29/09/2025
বাংলাদেশের মানুষের একটাই অসাধারণ গুণ — যখন যুক্তি ফুরায়, তখন তারা সরাসরি চলে যায় “চেহারার রাজ্যে”। যুক্তি নেই? সমস্যা নেই! কাইল্লা, বিশ্রী, বস্তির মাল — এই সব বিশেষণ তো আছেই!
গতকালকের লাইভেও ঠিক তাই হলো। বাদনাম রাজার বউ, ওরফে মৌসুমি, পুরো লাইভটাই কাটালেন আঁখিকে চেহারার বিচার করে। যেন তিনি নিজে কোনো ফর্সা দেবদূত, আর বাকিরা নর্দমার পোকা!
আমি আঁখির ভক্ত নই, তিশারও না। কিন্তু সত্যিটা তো সত্যিই — এক সময় কিন্তু আঁখি, আহাদ আর তিশা তিনজনেই ছিলো মিষ্টি বন্ধুত্বের গোলাপবাগানে। এমনকি সেই আঁখিই তো আহাদের সন্তানের মা! আর আজ সেই নারীকে ঘৃণার ঝুড়ি ভরে কথা শুনতে হলো সবাই মিলে।
কিন্তু সবচেয়ে লজ্জার বিষয় কি জানেন? আহাদ সাহেবের চুপ করে থাকা। নিজের সন্তানের মাকে নিয়ে অপমান উড়ে আসছে চারদিক থেকে, আর তিনি বসে আছেন দর্শকের সারিতে, যেন নাটকের শেষ দৃশ্যটা দেখতে এসেছেন।
আহাদ মশাই, একটা কথা কানে তুলুন — যদি আপনার সন্তানের প্রতি সামান্য মায়া, স্নেহ, বা পিতৃত্ববোধ থেকে থাকে, তবে সন্তানের মাকে অন্তত মানুষ হিসেবে সম্মান করতে শিখুন। ডিভোর্স হয়ে গেছে? খুব ভালো। কিন্তু সম্পর্ক শেষ হয়েছে বলে দায়িত্বটা শেষ হয়ে যায় না। আপনার সন্তানের চোখে তার মা’কে ছোট হতে দেবেন না।
আর আপনি মৌসুমি — আল্লাহ আপনাকে রঙিন গায়ের রঙ দিয়েছেন, মাশাল্লাহ! কিন্তু সেই রঙের সাথে কি অন্যকে অপমান করার লাইসেন্সও দিয়েছেন? আপনি মা হতে চলেছেন — সেটাও মনে রাখুন। একজন মা হতে যাওয়া নারীর মুখ দিয়ে যদি অন্য নারীর শরীর-চেহারা নিয়ে বিষ ঝরে, তবে সমাজটা আর কাকে দেখে শিখবে?
আপনাদের এই “ভার্চুয়াল নাটক” দেখে দেশের মানুষ এখন জানে — আত্মসম্মান কীভাবে বিক্রি করতে হয়, চরিত্র কিভাবে কাদা ছুঁড়ে ভিজিয়ে ফেলতে হয়, আর ইমেজ নামক জিনিসটা কিভাবে ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলতে হয়।
সেলিব্রেটি হবেন, কিন্তু আচরণ থাকবে পাড়ার অলিতে গলির ঝগড়াটে ভাবিতে মতো — বাহ!
অভিনন্দন! আপনারা এক নতুন শিল্পের জন্ম দিয়েছেন — “সোশ্যাল মিডিয়া সার্কাস।"