13/05/2025
এই যুগের আত্মনির্ভরশীল মেয়ে vs আমাদের মা-খালা-নানী-দাদী।
আজকের আমার এই লেখা সেইসব আত্মনির্ভরশীল মেয়ে নয় যারা ভেতরে ভেতরে নিজের ইনকাম নিয়ে খুব গর্ব করতে করতে তার পার্টনার কে হেয় বা অপদস্থ করে। আমি সেইসব আত্মনির্ভরশীল মেয়ের কথা বলতে চাই যারা শুধুই নিজের সম্মান, শ্রদ্ধাটা কে বাচাতে, ভবিষ্যতে তার পার্টনার এবিউসিভ বা শ্বশুরবাড়ি এবিউসিভ হলেও যেনো নিজের ভালোর কথা চিন্তা করে হলেও একটা খারাপ পরিস্থিতি থেকে কারো সাহায্য ছাড়া বের হতে পারে, নিজে নিজের খরচ বহন করতে পারে সেজন্য আত্মনির্ভরশীল হয়েছে বা হতে চায় তাদের নিয়ে কথা বলতে চাই।
আমাদের বর্তমান যে সমাজের চিত্র, সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে আমরা এখন অনেক অনেক ঘটনা খুব সহজেই জানতে পারি যে মেয়েরা কিভাবে কোথায় এবিউজের স্বীকার হচ্ছে, কত কত অসহায়ত্বের সাথে কত শত মেয়ে দিন পার করছে। বেশিরভাগ মেয়েদের এসব দূর্দশার কারণ কিন্তু আর্থিক অস্বচ্ছলতা। মেয়েটার নিজের যদি সম্পদ বা স্বচ্ছলতা থাক্তো তাহলে কিন্তু মেয়েদের এটলিস্ট নিজের থাকা, খাওয়া, বাচ্চা লালন পালনের কথা চিন্তা করে এমন কোনো পরিবেশে খাপ খাইয়ে থাকতে হতো না যেটা তার জন্য অসম্মানের। অনেকে তো নিজের জীবন টাই দিয়ে দেয়। গতকাল একটা ছবি দেখলাম এক মা দুই সন্তানকে সহ নিজে আত্মহত্যা করেছেন। কতটা মানসিকভাবে বিদ্ধস্ত থাকলে, অসহায় হলে সেই মহিলা এমন কাজ করতে পারে। হয়তো তার স্বামী ভালো ছিলো না, তার বাবার বাড়ি বা শ্বশুর বাড়ির কেউ সাপোর্টিভ ছিলো না তবে সেই মহিলার যদি নিজের কোনো আর্থিক সাপোর্ট থাক্তো, আমার মনে হয় এটলিস্ট দুইটা বাচ্চা নিয়ে মৃত্যুর মত কোনো সিদ্ধান্ত সে নিতো না।
আমাদের দেশের মেয়েদের এখন বিয়ে করতে অনেক ভয়। পার্টনার কেমন হবে, শ্বশুর বাড়ি কেমন হবে। এখনকার মেয়েরা অনেক সম্মান চায়। তাদের ভাত কাপড় একটু কম পেলেও হবে, তার আগে হাসব্যান্ডের থেকে প্রপার সম্মান, কেয়ার টা চায়। তাকে যেনো কোথাও কারো সামনে ছোট না করে, সবসময় বড় করে রাখে এটা চায়। একটা মেয়ে আসলে হাসব্যান্ডের থেকে ৬প্রাথমিকভাবে এগুলোই চায়, তারপরে আসে ভালো খাওয়া, ভালো বাসস্থান, সম্পদ, আরো যা যা আছে আর কি।
এখন আমার প্রশ্ন, আমাদের দেশের ছেলেরা শিক্ষিত হয়েছে ঠিক ই, কিন্তু বিয়ের পর নিজের পরিবারে যখন বউকে নিয়ে যায় তখন সে হয়ে যায় একেবারেই কিছু না বোঝা নাবালক। সে মা, বাবা, বোন, ভাই সবার কথাই শুনবে, শুধু তার বউকে কিভাবে ট্রিট করতে হবে সবার মাঝে, কিভাবে তার নতুন জীবনটা তার আগামীর জন্যেও হয় সাফল্যমন্ডিত বা ধংস বয়ে আনতে পারে সেটা সে বুঝে উঠতে পারে না বা বুঝতেই চায় না। কোনো কোনো ছেলে হয় নিজের ফ্যামিলিকে একদম ফেরেশতা মনে করে, আর কিছুদিন পর বউ হয়ে যায় ভিলেইন। আর কোনকোনো ছেলে হয়তো বউকে ভালোবাসে, ফ্যামিলিকেও ভালোবাসে, তবে সবার সামনে বউকে কিভাবে উপস্থাপন করতে হবে, কিভাবে সম্মান দিতে হবে সেটা বুঝে না বা ভয়ে করে না অথবা তার পুরুষত্বের খাতিরে সে সবাইকে দেখাতে চায় যে, আমি বউয়ের গোলাম নই, বউ আমার গোলাম।
