13/03/2024
সবুজ পৃথিবীর জন্য:
রোজ সকালে যেন সেই একই যুদ্ধ—পুরো আলমারি খুঁজে পরার জন্য এক সেট কাপড় পছন্দ করা। সেখানে ‘পরার মতো কোনো কাপড়’ পাওয়াটাই একটা ব্যাপার! হরহামেশা শপিং করার পরও কেন যে পরার মতো কাপড় খুঁজে পাওয়া যায় না, তা আসলেই বিস্ময়কর। তবে দু-একটা জুতসই কারণ খুঁজে বের করাও কিন্তু কঠিন ব্যাপার নয়। একটা উদাহরণ দিয়েই বলা যেতে পারে। ধরুন, এক জোড়া জুতা কিনতে গিয়ে ঝোঁকের বশে কিনে ফেললেন পোশাক, ব্যাগসহ আরও দু-একটা ফ্যাশন পণ্য।
কিন্তু ঘরে আনার পর সেগুলোর কোনো কোনোটা কেবল হয়তো আলমারিতেই বন্দী রইল। ওই পোশাকটি হয়তো আপনাকে মানাচ্ছে না কিংবা সেগুলো পরার উপলক্ষ খুঁজে পাচ্ছেন না।পরিবেশবাদীরা টেকসই উন্নয়নের জন্য কেবল সবুজায়নের দিকেই নজর দিচ্ছেন, তা কিন্তু নয়। তাঁদের নজর রয়েছে পৃথিবীবাসীর আলমারিতেও। কারণ, আপনার পরিধেয় পোশাকটি কোন উপাদানে তৈরি এবং তা পৃথিবীর বর্জ্য উৎপাদনে কতটা ভূমিকা রাখছে, তা-ও ভাবনার বিষয়। মানেটা সহজ—প্রয়োজনের অতিরিক্ত কোনো কিছুই কেনার দরকার নেই। কথাটা পরিধেয় পোশাক ও অনুষঙ্গের বেলায়ও খাটে। তাই তাঁদের ভাষ্য, ফ্যাশন পণ্যে ঠিক ততটুকুই খরচ করুন, যেটুকু না করলেই নয়। শুধু এতেই চলবে না। পাশাপাশি পোশাকের উপযোগিতা যত দিন থাকবে, তত দিন তা ব্যবহার করতে হবে। পরার উপযোগিতা হারালে সেই পোশাক ফেলে না দিয়ে অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা যায়, সে কথাও ভাবতে উৎসাহী করছেন পরিবেশবাদীরা। একটু সচেতন হলেই আপনার আলমারিকে করে তুলতে পারেন সবুজবান্ধব। প্রয়োজন বুঝে ভালো পোশাক কিনুন কোনো পোশাক বা ফ্যাশন অনুষঙ্গ কেনার ক্ষেত্রে প্রথমে নিজেকে প্রশ্ন করুন, আপনি কী কিনছেন এবং কেন কিনছেন। আপনার আসলে কী প্রয়োজন। আপনি কি পোশাকটি কমপক্ষে ৩০ বার পরবেন; যা কিনতে চাইছেন, তা কি ইতিমধ্যে আপনার আলমারিতে আছে। যদি অনুষঙ্গ হয়, তা আদতেই কি আপনার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে যায়, নাকি জিনিসটি সুন্দর বলেই কিনতে ইচ্ছে হচ্ছে। যদি উত্তরগুলোয় যথাযথ যুক্তি খুঁজে পান, তাহলে তা কিনে ফেলুন। নয়তো এ বেলায় সংযত হোন। বাড়তি খরচ ও আলমারিতে বাড়তি ফ্যাশন অনুষঙ্গ আপনাকে অসুবিধায় ফেলতে পারে।