Triple A Fashion

Triple A Fashion আপনার নিরাপদ শপিং এর একমাত্র ভরসা

26/08/2026

তৃতীয় অধ্যায়
বিদায়
ক্লাস ফাইভের শেষ দিন।
স্কুলের মাঠে সবাই দাঁড়িয়ে।
কারও চোখে পানি, কেউ নতুন স্কুলের কথা বলছে।
শিউলি জানে সে কোথায় যাবে।
গ্রামের গার্লস স্কুলে।
বাড়ির সবাই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এখন থেকে সে শুধু মেয়েদের স্কুলেই পড়বে।
রাশেদ যাবে পাশের হাইস্কুলে।
সেদিন বাড়ি ফেরার সময় রাশেদ বলল,
— তুমি কোন স্কুলে পড়বে?
— গার্লস স্কুলে।
— আমি ছেলেদের স্কুলে।
— জানি।
— তাহলে আর দেখা হবে না।
শিউলি খুব স্বাভাবিকভাবে বলল,
— কেন?
রাশেদ বলল,
— স্কুল তো আলাদা।
শিউলি একটু ভেবে বলল,
— গ্রাম তো একটাই।
রাশেদ হেসে ফেলল।
— তুমি সব কথার উত্তর এমন দাও কেন?
— কেমন?
— জানি না।
সেদিন তারা আলাদা পথে হাঁটল।
শিউলি একবারও পেছনে তাকাল না।
রাশেদ তাকিয়েছিল।
কিন্তু সে কথাটা শিউলিকে কোনোদিন বলেনি

26/08/2026

দ্বিতীয় অধ্যায়
প্রথম হওয়ার মেয়েটা
ক্লাস থ্রি, ফোর, ফাইভ—শিউলি সব ক্লাসেই প্রথম হতে লাগল।
শুধু পরীক্ষায় নয়।
রচনা প্রতিযোগিতা হলে প্রথম।
হাতের লেখা প্রতিযোগিতায় প্রথম।
কবিতা আবৃত্তিতে প্রথম।
সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতায় প্রথম।
স্কুলের শিক্ষকরা ধীরে ধীরে বুঝে গেলেন, এই মেয়েটার মাথা অন্যরকম।
শিউলি বই পড়ত প্রচুর।
পাঠ্যবই শেষ করার পরও তার পড়া শেষ হতো না।
স্কুলের লাইব্রেরিতে যে কয়টা গল্পের বই ছিল, সব পড়ে ফেলেছিল সে।
তারপর একদিন লাইব্রেরির দায়িত্বে থাকা শিক্ষক বললেন,
— শিউলি, সব বই পড়ে ফেলেছিস নাকি?
শিউলি মাথা নাড়ল।
— জি স্যার।
— তাহলে নতুন বই না আসা পর্যন্ত কী পড়বি?
শিউলি একটু ভেবে বলল,
— পুরোনো পত্রিকা আছে?
স্যার হেসে ফেললেন।
— আছে।
— তাহলে ওগুলো পড়ব।
বাড়িতে তার নিজের একটা ছোট্ট বইয়ের তাক ছিল।
তাক বলতে পুরোনো কাঠের একটা বাক্সের ওপর আরেকটা কাঠের পাত বসানো।
সেখানেই বই।
কোনোটার মলাট নেই।
কোনোটার পাতা ছেঁড়া।
কোনোটার নামও ঠিকমতো বোঝা যায় না।
তবু শিউলির কাছে সবই মূল্যবান।
বাবা মাঝে মাঝে বাজার থেকে পুরোনো বই এনে দিতেন।
শিউলি বই হাতে পেলে এমন খুশি হতো, যেন কেউ তাকে খুব দামী কিছু দিয়েছে।
রাশেদ একদিন জিজ্ঞেস করেছিল,
— তুমি এত বই পড়ো কেন?
শিউলি বলেছিল,
— জানি না।
— বই পড়তে ভালো লাগে?
— হ্যাঁ।
— খেলতে ভালো লাগে না?
— লাগে।
— তাহলে সারাক্ষণ বই পড়ো কেন?
শিউলি একটু ভেবে বলেছিল,
— খেলতে গেলে খেলা শেষ হয়ে যায়। বই পড়লে গল্পটা শেষ হয়, কিন্তু মানুষগুলো মাথায় থেকে যায়।
রাশেদ চুপ করে তাকিয়ে ছিল।
সে কথাটার পুরো অর্থ বুঝতে পারেনি।
শিউলি নিজেও হয়তো বুঝতে পারেনি।

