Parul Fashion House

Parul Fashion House Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Parul Fashion House, Clothing (Brand), দোকান নং-২২, আল-আরাবিয়া জামে মসজিদ মার্কেট মিল্কভিটা রোড, সেকশন-৭, মিরপুর, পল্লবী, Dhaka.

সততার সাথে ব্যবসা করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য🤚

এখানে ছেলে,মেয়ে ও ছোট্ট সোনা- মনিদের জন্য ব্র্যান্ডের পোষাক সুলভ মূল্যে পাওয়া যায়।🥰

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন,
"যে ব্যক্তি ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রতারণা করে, পণ্যে ভেজাল মেশায় সে আমার দলভুক্ত নয়।"(মুসলিম শরিফ)📖

30/03/2025

আগের সব কষ্ট,,, করে ফেল নষ্ট।
ঈদের দিনে সবার প্রাণে,,,, কেউ রেখ না দুঃখ মনে। শুভ হোক ঈদের দিন,
খুশি থাকো সারা দিন।

*সবাইকে ঈদ মোবারক*

13/03/2025

اِنَّ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا بِاٰیٰتِنَا سَوۡفَ نُصۡلِیۡہِمۡ نَارًا ؕ کُلَّمَا نَضِجَتۡ جُلُوۡدُہُمۡ بَدَّلۡنٰہُمۡ جُلُوۡدًا غَیۡرَہَا لِیَذُوۡقُوا الۡعَذَابَ ؕ اِنَّ اللّٰہَ کَانَ عَزِیۡزًا حَکِیۡمًا
নিশ্চয়ই যারা আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করেছে, আমি তাদেরকে জাহান্নামে ঢোকাব। যখনই তাদের চামড়া জ্বলে সিদ্ধ হয়ে যাবে, তখন আমি তাদেরকে তার পরিবর্তে অন্য চামড়া দিয়ে দেব, যাতে তারা শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করতে পারে। নিশ্চয়ই আল্লাহ মহাক্ষমতাবান প্রজ্ঞাময়।

—আন নিসা - ৫৬

হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদের গৃহ ব্যতীত অন্য গৃহে প্রবেশ করো না, যে পর্যন্ত অনুমতি গ্রহণ না কর এবং গৃহবাসীদেরকে সালাম না ...
10/03/2025

হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদের গৃহ ব্যতীত অন্য গৃহে প্রবেশ করো না, যে পর্যন্ত অনুমতি গ্রহণ না কর এবং গৃহবাসীদেরকে সালাম না কর। এটাই তোমাদের জন্যে উত্তম। আশা করা যায়, তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে। যদি তোমরা তাতে কাউকে না পাও, তবুও অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত সেখানে প্রবেশ করো না। যদি তোমাদেরকে বলা হয় ফিরে যাও, তবে ফিরে যাবে। এটাই তোমাদের জন্যে শুদ্ধতর। তোমরা যা কিছুই কর, আল্লাহ সে সম্পর্কে পরিপূর্ণ জ্ঞাত।
(সূর আন-নূরঃ ২৭, ২৮)

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (তাওহীদ)অধ্যায়ঃ ৩০/ সাওম/রোযা (كتاب الصوم)হাদিস নম্বরঃ ১৮৯১*৩০/১. রমাযানের সওম ওয়াজিব হওয়া সম্পর্কে।...
05/03/2025

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
অধ্যায়ঃ ৩০/ সাওম/রোযা (كتاب الصوم)
হাদিস নম্বরঃ ১৮৯১

*৩০/১. রমাযানের সওম ওয়াজিব হওয়া সম্পর্কে।*

وَقَوْلِ اللهِ تَعَالَى (يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمْ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ)

মহান আল্লাহর বাণীঃ ‘‘হে মু’মিনগণ! তোমাদের জন্য সিয়াম ফরজ করা হল, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর, যেন তোমরা মুত্তাকী হতে পার।’’ (আল-বাকারাহ্ঃ ১৮৩)

