24/05/2026
যেন আল্লাহও সন্তুষ্ট থাকে
শয়তানও নারাজ না হয়!
শিশু রামিসার ধর্ষণ ও হত্যাকান্ড নিয়ে তোলপাড় হয়ে গেল বাংলাদেশ। এই তোলপাড়ের মধ্য দিয়ে আবার মাদ্রাসা শিক্ষার্থী বলাৎকার ও প্রাণনাশের মতো ঘটনা আগুনে নতুন করে ঘি ঢালার মত পরিস্থিতি তৈরি করেছে। আমাদের দেশে এই জাতীয় ঘটনা কিছু বিরতি দিয়ে দিয়ে প্রায়শই ঘটছে। কোন কোন ঘটনা আলোচনায় এলেও অনেক ঘটনাই থেকে যাচ্ছে আলাপের বাইরে।
শিশু নির্যাতনের এই ভয়ংকর ঘটনাগুলোর একটা অংশ ঘটছে ধর্মীয় শিক্ষার পবিত্র অঙ্গন মাদ্রাসাগুলোতে। ছেলে মাদ্রাসাগুলোতে বলাৎকার ও মেয়েদের মাদ্রাসায় ধর্ষণের মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনার সংখ্যা একেবারে অপ্রতুল নয়। মাদ্রাসার বাইরে স্কুল কলেজ ও অন্যান্য শিক্ষাঙ্গনে এমনতর ঘটনার মাত্রা আনুপাতিক হারে আরো বেশিই হবে। এমন পৈশাচিক ও জঘন্য ঘটনা যেখানেই ঘটুক, মাদ্রাসা কিংবা স্কুল, বাসা-বাড়ি কিংবা অন্যত্র,এর বিহিত হওয়া জরুরী।
অপরাধ দমনে অন্যান্য ব্যবস্থার পাশাপাশি কঠোর আইনের প্রয়োগ দরকার, এটা কেউ অস্বীকার করতে পারে না। এক্ষেত্রে আল্লাহ প্রদত্ত শরিয়া আইন যে সর্বোত্তম ব্যবস্থা, এটা প্রত্যেক মুমিনের বিশ্বাস এবং ঐতিহাসিক প্রমাণিত সত্য।
চলমান এই ভয়াবহ অপরাধ ও নৃশংসতা রোধকল্পে অনেকেই শরিয়া আইনের অপরিহার্যতার কথা ব্যক্ত করছেন। এটা নিয়ে আবার একদল মানুষ বিতর্ক জুড়ে দিচ্ছে।
তাদের বিতর্কের দুটি পয়েন্ট-
প্রথম হলো শরিয়া আইন বাস্তবায়ন হলেই অপরাধ নির্মূল হয়ে যাবে, এমন নিশ্চয়তার বিপক্ষে তারা।
দ্বিতীয় হল শরিয়া আইনের প্রয়োগযোগ্যতা নিয়েই তারা প্রশ্ন তুলছে।
শরিয়া আইনের মাধ্যমে অপরাধ নির্মূলের নিশ্চয়তা ও শরিয়া আইনের প্রয়োগযোগ্যতার বিষয়টি আলোচনার আগে আরেকটি প্রশ্ন আলোচনায় আসছে। সেটি হল এমন অস্বাভাবিক রকমের অপরাধের মাত্রা বাড়ছে কেন?
