04/11/2023
মুসলমান হিসেবে আমাদের সবারই নামাজের গুরুত্ব সম্পর্কে জানা আছে। ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে যার অবস্থান কালেমার পরেই। নামাজের এই গুরুত্বের কারণেই আমাদের উচিত আমাদের শিশুদের শৈশব থেকেই নামাজের জন্য উৎসাহিত ও নামাজে অভ্যস্ত করে তোলার চেষ্টা করা। শিশুর অভিভাবক হিসেবে এটি আমাদের দায়িত্ব।
তবে এই দায়িত্ব পালনে জোরাজুরি নয়, বরং নামাজের জন্য তাদেরকে এমনভাবে উৎসাহ ও উদ্দীপনা দিতে হবে যাতে তারা নিজে থেকেই নামাজ আদায় করে নেয়।
অনেক বাবা-মা তাদের সন্তানকে নামাজে অভ্যস্ত করার বিষয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন। তবে এতে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। কয়েকটি বিষয় মেনে চললেই ধীরে ধীরে শিশুরা নামাজে অভ্যস্ত হয়ে পড়বে।
আপনার সন্তানকে নামাজে অভ্যস্ত করবেন যেভাবে-
(১) শিশুরা তাদের বাবা-মাকে অনুকরণ করে। এজন্য তাদেরকে সঙ্গে নিয়েই ওজু ও নামাজ আদায়ের চেষ্টা করুন। এতে আপনাকে অনুকরণ করে তারা নামাজ আদায়ে উদ্বুদ্ধ হবে।
(২) নামাজে উৎসাহিত করতে শিশুদেরকে জায়নামাজ কিনে দিন। নিজস্ব জায়নামাজ ব্যবহারে তাদেরকে উৎসাহিত করুন।
(৩) শিশুরা সবসময়ই দৃশ্যমান বস্তু ও তালিকায় প্রতিক্রিয়া দেখায়। শিশুকে নামাজে উৎসাহিত করার জন্য নামাজের সময়সূচি সম্বলিত ঘড়ি, পঞ্জিকা ইত্যাদি ঘরে ঝুলিয়ে রাখুন। এসকল দৃশ্যমান সময়সূচি আপনার শিশুকে নামাজের জন্য উৎসাহিত করবে।
(৪) আল্লাহর কথা জানানো ছাড়া শিশুকে নামাজ শেখানো খুব কার্যকরী নয়। শিশুকে আল্লাহর সম্পর্কে জানান এবং তাঁর অফুরান অনন্ত নেয়ামতের কিছু বিবরণ দিন। আল্লাহর এই নেয়ামতসমূহের শোকর আদায়ের জন্য নামাজ পড়ার গুরুত্ব সম্পর্কে তাদের শিক্ষা দিন।
(৫) মাঝে মাঝে আপনার শিশুকে তার সকল বন্ধু-বান্ধবসহ একসঙ্গে নামাজ আদায়ের জন্য একত্রিত করুন। তাদেরকে নামাজের জন্য জায়নামাজ, টুপি, হিজাব, তসবিহ দিন। এরপর একসঙ্গে নামাজ আদায় করুন। নামাজ শেষে তাদেরকে চকলেট, ক্যান্ডি ইত্যাদি উপহার দিন এবং সম্ভব হলে নবী ও সাহাবীদের জীবনী হতে কিছু গল্প তাদের শোনান।
(৬) শিশুকে নামাজ আদায়ের শিক্ষায় তাড়াহুড়া না করে ধীর পদক্ষেপে অগ্রসর হোন। কখনোই আশা করবেন না, আপনার শিশু একবারেই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে ফেলবে।
(৭) শিশুকে নামাজে অভ্যস্ত করে তোলার পাশাপাশি খেয়াল রাখতে হবে সে ঠিকমতো নামাজ পড়ছে কি না। আর নামাজে অলসতা করলে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমি আমার খালা মায়মুনার কাছে রাতে অবস্থান করছিলাম। সন্ধ্যার পর রাসুলুল্লাহ (সা.) এসে জিজ্ঞেস করলেন, এই শিশু কি নামাজ পড়েছে? আমি বললাম, হ্যাঁ।’ -(সুনানে আবি দাউদ, হাদিস : ১৩৫৬)