১৮৯১. তালহা ইবনু ‘উবায়দুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, এলোমেলো চুলসহ একজন গ্রাম্য আরব আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এলেন। অতঃপর বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে বলুন, আল্লাহ তা‘আলা আমার উপর কত সালাত ফরজ করেছেন? তিনি বললেনঃ পাঁচ (ওয়াক্ত) সালাত; তবে তুমি যদি কিছু নফল আদায় কর তা স্বতন্ত্র কথা। এরপর তিনি বললেন, বলুন, আমার উপর কত সিয়াম আল্লাহ তা‘আলা ফরজ করেছেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ রমাযান মাসের সওম; তবে তুমি যদি কিছু নফল সিয়াম আদায় কর তা হল স্বতন্ত্র কথা। এরপর তিনি বললেন, বলুন, আল্লাহ আমার উপর কী পরিমাণ যাকাত ফরজ করেছেন? রাবী বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে ইসলামের বিধান জানিয়ে দিলেন। এরপর তিনি বললেন, ঐ সত্তার কসম, যিনি আপনাকে সত্য দিয়ে সম্মানিত করেছেন, আল্লাহ আমার উপর যা ফরজ করেছেন, আমি এর মাঝে কিছু বাড়াব না এবং কমাবও না। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সে সত্য বলে থাকলে সফলতা লাভ করল কিংবা বলেছেন, সে সত্য বলে থাকলে জান্নাত লাভ করল। (৯৪৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৭৫৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৭৬৭)

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

পাকিস্তানি সদাবাহার থ্রি-পিস ড্রেস ✨💖 ট্রেন্ডি ডিজাইন ও আরামের নিখুঁত সংমিশ্রণ!💃 ড্রেস: প্রিমিয়াম কটন ফ্যাব্রিক, যা দিন...
05/03/2025

পাকিস্তানি সদাবাহার থ্রি-পিস ড্রেস ✨

💖 ট্রেন্ডি ডিজাইন ও আরামের নিখুঁত সংমিশ্রণ!
💃 ড্রেস: প্রিমিয়াম কটন ফ্যাব্রিক, যা দিনভর আরামদায়ক।
👗 দুপাট্টা: সফট অর্গানজা, যা স্টাইলকে আরও গ্ল্যামারাস করে তুলেছে।
🎨 রঙ: স্টাইলিশ নেভি ব্লু, যা আপনাকে দেবে এলিগ্যান্ট লুক!

💰 মূল্য: ইনবক্স!

🌟 দারুণ সব কালারে পাওয়া যাচ্ছে, পারফেক্ট যে কোনো অনুষ্ঠানের জন্য!
📩 অর্ডার করতে ইনবক্স করুন এখনই! 💌।

#সদাবাহারড্রেস #পাকিস্তানিকলেকশন #কটনড্রেস #অর্গানজাদুপাট্টা

⚠️ ইফতারে চিনির শরবত ও অতিরিক্ত শরবত খাওয়ার ব্যাপারে সতর্কতা ও প্রচলিত কিছু ভুল ধারনা।সারাদিন রোজা রেখে  ইফতারের শুরুতেই...
04/03/2025

⚠️ ইফতারে চিনির শরবত ও অতিরিক্ত শরবত খাওয়ার ব্যাপারে সতর্কতা ও প্রচলিত কিছু ভুল ধারনা।

সারাদিন রোজা রেখে ইফতারের শুরুতেই চিনি বা মিস্টি/ সুগার জাতীয় সরবত খেলে নিচের সম্ভাব্য লক্ষণ গুলো দেখা দিতে পারে।

1. রক্তে শর্করার দ্রুত ওঠানামা – সারাদিন রোজা রাখার কারনে রক্তে সুগার অনেক কমে যায়, ইফতারের সময় চিনি সরবত খেলে রক্তে ইনস্ট্যান্ট গ্লুকোজ অতিরিক্ত মাত্রায় শোধন হয়, তাই রক্তে সুগার বেড়ে যায়, যা মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, অস্থিরতা, নামাজের সময় অধিক ঘাম দেয়া, এবং বমি বমি ভাবের কারণ হতে পারে।

