17/11/2024
ইসলাম আমাদেরকে কোন মানুষকে তার পার্থিব স্ট্যাটাসের ভিত্তিতে মূল্যায়ণ করার অনুমতি দেয় না।
একমাত্র তাক্বওয়ার ভিত্তিতে মূল্যায়ণ করার অনুমতি দেয়।
রাসূল সাঃ বলেছেন, যেই বান্দার তাক্বওয়া যত বেশি, তার অবস্থান আল্লাহর কাছে তত বেশি।
অর্থাৎ *তাক্বওয়া* হতে হবে আমাদের কাছে একজন মানুষের সম্মান নির্ধারণের একমাত্র ক্রাইটেরিয়া!
এখন সে রাস্তার উদ্বাস্তু হোক। অথবা এমেরিকার প্রেসিডেন্ট হোক।
রাসূল (সাঃ) আরও বলেছেন,
আল্লাহর কাছে বান্দার অবস্থান সেখানে, বান্দার কাছে আল্লাহর অবস্থান যেখানে।
অর্থাৎ আমরা যদি আল্লাহকে প্রায়োরিটি লিস্টে নিচে ফেলে রাখি, আল্লাহও আমাদেরকে প্রায়োরিটি লিস্টে নিচে ফেলে রাখবেন। ব্যাপারটা অনেকটা এরকম। যদিও আল্লাহ তাঁর সব বান্দাদেরকেই ভালোবাসেন। এখানে আরো অনেক কথা চলে আসে। সেগুলোতে গেলাম না।
আল্লাহ কোন বান্দাকে তার সৌন্দর্য্য, ধনসম্পদ, ডিগ্রি, জ্ঞান, ক্ষমতা, প্রভাব প্রতিপত্তি, সুনাম, বংশমর্যাদা, এগুলোর ভিত্তিতে মূল্যায়ণ করেন না।
তাই আমাদেরও এগুলোর ভিত্তিতে কোন মানুষকে মূল্যায়ণ করার সুযোগ নেই। আল্লাহকে ডিঙিয়ে। নাঊযুবিল্লাহ! তাহলে সেটা আল্লাহর ফিৎরাতকে উপেক্ষা করা হয়। আল্লাহর সাথে ধৃষ্টতা হয়।
রাসূল (সাঃ) বলেছেন,
"আল্লাহ তোমাদের ধন-সম্পদ ও সৌন্দর্য্যের দিকে লক্ষ্য করেন না।
বরং তিনি তোমাদের অন্তর ও কার্যাবলীর দিকে লক্ষ্য করেন।"
মাওলানা জালালউদ্দীন রুমি বলেছেন,
"চরিত্রের মাঝে
সত্যের শিখা দীপ্ত না হলে
জ্ঞান, গৌরব, আভিজাত্য,
ক্ষমতা, শিক্ষা,
সমস্তই বৃথা!"
আমরা যদি মানুষকে তার পার্থিব স্ট্যাটাসের ভিত্তিতে মূল্যায়ণ করতে থাকি, অর্থাৎ ধনসম্পদ, বাড়িগাড়ি, টাকাপয়সা, সৌন্দর্য্য, সুনাম, খ্যাতি, ক্ষমতা, প্রভাব, প্রতিপত্তি, ডিগ্রী, সার্টিফিকেট, জব, এগুলোর ভিত্তিতে মানুষকে বেশি বা কম মূল্য দেয়ার প্রবণতা আমাদের মধ্যে কাজ করে, তাহলে এটা অন্ধকারাচ্ছন্ন হৃদয় বা ক্বাল্ব এর পরিচায়ক।
অন্তরে নিফাকের উপস্থিতির লক্ষণ।
আমাদের অন্তরে এই বিষয়গুলো প্রবেশ করতে নিলে একজন সচেতন মুমিনের অবশ্যই নিজের ব্যাপারে সাবধান হতে হবে। কারণ এই মানসিকতা গুলো আমাদেরকে ধ্বংসের দিকে নিবে। আল্লাহ থেকে দূরে সরিয়ে নিবে। দুনিয়া ও আখিরাতের জীবনে বিপর্যয়ের দিকে নিবে। অশান্তি ও দুঃখ কষ্টের কারণ হবে। ভুল, মিথ্যা বা ফেইক বিষয়ের পিছনে সময় নষ্ট করার মাধ্যমে জীবনের বিশাল বড় ক্ষতি করে দিবে, এই অনন্ত জীবনের জার্নিতে।
মানুষকে বিভিন্ন কারণে আমাদের ভালো লাগতে পারে। কিন্তু অন্তরে নিফাকের পরিচয় পাওয়া গেলে, সেখান থেকে একজন সচেতন মুমিনের সাবধানতার সাথে দূরত্ব বজায় রেখে চলতে হবে।