বর্তমান আলোচনায় আমরা এই তিনটি প্রসঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলোকপাত করবো ইনশাআল্লাহ।
প্রসঙ্গ-১
অস্বাভাবিক অপরাধ প্রবণতার কারণ:
সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অবাধ্যতা তথা গুনাহের কাজই মানুষের জন্য অসমীচীন। গুনাহ মানুষ সাধারণত করে থাকে প্রবৃত্তির তাড়নায়। তবে কিছু গুনাহ আছে, যা প্রবৃত্তির তাড়নার পাশাপাশি বিকৃত রুচির কারণে সংঘটিত হয়। যেমন নারী-পুরুষের ব্যভিচার এটা মানুষের জৈবিক চাহিদা ও প্রবৃত্তির তাড়নায় হয়। কিন্তু সমকামিতা শুধু প্রবৃত্তির তাড়নায় নয়, বরং ভয়ংকর রকমের বিকৃত রুচি থেকে এই অপরাধ সংগঠিত হয়।
আবাধ যৌনতার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও শিশুদের মাধ্যমে পাশবিক যৌন চাহিদা পুরণ ভয়ংকর বিকৃত রুচির বহিঃপ্রকাশ বৈ কিছু নয়। এমন রুচির বিকৃতি একাধিক কারণে হয়ে থাকতে পারে।
ক) আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যদি কাউকে সৃষ্টিগতভাবে সুন্দর ও মার্জিত রুচি থেকে বঞ্চিত করে দেন।
খ) সাধারণ পন্থায় অপরাধ করতে করতে একসময় মানুষ তাতে আর স্বাদ পায় না। ফলে তাতে সে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। তখন নতুন কোন পথ ও পন্থার সন্ধান মানুষকে বিকৃত কোন তৎপরতার দিকে নিয়ে যায়।
গ) মানুষের মধ্যে বিকৃত যৌনাচারের বিস্তৃতি ঘটানোর জন্য বিকৃত নানা রকম পর্নোগ্রাফি তৈরি করে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। এই জাতীয় পর্নোগ্রাফি দেখতে দেখতে মানুষের রুচির বিকৃতি ঘটে। আলোচ্য রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকান্ডের ব্যাপারে এমন কারণের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
ঘ) প্রত্যক্ষ স্যাটানিজম বা শয়তানপূজায় লিপ্ত হলেও এই জাতীয় ভয়াবহ অপরাধের সাথে মানুষ জড়িয়ে পড়ে।
সাম্প্রতিক বিশ্বকাঁপানো এপস্টাইন কেলেঙ্কারির ঘটনা লক্ষ করলেই এর প্রমাণ পাওয়া যাবে। বিল ক্লিনটন ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ আমেরিকান শীর্ষ রাজনৈতিক ও ধনকুবেরদের যে সকল নথি প্রকাশ হয়েছে এবং যে ধরনের বিকৃত যৌনাচার ও নৃশংসতার তথ্য উঠে এসেছে, তা রীতিমতো গা শিউরে ওঠার ব্যাপার। ছোট্ট ছোট্ট মেয়ে শিশুদেরকে ধর্ষণ করে গর্ভবতী বানিয়ে এক সময় তাদের গর্ভ থেকে ভ্রূণ অথবা গর্ভস্ত সন্তান বের করে স্যুপ বানিয়ে খাওয়ার মত জঘন্যতম ও নৃশংসতম বিকৃত অপরাধের ঘটনা উন্মোচিত হয়েছে আলোচিত এপস্টাইন নথিগুলো থেকে। এই এপস্টাইন ফাইল অথবা নথি পড়লে যেকোনো মানুষের মধ্যে প্রশ্ন জাগবে, এই জাতীয় বিকৃত, জঘন্য ও নৃশংস অপরাধ প্রবণতার কারণ কি?
এই প্রশ্নের সহজ উত্তর হল,
শয়তানের নৈকট্য অর্জনের প্রয়াস!
কোন ব্যক্তি যেমন শুধু নিয়মিত রুটিন এবাদতের মাধ্যমে বড় আল্লাহ ওয়ালা বুজুর্গ হতে পারে না, বরং আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে হলে বিশেষ আমল করতে হয়, এবাদত করতে হয়, সাধনা করতে হয়। তদ্রুপ সাধারণ ও রুটিন পাপ ও অপরাধের মাধ্যমে শয়তানের বিশেষ নৈকট্য পাওয়া যায় না। তাই যারা শয়তানের পূজারী এবং শয়তানের বিশেষ নৈকট্য প্রত্যাশী, তারাও শয়তানের সন্তুষ্টি অর্জন করতে তার প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় এই জাতীয় ভয়ংকর সব অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ে।
ভয়াবহ তথ্য হচ্ছে শয়তান পূজার এজেন্ডাই বর্তমান পৃথিবীতে সবচেয়ে শক্তিশালী। ট্রান্সজেন্ডার ও সমকামিতার মত বিকৃত রুচি ও যৌনাচারের প্রাদুর্ভাব সেই প্রক্রিয়ারই অংশ বিশেষ। সারা দুনিয়ায় এমনতর রুচির বিকৃতি ঘটানোই এখন শয়তান পূজারীদের প্রধান মিশন। ট্রাম্প, নেতানিয়াহু থেকে নরেন্দ্র মোদি সব একই সূত্রে গাঁথা।