2. ইনসুলিনের অতিরিক্ত ক্ষরণ – হঠাৎ বেশি সুগার খেলে এর রিকোভারী করতে সরীর অটোমেটিক প্রচুর ইনসুলিন নিঃসরণ করে, ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যায়, এতে মাথা ঘোরানো ও গা ঘুরানোর অনুভূতি হয়।

3. গ্যাস্ট্রিক বা অ্যাসিডিটি সমস্যা – খালি পেটে সরাসরি মিষ্টি জাতীয় কিছু খেলে পাকস্থলীতে অ্যাসিড ক্ষরণের মাত্রা বেড়ে যায়, যা পেট ফাপা ও গা গুলানোর অনুভূতি সৃষ্টি করতে পারে।

আপনার করণীয়:

✅ ইফতারে সরাসরি চিনি সরবত না খেয়ে খেজুর ও স্যালাইন পানি পান করুন এতে ইলেক্টলাইট ঠিক থাকবে।
✅ ধীরে ধীরে পর্যায়ক্রমে খাবার গ্রহন করুন। ভুলেও এক সাথে বেশি খাবার খাবেন না!
✅ প্রোটিন ও ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খান – যেমন ছোলা, ডিম, দই ইত্যাদি, যা রক্তে শর্করার ওঠানামা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করবে।
✅ পর্যাপ্ত পানি পান করুন ও তরল খাবার খান– ইলেকট্রোলাইট ব্যালান্স বজায় রাখতে টমেটো, শসা, ডাবের পানি গ্রহন করুন।

স্যালাইন না থাকলে পরিমিত মাত্রায় লবণ এর সাথে গুর বা চিনি মিলিয়ে হাতে বানানো স্যালাইন পান করুন।

Note:
✅ যাদের শরীর ঘামিয়ে যায় তারা ১০০% সরবতে লবন গ্রহন করবেন,
নাহলে সমস্যায় পরবেন। 🥰

⛔ যাদের শরীরে ঘাম হয় না,তারা লবন খাওয়ার ব্যাপারে সাবধান! আপনাদের জন্য লবন বিষ!

ধন্যবাদ!

পাকিস্তানি সদাবাহার থ্রি-পিস ড্রেস ✨💖 ট্রেন্ডি ডিজাইন ও আরামের নিখুঁত সংমিশ্রণ!💃 ড্রেস: প্রিমিয়াম কটন ফ্যাব্রিক, যা দিন...
26/02/2025

পাকিস্তানি সদাবাহার থ্রি-পিস ড্রেস ✨

💖 ট্রেন্ডি ডিজাইন ও আরামের নিখুঁত সংমিশ্রণ!
💃 ড্রেস: প্রিমিয়াম কটন ফ্যাব্রিক, যা দিনভর আরামদায়ক।
👗 দুপাট্টা: সফট অর্গানজা, যা স্টাইলকে আরও গ্ল্যামারাস করে তুলেছে।
🎨 রঙ: স্টাইলিশ নেভি ব্লু, যা আপনাকে দেবে এলিগ্যান্ট লুক!

💰 মূল্য: ইনবক্স!

🌟 দারুণ সব কালারে পাওয়া যাচ্ছে, পারফেক্ট যে কোনো অনুষ্ঠানের জন্য!
📩 অর্ডার করতে ইনবক্স করুন এখনই! 💌

#সদাবাহারড্রেস #পাকিস্তানিকলেকশন #কটনড্রেস #অর্গানজাদুপাট্টা

‎আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃরাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও নেকীর আশ...
26/02/2025

‎আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও নেকীর আশায় রমযানের কিয়াম করে (তারাবীর নামায পড়ে), তার পূর্বেকার সমস্ত গোনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।” (বুখারী ৩৭, মুসলিম ৭৫৬)

পবিত্র মাহে রমজানের প্রস্তুতি -প্রাককথনঃদেখতে দেখতে পবিত্র মাহে রমজান ২০২৩ আমাদের দোড়গোড়ায় এসে উপস্থিত। রমজান, মুমিনের জ...
25/02/2025

