ওঠেন?
শুধু ভালোবাসলেই?
সবসময় নয়।
প্রশান্তির সম্পর্ক তৈরি হয়
প্রতিদিনের ছোট ছোট আচরণে।
১. তার ছোট কথাগুলো শুনুন
“আজ একটা মজার ঘটনা ঘটেছে।”
“আজ খুব ক্লান্ত লাগছে।”
“এটা দেখো তো।”
এসব কথাকে তুচ্ছ মনে হতে পারে।
কিন্তু প্রতিটি কথার ভেতরে
একটি ছোট প্রশ্ন থাকে—
“তুমি কি আমার দিকে আছ?”
তাই সবসময় সমাধান দিতে হবে না।
কখনো শুধু ফোনটা নামিয়ে
বলুন—
“বল তো, কী হয়েছে?”
২. তার ভালো জিনিসগুলো চোখে পড়তে দিন
সম্পর্কে আমরা ধীরে ধীরে
একজনের ভালো কাজগুলোকে স্বাভাবিক ধরে নিই।
যে প্রতিদিন খোঁজ নেয়,
কাজ করে, দায়িত্ব নেয়—
একসময় মনে হয়,
“এ তো করতেই হবে।”
তাই নির্দিষ্ট করে কৃতজ্ঞতা জানান।
“তুমি অনেক ভালো”—এর চেয়ে,
“আজ আমি ক্লান্ত ছিলাম, তুমি কাজটা করে দেওয়ায় আমার অনেকটা সহজ হয়েছে।”
এই কথাটা অনেক বেশি অর্থ বহন করে।
৩. তার আনন্দে সত্যিকারের আনন্দিত হন
সঙ্গী যখন কোনো ভালো খবর দেন,
তখন শুধু—
“আচ্ছা, ভালো তো।”
বলে থেমে যাবেন না।
একটু থামুন।
জিজ্ঞেস করুন—
“সত্যি? কীভাবে হলো?”
কারণ মানুষ শুধু কষ্টের সময়
পাশে থাকা মানুষটাকেই মনে রাখে না।
যে তার আনন্দেও আনন্দিত হয়,
তাকেও মনে রাখে।
৪. অনুমান না করে জানতে চান
সে চুপ করে আছে—
“আমাকে এড়িয়ে চলছে।”
দেরি করে ফিরেছে—
“আমাকে গুরুত্ব দেয় না।”
একটা আচরণ থেকে
একটা চরিত্রের সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাওয়া
সম্পর্ককে ধীরে ধীরে ভারী করে।
কুরআনে বলা হয়েছে—
“অনেক অনুমান থেকে বিরত থাকো।”
(সূরা আল-হুজুরাত, ১২)
তাই “তুমি আমাকে অবহেলা করছ” বলার আগে
একবার জিজ্ঞেস করুন—
“আজ তোমাকে একটু চুপচাপ লাগছে। কিছু হয়েছে?”
৫. ঝগড়ার পর ফিরে আসতে শিখুন
সুস্থ সম্পর্ক মানে
কখনো ঝগড়া হবে না—এমন নয়।
বরং ঝগড়ার পর
দুজন কীভাবে আবার একে অপরের কাছে ফিরতে পারেন,
সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।
কখনো বলতে হয়—
“আমি রেগে গিয়ে কথাটা ঠিকভাবে বলিনি।”
কখনো—
“চলো, একটু শান্ত হয়ে পরে কথা বলি।”
কারণ তীব্র রাগের সময়
আমাদের শরীর ও মস্তিষ্ক
সমাধান করার মতো অবস্থায় থাকে না।
একটু বিরতি নেওয়া
সম্পর্ক থেকে দূরে সরে যাওয়া নয়।
বরং সম্পর্কটাকে রক্ষা করার চেষ্টা।
একজন চক্ষুশীতলকারী সঙ্গী
হওয়া মানে সবসময় নিখুঁত হওয়া নয়।
মানে—
তার কাছে নিরাপদ হওয়া।
তার কথা শোনা।
তার ভালোটা দেখা।
তার আনন্দে আনন্দিত হওয়া।
ভুল বোঝার আগে জানতে চাওয়া।
আর দূরত্ব তৈরি হলে
আবার কাছে আসার চেষ্টা করা।
কুরআনের সেই দোয়াটা তাই
শুধু চাওয়ার দোয়া নয়—
এটা আমাদের মনে করিয়ে দেয়,
আমরাও যেন কারও চোখের শীতলতা হওয়ার চেষ্টা করি।