কারণ মানুষ তার সঙ্গ দ্বারা অনেক প্রভাবিত হয়। "সঙ্গদোষে লোহা ভাসে।" মানুষ তার প্রিয় মানুষের ফিতরাৎ গ্রহণ করে। রাসূল সাঃ আমাদেরকে বন্ধু নির্বাচনের ক্ষেত্রে আল্লাহ্ভীরুতার গুণ টির দিকে লক্ষ্য করতে বলেছেন।
আরও বলেছেন, "তোমরা সকাল সন্ধ্যা তাক্বওয়াবান (বা আল্লাহভীরু) লোকদের সাথে অতিবাহিত করো।"
কিন্তু এদিকে আবার আরেকটি বিষয় হচ্ছে আমরা তাকওয়াবান মানুষ নির্বাচনের ক্ষেত্রে মানুষের ধর্মীয় পোশাক আশাক বেশভূষা এগুলোকে বেশি প্রাধান্য দিই।
কিন্তু ইসলামে সর্বোচ্চ লেভেলের গুনাহ হচ্ছে, শিরক। তারপরে লোক দেখানো মানসিকতা বা রিয়া। অর্থাৎ মানুষের সামনে নিজের কৃতিত্ব প্রমাণ করতে পেরে আনন্দিত অনুভব করা। তারপরে অহংকার। বিন্দু পরিমাণ থাকলেও জান্নাতে যাওয়া যাবে না। তারপরে মুনাফেকী। অর্থাৎ, মিথ্যা বলার অভ্যাস থাকা, গীবত করার অভ্যাস থাকা, আমানতের খেয়ানত করার অভ্যাস থাকা, ওয়াদা ভঙ্গ করার অভ্যাস থাকা।
জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তর টি হচ্ছে সবচাইতে ভয়ঙ্কর স্তর। সবচেয়ে কঠিন শাস্তি গুলো সেখানে হবে।
আর সেই স্তর টি বরাদ্দ রাখা হয়েছে মুনাফিক দের জন্য।
গীবত কে বলা হয়েছে ব্যাভিচারের চেয়েও জঘণ্য অপরাধ!!!
অথচ আমরা সামান্য একটা পোশাকের ভিত্তিতে মানুষের পরহেজগারিতা নির্ধারণ করি।
অথবা কেউ কুরআনের আয়াত বা হাদিসের সংখ্যা বেশি জানলেই বা বেশি নামাজ পড়লেই আমরা তাকে বেশি তাক্বওয়াবান মনে করি। কিন্তু তাক্বওয়া নির্ধারিত হয় একমাত্র মানুষের অন্তর ও কার্যাবলীর মাধ্যমে। উত্তম আচরণ ও আখলাকের মাধ্যমে।
রাসূল সাঃ বলেছেন, ঐ ব্যক্তি ততবেশি তাক্বওয়াবান যার চরিত্র বা আখলাক্ব যতবেশি উত্তম।
রাসূল সাঃ এমন একজন নারীর ব্যাপারে বলেছেন যিনি সালাত পড়তেন, তাহাজ্জুদ ও পড়তেন, পর্দা করতেন, রোজা রাখতেন, দান সাদাকা করতেন। কিন্তু রাসূল সাঃ বলেছেন সে জাহান্নামে যাবে। কারণ তার অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী রা নিরাপদ নয়। সে গীবত করে এবং আরো বিভিন্ন ভাবে মানুষের ক্ষতি করে। অন্য্ মানুষদের সম্মানের খেয়ানত করে।
রাসূল সাঃ বলেছেন, "একজন মুসলমানের সম্মান আরেকজন মুসলমানের কাছে আমানত!"
আর আমরা জানি আমানতের খেয়ানত করা মুনাফিকের একটি বৈশিষ্ট্য।
আল্লাহ আমাদেরকে নিজেদেরকে সর্বোচ্চ পরিমাণে সংশোধন করার তৌফিক দিক।
নিরপেক্ষভাবে এবং নিষ্ঠার সাথে নিজের আত্মবিশ্লেষণ করার তৌফিক দান করুক।
অন্যের দোষত্রুটি অন্বেষণের প্রবণতা ত্যাগ করে নিজের দোষত্রুটির ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি সচেতন হবার ও চিন্তিত হবার তৌফিক দান করুক।
আমীন!!!