পবিত্র মাহে রমজানের প্রস্তুতি -
প্রাককথনঃ
দেখতে দেখতে পবিত্র মাহে রমজান ২০২৩ আমাদের দোড়গোড়ায় এসে উপস্থিত। রমজান, মুমিনের জীবনের শ্রেষ্ঠতম আনন্দের ক্ষন, অফুরন্ত প্রাপ্তির মাস, অকল্পনীয় রহমতলাভের নৈস্বর্গিক মুহূর্তরাজি। রমজান এলে মুমিনের হৃদয়বাগে জেগে ওঠে আনন্দের হিল্লোল, অন্তরে ভেসে ওঠে সিয়াম সাধনার আলোকোদ্ভাসিত এক নূরাণি পরিবেশ। সারা দিনমান উপোস-অনাহারী থাকার পরে সূর্যাস্তের সাথে সাথে ইফতারের অনাবিল আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়া- এ যেন জান্নাতি মিলনমেলারই নয়নজুড়ানো অপরূপ এক দৃশ্য, এর তৃপ্তি পরিতৃপ্তি ভাষায় প্রকাশ করা যায় কি? এমনিকরেই রাতের প্রথমার্ধে তারাবীহ নামাজ শেষে অপরিসীম তৃপ্তির বাধভাঙ্গা নিদ্রা শেষে রাতের শেষ প্রহরে সাহরিতে জেগে ওঠা- পবিত্র কুরআন নাযিলের পবিত্রতম এ মাসটিজুড়ে এ এক অন্যরকম ভালোলাগা আর ভালোবাসারই যেন গল্প। ফিরে ফিরে আসে, ঘুরে ঘুরে আসে। মুমিনের জীবনে। বছর বছর। কিন্তু আবেদন হারায় না। রমজানের সাথে হৃদ্যতা হ্রাস পায় না। বরং। বেড়েই চলে। অধিক। আরও অধিক। গত বছরের তুলনায়। এই বছরটিতে। রমজান প্রাপ্তির প্রত্যাশা। আরও বৃদ্ধি পায়। আরও। আরও।

এক: অনেকের কাছে এই বিষয়টি গুরুত্বহীন মনে হতে পারে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, এমন একটি সময় আমরা অতিবাহিত করছি যখন রমজান সম্পর্কে বহু মানুষের ধ্যান ধারণা আগেকার দিনের মত নেই। তারা এই মাসকে খাবার-দাবার, পান-পানীয়, মিষ্টি-মিষ্টান্ন, রাতজাগা ও স্যাটেলাইট চ্যানেল উপভোগ করার মৌসুম বানিয়ে ফেলেছে। এর জন্য তারা রমজান মাসের আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করে; এই আশংকায় যে- কিছু খাদ্য দ্রব্য কেনা বাদ পড়ে যেতে পারে অথবা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেতে পারে। এভাবে তারা খাদ্যদ্রব্য কেনা, হরেক রকম পানীয় প্রস্তুত করা এবং কী কী অনুষ্ঠান দেখবে, আর কী কী দেখবে না সেটা জানার জন্য স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোর প্রোগ্রামসূচী অনুসন্ধান করার মাধ্যমে এর জন্য প্রস্তুতি নেয়। অথচ রমজান মাসের তাৎপর্য সম্পর্কে সত্যিকার অর্থেই তারা অজ্ঞ। তারা এ মাসকে ইবাদত ও তাকওয়ার পরিবর্তে উদরপূর্তি, চক্ষুবিলাস এবং আনন্দ উল্লাসের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে।

দুই: পক্ষান্তরে অপরদিকে কিছু মানুষ রমজান মাসের তাৎপর্য সম্পর্কে সচেতন। তারা রজব এবং শাবান মাস থেকেই রমজানের প্রস্তুতি নিতে থাকে। বস্তুতঃ মুমিন হৃদয়ে রমজানপ্রাপ্তির অনিঃশেষ প্রত্যাশারা ডানা মেলতে থাকে রজবের স্নিগ্ধ একফালি বাঁকা চাঁদ পশ্চিমাকাশে উদিত হওয়ার পর হতেই। তারা মন ও মননে তৈরি করে নিতে থাকেন নিজেদের এবং পবিত্র মাহে রমজানকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি নিতে থাকেন। স্বপ্ন দেখতে থাকেন, প্রস্তুতি নিতে থাকেন, কিভাবে অতিবাহিত করবেন এই মোবারক মাসের ততোধিক মোবারক সময়গুলোকে।