দেখুন, হাসব্যান্ড ওয়াইফ পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে উভয়েই উভয়ের গোলাম, এবং কেউ ই কারো গোলাম নয় বরং একে অপরের ঢাল। দুটোই সত্যি। তবে কোনো হাসব্যান্ড যদি তার স্ত্রীকে সবার সামনে নিজেই ঠিকঠাক সম্মান দিয়ে কথা না বলে, কেউ তার বউকে অসম্মান করে কথা বললে সে যদি ওই।সময়েই কথাটা ডিফেন্ড না করে এতে করে স্ত্রী মানুষ টা কিন্তু চরম কস্ট এবং অপমানিত বোধ করে। মূলতঃ এসব কিছুর কারণেই এখনকার মেয়েরা নিজে কিছু একটা করতে চায়। হয়তো খুব বিশাল কিছু না, তবে নিজে চলার মত একটা আর্নিং চায়। আমাদের ছেলেরা এইটুকু নিশ্চয়তা মেয়েদেরকে দিতে পারে না বলেই মেয়েরা আজকে আত্মনির্ভরশীল হবার জন্য পরিশ্রম করছে। স্বভাবগতভাবে আমরা মেয়েরা আসলে ডমিন্যান্স চাই পুরুষের, চাই আমার উপর কেউ কর্তৃত্ব করুক, কেউ আমার দায়িত্ব নিক, আমি বাসায় থাকবো, সংসার গুছাবো, বাচ্চা লালনপালন করবো আর সে বাইরে থেকে রাতে ফিরবে। এটা আমার মনে হয় সকল সুস্থ মস্তিষ্কের সব মেয়েই চায়। কিন্তু শুধু একটা ভয়। যদি আমার পার্টনার আমাকে প্রপার সম্মান টা না দেয়, সবথেকে সুন্দর বেচে থাকা হলো কারো ক্ষতি না করে, সম্মানের সাথে বেচে থাকা নিজের আপনজনের সাথে। আমাদের মেয়েরা এখন অনেক সচেতন। তারা এইটুকু নিশ্চয়তার অভাবে এখন বসে না থেকে অন্যের সম্মানের আশাই ছেড়ে দিয়েছে। হলে ভালো না হলে আমার টা আমি দেখবো, এমন আর কি।
অপরদিকে, অনেকেই আজকাল বলে শুনি, আমাদের নানী, দাদি তারা স্বাবলম্বী ছিলো না, তাই তাদের সংসার ভাংতো না। মেয়েদের এত স্বাবলম্বী হয়ে আরো খারাপ ই হয়েছে। আমাদের মা খালা, দাদীরা সকাল বিকাল স্বামীর হাতে মার খেতো, আবার ঠিক ই স্বামীর জন্য রান্না করে খাবার পাতে তুলে দিতো। সব মুখ বুজে সহ্য করতো, বাচ্চাদের কথা চিন্তা করতো, কিন্তু যাদের জীবনটা এভাবে গেছে তাদের মনের ভেতরে কস্টের যে কত পাহাড় জমে থাক্তো সেটা কি কেউ দেখেছেন? কস্ট পেতে পেতে তারা যে নিজেই কবে ভয়ংকর মন্সটার হয়ে যায় সেটা কেউ লক্ষ্য করেছেন? তাদের বিয়ে হয় খুব ই অল্প বয়সে, তাদেরকে শেখানো হতো স্বামী মানে গড। যা করবে, যা বলবে সেটাই শেষ। আর কোনো কথা নেই। তাই হয়তো তারা আরো সহনশীল ছিলো। কিন্তু এটা কি ঠিক? আমাদের ইসলাম কি এগুলো সমর্থন করে? আমাদের অনেক আগের জেনারেশনের যারা শিক্ষিত ছিলো, আমি এমন কয়েকজন কে চিনি যারা তাদের স্ত্রীর সাথে সর্বোচ্চ সম্মান এবং ভালো ব্যবহার করতো। তাদের দাম্পত্য আট দশটা মানুষের মত ছিলো না। আমাদের ইস্লামিক জীবন যাপন, আমাদের মহানবী তার স্ত্রীদের সাথে যেভাবে ব্যবহার করতেন, সেগুলো তারা ফলো করতেন। আর যারা অন্যায় সহ্য করেও সংসার করেছেন তারা হয় অপারগ ছিলেন বা জ্ঞ্যানের অভাব ছিলো বা বাচ্চার কথা চিন্তা করে সংসার।করেছেন। কিন্তু আমৃত্যু একটু সম্মানের জন্য তাদের সেই আফসোস থেকেই গেছে।
আমাদের বর্তমান মেয়েরা সচেতন বলেই জেনে বুঝে সেই অসম্মানের বোঝা বয়ে বেড়াতে চায়না। এটা কোনো ভুল না। নিজেকে ভালোবাসার একটা স্টেপ। সবাই যে শুধু পার্টনারের কথা চিন্তা করেই জব করে তা না, তবে অনেকেই আছেন এমন আমি যাদের কথা বলছি।
আমাদের মেয়েদের কি এত দরকার ছিলো শক্ত হবার? এই সমাজ, সমাজের পুরুষেরা কি যুগের পর যুগ আমাদের এই পরিস্থিতিতে নিয়ে আসেনি? এই দায়ভার আপ্নারা কেনো নিতে চান না? আমরা তো বাচ্চার সাথে সারাদিন বাসায় সময় কাটাতে চাই, হেসে খেলে জীবনটা পার করে দিতে চেয়েছিলাম, এই সমাজের পুরুষেরা কি সেটা কোনোদিন বুঝতে চেস্টা করেছেন?বাচ্চা রেখে একজন মা কতটা কস্টে বাইরে কাজে যান সেয়াতা কি কেউ দেখেছেন আপ্নারা? এগুলো মেয়েরা সত্যিই চায়নি কোনোদিন।