26/08/2026

যে কথার নাম সে জানত না
প্রথম অধ্যায়
ক্লাস টু-এর সেই বেঞ্চ
২০০৩ সালের কথা।
তখন গ্রামের স্কুলের মাঠে বিকেলের রোদটা অন্যরকম ছিল। কাঁচা রাস্তার ধুলো উড়ত, স্কুল ছুটির পর ছেলেরা মাঠে দৌড়ে বেড়াত, আর মেয়েরা দল বেঁধে বাড়ির পথে হাঁটত।
শিউলির বয়স তখন সাত।
দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে।
ছোট্ট মেয়ে। দুটো বিনুনি, বিনুনির মাথায় লাল ফিতা। গায়ে নীল-সাদা স্কুলড্রেস। কাঁধে এমন একটা ব্যাগ, যেটা তার শরীরের তুলনায় যেন দ্বিগুণ বড়।
শিউলি দেখতে শান্ত হলেও পড়াশোনায় অদ্ভুত রকমের মনোযোগী।
শিক্ষক একটা কথা বললে সে সেটা মনে রাখত।
দুবার বলার প্রয়োজন হতো না।
তবে সে তখনও জানত না যে তার এই স্বভাবটাই একদিন তাকে সবার থেকে আলাদা করে দেবে।
ক্লাস টু-এর প্রথম সাময়িক পরীক্ষার দিন অঙ্কের খাতা ফেরত দেওয়া হলো।
স্যার একে একে নাম ডাকছেন।
— রাশেদ।
রাশেদ উঠে খাতা নিল।
— শিউলি।
শিউলি উঠে দাঁড়াল।
স্যার খাতা দেওয়ার সময় বললেন,
— খুব ভালো হয়েছে।
শিউলি খাতা হাতে নিয়ে নিজের বেঞ্চে ফিরে এল।
তারপর খাতা খুলে প্রথমেই দেখল নম্বর।
১০০।
তার মুখে কোনো বিশেষ পরিবর্তন হলো না।
পাশ থেকে রাশেদ উঁকি দিল।
— কত পেয়েছ?
শিউলি খাতা বন্ধ করে বলল,
— একশ।
রাশেদ একটু গম্ভীর হয়ে গেল।
— আমিও একশ।
শিউলি বলল,
— ভালো।
— তুমি খুশি হলে না?
— কেন?
— আমি তোমার সমান পেয়েছি।
শিউলি কিছুক্ষণ ভেবে বলল,
— তুমি তো আমার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করো না।
রাশেদ অবাক।
— করি না?
— না। তুমি আমার সহপাঠী।
রাশেদ উত্তর খুঁজে পেল না।
সেদিনই তাদের পরিচয়।
খুব সাধারণ পরিচয়।
কোনো গল্পের মতো নয়।
কোনো বিশেষ মুহূর্ত নয়।
শুধু পাশাপাশি পড়া দুটো শিশুর পরিচয়।
কিন্তু কিছু সম্পর্কের শুরুতে মানুষ জানে না—
এই মানুষটাই একদিন তার জীবনের গল্পের সবচেয়ে বড় চরিত্র হয়ে উঠবে।

26/08/2026

“মানুষ আমার অক্সিজেন নয়।
আমার শ্বাসটা আমার নিজের।”

কত বছর পর যে পেইজে ঢুকলাম নিজেও বুঝতে পারছি না
15/06/2026

কত বছর পর যে পেইজে ঢুকলাম নিজেও বুঝতে পারছি না

Address

Master Bari Road
Dhaka
1650

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Triple A Fashion posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share