পবিত্র মাহে রমজানের জন্য প্রস্তুতির কিছু প্রশংসনীয় পদক্ষেপ হল:

১. ইখলাছপূর্ণ ইবাদতের দৃঢ় সংকল্প করা এবং একনিষ্ঠভাবে তাওবা করাঃ

যে কোন কাজে সফলতার পূর্বশর্ত হ’ল সেই বিষয়ে দৃঢ় সংকল্প করা। আর ইবাদত কবুল হওয়ার জন্য খালেছ নিয়তের বিকল্প নেই। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ، ‘নিশ্চয়ই সকল কাজের ফলাফল নিয়তের উপর নির্ভরশীল’। -বুখারী হা/১

তওবা করা সবসময় ওয়াজিব। তবে ব্যক্তি যেহেতু এক মহান মাসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তাই অনতিবিলম্বে নিজের মাঝে ও স্বীয় রবের মাঝে যে গুনাহগুলো রয়েছে এবং নিজের মাঝে ও অন্য মানুষের মাঝে অধিকার ক্ষুণ্ণের যে বিষয়গুলো রয়েছে সেগুলো থেকে দ্রুত তাওবা করে নেয়া উচিত। যাতে করে সে পূত-পবিত্র মন ও প্রশান্ত হৃদয় নিয়ে এ মুবারক মাসে প্রবেশ করতে পারে এবং আল্লাহর আনুগত্য ও ইবাদতে মশগুল হতে পারে। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন:

يَاأَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوْا تُوبُوْا إِلَى اللهِ تَوْبَةً نَصُوْحًا عَسَى رَبُّكُمْ أَنْ يُكَفِّرَ عَنْكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَيُدْخِلَكُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِيْ مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ،

‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর কাছে খালেছ তওবা কর। আশা করা যায় তোমাদের রব তোমাদের পাপ সমূহ মোচন করবেন এবং তোমাদেরকে এমন জান্নাত সমূহে প্রবেশ করাবেন যার তলদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত’। -তাহরীম ৬৬/৮

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ

“আর হে মুমিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহ্‌র কাছে তাওবা কর; যাতে করে সফলকাম হতে পার।” -২৪ আন-নূর : ৩১

ইবনে ইয়াসার রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:

( يَا أَيُّهَا النَّاسُ تُوبُوا إِلَى اللَّهِ فَإِنِّي أَتُوبُ فِي الْيَوْمِ إِلَيْهِ مِائَةَ مَرَّةٍ ) رواه مسلم ( 2702 )

“হে লোকেরা, আপনারা আল্লাহ্‌র কাছে তাওবা করুন। আমি প্রতিদিন তাঁর কাছে ১০০ বার তাওবা করি।” -হাদিসটি বর্ণনা করেছেন ইমাম মুসলিম (২৭০২)

তিনি আরো বলেন,

وَاللهِ إِنِّى لأَسْتَغْفِرُ اللهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ فِى الْيَوْمِ أَكْثَرَ مِنْ سَبْعِيْنَ مَرَّةً.