প্রসঙ্গ-২
শরিয়া আইন সম্পর্কে পক্ষ বিপক্ষ সব মানুষের এক ধরনের প্রান্তিক ধারণা হল, শরিয়া আইন মানেই কঠোর আইন। শরিয়া আইনের কিছু কিছু ক্ষেত্রে কঠোরতা থাকলেও এটা শরিয়া আইনের একমাত্র কিংবা প্রধান বৈশিষ্ট্য নয়। বরং শরিয়া আইনের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো স্থান-কাল-পাত্র ভেদে ন্যায় বিচারের নিশ্চয়তা। সুতরাং কোন কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমেই কেবল অপরাধ নির্মূলের নিশ্চয়তা যেমন পাওয়া যেতে পারে না, তদ্রূপ কেবল শরিয়া আইনের প্রয়োগই সকল অপরাধ সমূলে নির্মূল করে দিবে, এমন কোন নিশ্চয়তা কুরআন-সুন্নাহ অথবা ইসলামবেত্তাগণ কখনোই দেননি ও দিতে পারেন না। হ্যাঁ অপরাধ নির্মূলে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে এবং উত্তম সহায়ক হতে পারে। আর তাই ইসলামেও অপরাধ বন্ধের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র আইনের প্রয়োগের ব্যবস্থাই রাখা হয়নি, বরং তারও পূর্বে অপরাধ বন্ধে মানুষের নৈতিক ও চারিত্রিক উন্নয়ন এবং একটি ইতিবাচক পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চালিয়েছে। মানুষের মধ্যে পরকালের জবাবদিহিতা ও আল্লাহর ভয় সৃষ্টির পাশাপাশি বিবেকবোধকে জাগ্রত করার প্রয়াস চালিয়েছে। আর সর্বশেষে আইনের প্রয়োগের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে অপরাধের প্রতি ভীতির জন্ম দিয়ে অপরাধ বন্ধ করতে চেয়েছে।
গুরু অপরাধের গুরু শাস্তির মাধ্যমে অপরাধের মাত্রা কমে আসবে এটাতো একটা স্বাভাবিক কথা। সেই শাস্তি শরিয়া আইনের ভিত্তিতে হোক কিংবা মানব রচিত কোন আইনের ভিত্তিতে হোক। তবে মানব রচিত যে কোন আইনের তুলনায় শরিয়া আইন দুই কারণে অপরাধ বন্ধে অধিক কার্যকর।
প্রধান কারণ হলো, শরিয়া আইনের মূল বুনিয়াদ সৃষ্টিকর্তার নির্দেশনা। (যারা মনে করেন শরিয়া আইন সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ প্রদত্ত নয় তারা এ বিষয়টি এড়িয়ে যাবেন। আমরা এখানে শুধু ঈমানদারদেরকে লক্ষ্য রেখে কথা বলছি ) সুতরাং এতে সৃষ্টিতত্ত্বের সাথে সবচেয়ে বেশি সামঞ্জস্যতা ও ভারসাম্য রক্ষা পেয়েছে। ফলে অপরাধ প্রবণতা দমনে শরিয়া আইন সবচেয়ে বেশি কার্যকর।
দ্বিতীয় কারণ হলো একটা আধ্যাত্মিক বিষয়। (যারা আধ্যাত্মিকতায় বিশ্বাস করেন না, বিষয়টা তারা এড়িয়ে যেতে পারেন) শরিয়া আইন কার্যকর হলে সমাজে আল্লাহর রহমত বর্ষিত হয়, যা মানুষকে পাপ ও অপরাধ থেকে ফিরিয়ে রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। নাসায়ী, ইবনে মাজাহ ও মুসনাদ আহমাদে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণিত হয়েছে
إقامةُ حدٍّ في الأَرضِ
خَيرٌ لأهلِها مِن مَطرِ أربَعين ليلةً
জমীনে শরীয়তের দন্ডবিধি একটি হদ বাস্তবায়িত হওয়া জমিনের অধিবাসীদের উপর চল্লিশ দিন বৃষ্টি বর্ষণ হওয়ার চেয়েও উত্তম।
প্রসঙ্গ-৩
শরিয়া আইনের প্রয়োগযোগ্যতার বিষয়ে সমালোচকরা ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে দুটি কথা বলে।
এক. শরিয়া আইন ধারা উপধারা আকারে আইনি কাঠামোতে বর্ণিত নেই, বরং কুরআন সুন্নাহ আছে টেক্সট আকারে। সেটা প্রয়োগ করতে হলে ফিকহের মাধ্যমে ধারা উপধারায় বিন্যস্ত করতে হয়, যা সরাসরি আল্লাহ বা তার রাসূলের পক্ষ থেকে বর্ণিত নয়। ফিকহের মাধ্যমে তা করতে গিয়ে বিভিন্ন মাযহাবের তৈরি হয়েছে। আর মাযহাবগত মতভেদের কারণে শরিয়া আইনের মধ্যেও অনেক মতপার্থক্য তৈরি হয়ে যায়। প্রশ্ন হল কোন দেশে কোন মাযহাবের ব্যাখ্যা অনুযায়ী শরিয়া আইন প্রয়োগ করা হবে? এক্ষেত্রে সেই দেশে যারা অন্য মাযহাবের অনুসারী তাদের বিষয়টা কিভাবে সমাধা হবে অথবা তাদের ক্ষেত্রে শরিয়া আইন কিভাবে প্রয়োগ হবে?