‘আল্লাহর শপথ! আমি প্রতিদিন আল্লাহর কাছে সত্তরবারেরও অধিক ইস্তিগফার ও তওবাহ করে থাকি’। -বুখারী হা/৬৩০৭; ইবনু মাজাহ হা/৩৮১৬; মিশকাত হা/২৩২৩

রাসূল (ছাঃ)-এর পূর্বাপর সব গোনাহ আল্লাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন। অথচ এরপরও তিনি প্রতিদিন ৭০ থেকে ১০০ তওবা করেন। সুতরাং আমাদেরকেও গোনাহ থেকে অধিকহারে তওবা করা আবশ্যক।

২. অধিক পরিমানে দোআর ইস্তেমাল করা:

কিছু কিছু সলফে সালেহীন হতে বর্ণিত আছে যে, তারা ৬ মাস আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন যেন আল্লাহ তাদেরকে রমজান পর্যন্ত পৌঁছান। রমজানের পর পাঁচ মাস দোয়া করতেন যেন আল্লাহ তাঁদের আমলগুলো কবুল করে নেন। তাই একজন মুসলিম তার রবের কাছে বিনয়াবনতভাবে দোয়া করবে যেন আল্লাহ তাআলা তাকে শারীরিকভাবে সুস্থ রেখে, উত্তম দ্বীনদারির সাথে রমজান পর্যন্ত হায়াত দেন। সে আরো দোয়া করবে আল্লাহ যেন তাকে নেক আমলের ক্ষেত্রে সাহায্য করেন। আরো দোয়া করবে আল্লাহ যেন তার আমলগুলো কবুল করে নেন। দুআর আদেশ স্বয়ং আল্লাহর-

ادْعُوْنِیْۤ اَسْتَجِبْ لَكُمْ.

তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। -সূরা মুমিন (৪০) : ৬০

হাদীস শরীফে বলা হয়েছে-

الدّعَاءُ هُوَ الْعِبَادَةُ
দুআই ইবাদত। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১৪৮১

অর্থাৎ নামায, রোযা, হজ্ব, যাকাতের মতো দুআও একটি ইবাদত। তাই আল্লাহ্র কাছে কোনো কিছু চেয়ে দুআ করার পর সে দুআ কবুল হলে তো ভালো। কিন্তু যদি কবুল নাও হয়, তাহলেও এর সওয়াব পাওয়া যাবে। যেহেতু দুআ একটি স্বতন্ত্র ইবাদত। এর সওয়াব ও প্রতিদানের সঙ্গে তা কবুল হওয়া বা না হওয়ার কোনোই সম্পর্ক নেই।

দুআ তো কত উদ্দেশ্যেই হতে পারে! আল্লাহ্র বান্দা আল্লাহ্র কাছে তার কৃত গুনাহ থেকে ক্ষমা চেয়ে দুআ করতে পারে, তার সংকট ও পেরেশানি থেকে মুক্তি চেয়ে দুআ করতে পারে, তার ঋণ ও অসুস্থতা দূর করে দেয়ার জন্যে দুআ করতে পারে, যে কোনো বৈধ প্রয়োজন পূরণের জন্যেও দুআ করতে পারে। আল্লাহ্র দয়া ও অনুগ্রহ এতটাই উন্মুক্ত, হাদীসের ভাষ্য অনুসারে তিনি প্রতি রাতেই ডেকে ডেকে বলতে থাকেন- কে আছে প্রয়োজন প্রার্থনাকারী, কে আছে গুনাহ থেকে ক্ষমাপ্রার্থনাকারী...। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

فَإِذَا مَضَى ثُلُثُ اللَّيْلِ، أَوْ نِصْفُ اللَّيْلِ، نَزَلَ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا، فَقَالَ: هَلْ مِنْ سَائِلٍ فَأُعْطِيَهُ؟ هَلْ مِنْ مُسْتَغْفِرٍ فَأَغْفِرَ لَهُ؟ هَلْ مِنْ تَائِبٍ فَأَتُوبَ عَلَيْهِ؟ هَلْ مِنْ دَاعٍ فَأُجِيبَهُ؟

রাতের যখন এক তৃতীয়াংশ কিংবা অর্ধেক কেটে যায়, তখন আল্লাহ দুনিয়ার আকাশে এসে বলতে থাকেন- কোনো প্রয়োজন প্রার্থনাকারী আছে কি, আমি তাকে দান করব; কোনো ক্ষমাপ্রার্থনাকারী আছে কি, আমি তাকে ক্ষমা করে দেব; কোনো তওবাকারী আছে কি, আমি তার তওবা কবুল করব; দুআ করার মতো কেউ আছে কি, আমি তার দুআয় সাড়া দেব? -মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ৯৫৮৯