দ্বিতীয় যে সমালোচনা তারা করে থাকে, সেটি হলো শরিয়া আইন আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রবর্তিত কোন আইন নয়, বরং ওহি অবতরণকালে সমকালীন সমাজে যে সকল আইন ও ধারাগুলো প্রচলিত ছিল সেগুলোকেই কেবল শরীয়তে বহাল রাখা হয়েছে।
মূলত দুটি কথাই ইসলামী শরিয়া সম্পর্কে মানুষের মধ্যে এক ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি করার প্রয়াস বলে মনে হয়।
প্রথমত শরীয়তের অনেক আইন আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল কর্তৃক চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত আছে, যেখানে মাযহাবগত কোন মতভেদ নেই।
দ্বিতীয়ত ইসলামকে কেয়ামত পর্যন্ত সময়ের সব সমস্যা সমাধানের উপযোগী করা হয়েছে আল্লাহর পক্ষ থেকে। এজন্য কুরআন-সুন্নাহর পর ইজমা, ইজতেহাদ ও তাজদীদ এই তিনটি বিষয়ের মাধ্যমে ইসলামকে সময়ের সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাস্তবসম্মত সমাধান হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে। কুরআন-সুন্নাহর মূলনীতির আলোকে ইজমা,ইজতেহাদ ও তাজদীদের মাধ্যমে ইসলামী শরীয়ত সর্ব যুগেই প্রয়োগযোগ্য। চৌদ্দশত বছর ধরে এভাবেই পরিচালিত হয়ে আসছে।
মাযহাবগত পার্থক্য সত্ত্বেও "উলুলআমর" তথা রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব ও "কাজা" তথা আদালতের মাধ্যমে ইজতেহাদী যে কোন বিষয়ে কোন একটি মতামতকে সাব্যস্ত করে দেয়া হলে তা বলবৎ হয়ে যায়। রাষ্ট্র সেটাকে বলবৎ করে দিবে। কুরআন সুন্নাহয় এমন এখতিয়ার রাষ্ট্র ও আদালতকে দেয়া হয়েছে। আজও পৃথিবীর বিভিন্ন ভূখণ্ডে বিভিন্ন মাযহাব ও ইসলামিক স্কুল অফ থট অনুসরণে রাষ্ট্র ও আদালত কর্তৃক ইসলামী শরিয়ার সফল প্রয়োগ রয়েছে। ইসলাম বেত্তাগণ তার বৈধতা নিয়ে কোন প্রশ্ন করছেন না।
আর যারা মনে করে যে শরিয়া মৌলিকভাবে আল্লাহ প্রদত্ত আইন না, বরং তৎকালীন সময়ে প্রচলিত আইনকে ধর্মকর্তৃক বহাল রাখা হয়েছে, এমন ধারণা শরিয়া আইনের ঐতিহ্য ও এর ধারাবাহিকতা সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান না থাকার পরিচয়।
মাযহাবগত মতপার্থক্যের বিষয়টিকে সামনে এনে ইসলামী শরিয়ার প্রয়োগযোগ্যতাকে যারা প্রশ্নবিদ্ধ করে, তাদের কাছে আমাদের সরাসরি প্রশ্ন হল, আপনারাই তাহলে বলুন শরিয়া বাস্তবায়নের রুপরেখাটা তাহলে কী?
কী হলে আপনি মনে করবেন আল্লাহ প্রদত্ত ইসলামী শরিয়া বাস্তবায়ন করা সম্ভব?
মূলত আপনারা ধূর্তভাবে ইসলামকে অনুপযোগী সাব্যস্ত করতে চান। আবার মুরতাদ না হয়ে মুসলিমও থাকতে চান। যেন আল্লাহও সন্তুষ্ট থাকে শয়তানও নারাজ না হয়!
মা: মামুনুল হক.