মুমিন বান্দা যখন আল্লাহকে ডাকে তখন সে সরাসরি আল্লাহ তাআলার সঙ্গেই কথা বলে। মহামহিম প্রভুর সঙ্গে একান্তে এ কথোপকথনের তৃপ্তিই আলাদা! দুআর মধ্য দিয়ে তাই আল্লাহ্র সঙ্গে বান্দার সেতুবন্ধন রচিত হয়। দুআর পর যদি প্রার্থিত বিষয় অর্জিত হয়ে যায় তাহলে তো হলোই, আর বাহ্যত যদি তা নাও হয় তবে পরম দয়াময় প্রভুর সঙ্গে আবারও একান্তে কথোপকথনের সুযোগ পাওয়া যাবে। ফলে দুআয় আসলেই ব্যর্থতা বলে কিছু নেই।

আল্লাহ তাআলার মহানুভবতা কি বর্ণনা করে শেষ করা যাবে! তাঁর কাছে যখন বান্দা প্রার্থনার ঝাঁপি মেলে ধরে, তিনি মোটেও বিরক্ত হন না। যে কেউ যত বেশি ইচ্ছা চাইতে পারে। তাঁর কাছে প্রার্থনা করায়ও কোনো সীমারেখা নেই, তাঁর দানেও কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। তিনি যে উল্টো ডাকতে থাকেন- প্রার্থনাকারী কেউ আছে কি, আমি তার প্রার্থনা কবুল করব! কেউ যদি কোনো মানুষের কাছে কিছু চায়, তাহলে সে বিরক্ত হয়, নাখোশ হয়। কিংবা প্রথম এক-দুই বার খুশিমনে দিলেও পরে তার অবস্থা পাল্টে যায়। কিন্তু আল্লাহ্র কাছে কিছু না চাইলে বরং তিনি অসন্তুষ্ট হন। বান্দা তাঁর কাছে প্রার্থনা করবে, চাইবে। আর তিনি বান্দার প্রার্থনা শুনবেন। সে প্রার্থনায় সাড়া দেবেন। এতেই তিনি সন্তুষ্ট। বরং তাঁর কাছে যে বান্দা যত বেশি চায় তার ওপর তিনি তত বেশি খুশি হন। হাদীস শরীফে আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-

لَيْسَ شَيْءٌ أَكْرَمَ عَلَى اللهِ تَعَالَى مِنَ الدّعَاءِ.

আল্লাহর কাছে দুআর চেয়ে প্রিয় কোনো কিছু নেই। -জামে তিরমিযী, হাদীস ৩৩৭০

আরেক হাদীসে আছে-

إِنّهُ مَنْ لَمْ يَسْأَلِ اللهَ يَغْضَبْ عَلَيْهِ.

যে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে না, আল্লাহ তার ওপর অসন্তুষ্ট হন। -জামে তিরমিযী, হাদীস ৩৩৭৩

আরেকটি হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

سَلُوا اللهَ مِنْ فَضْلِهِ، فَإِنّ اللهَ عَزّ وَجَلّ يُحِبّ أَنْ يُسْأَلَ.

তোমরা আল্লাহ্র কাছে তাঁর অনুগ্রহ প্রার্থনা করো। কেননা তিনি তাঁর কাছে কিছু চাওয়াকে পছন্দ করেন। -জামে তিরমিযী, হাদীস ৩৫৭১

৩. এই মহান মাসের আসন্ন আগমনে খুশি হওয়া:

রমজান মাস পাওয়াটা একজন মুসলিমের প্রতি আল্লাহ তাআলার বিশেষ নেয়ামত। যেহেতু রমজান কল্যাণের মৌসুম। যে সময় জান্নাতের দরজাগুলো উন্মুক্ত রাখা হয়। জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ রাখা হয়। রমজান হচ্ছে- কুরআনের মাস, সত্য মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য রচনাকারী জিহাদি অভিযানগুলোর মাস। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:

( قُلْ بِفَضْلِ اللَّهِ وَبِرَحْمَتِهِ فَبِذَلِكَ فَلْيَفْرَحُوا هُوَ خَيْرٌ مِمَّا يَجْمَعُونَ ) [10 يونس : 58]

“বলুন, এটি আল্লাহ্‌র অনুগ্রহে ও তাঁর দয়ায়। সুতরাং এতে তারা আনন্দিত হোক ।এটি তারা যা সঞ্চয় করে রাখে তা থেকে উত্তম।” -১০ ইঊনুস : ৫৮

রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

لِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ يَفْرَحُهُمَا إِذَا أَفْطَرَ فَرِحَ بِفِطْرِهِ وَإِذَا لَقِيَ رَبَّهُ فَرِحَ بِصَوْمِهِ،

ছিয়াম পালনকারীর জন্য দু’টি আনন্দের মুহূর্ত রয়েছে, যখন সে আনন্দিত হয়। যখন ইফতার করে তখন সে আনন্দিত হয়। আর যখন সে তার প্রভুর সাথে সাক্ষাৎ করবে তখন তার ছওমের কারণে আনন্দিত হবে’। -বুখারী হা/১৯০৪; মুসলিম হা/১১৫১; মিশকাত হা/১৯৫৯

৪. কোন ওয়াজিব রোজা নিজ দায়িত্বে থেকে থাকলে তা হতে মুক্ত হওয়া:

আবু সালামাহ্‌ হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন আমি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেন:

كَانَ يَكُونُ عَلَيَّ الصَّوْمُ مِنْ رَمَضَانَ فَمَا أَسْتَطِيعُ أَنْ أَقْضِيَهُ إِلا فِي شَعْبَانَ . رواه البخاري ( 1849 ) ومسلم ( 1146 )

“আমার উপর বিগত রমজানের রোজা বাকি থাকলে শা‘বান মাসে ছাড়া আমি তা আদায় করতে পারতাম না।” -হাদিসটি বর্ণনা করেছেন ইমাম বুখারী (১৮৪৯) ও ইমাম মুসলিম (১১৪৬)

হাফেয ইবনে হাজার রাহিমাহুল্লাহ বলেন: “আয়েশা (রাঃ) এর শাবান মাসে কাযা রোজা আদায় পালনে সচেষ্ট হওয়া থেকে বিধান গ্রহণ করা যায় যে, রমজানের কাযা রোজা পরবর্তী রমজান আসার আগেই আদায় করে নিতে হবে।” -ফাতহুল বারী (৪/১৯১)

৫. জ্ঞানকে শানিত করে নেয়াঃ

রমজানের মাসয়ালা-মাসায়েল জেনে নেয়া এবং ফজিলত অবগত হওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। স্ত্রী-পুত্রসহ পরিবারের সকল সদস্যকে নিয়ে বসে রমজানের মাসয়ালা-মাসায়েল আলোচনা করা, রমজান সম্পর্কিত বিবিধ মাসআলা জেনে নেওয়া উচিত। যাতে রমজানের রোজা ত্রুটিপূর্ণ হওয়া থেকে রক্ষা করা সহজ হয়। সেই সাথে প্রাসঙ্গিক মাসআলা মাসায়েল জ্ঞাত থাকার ফলে নানা অসুবিধা ও কষ্ট থেকেও বাঁচা যায়। যেমন সফরকালে রোজা ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ, ভুল বশত খেলে রোজা ভঙ্গ না হওয়া, প্রবল ঘুমের কারণে সাহারী খেতে না পারলেও রোজা সিদ্ধ হওয়া এবং স্বপ্নদোষের কারণে রোজা ভঙ্গ না হওয়া ইত্যাদি মাসআলা জানা থাকলে তাৎক্ষণিক বিভিন্ন সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। একইসাথে ছোটদেরকেও রোজা পালনে উৎসাহ প্রদান করা।

৬. পূর্ববর্তী রমজানের ব্যর্থতা কাটিয়ে ওঠা ও প্রতিবন্ধকতা অপসারণের চেষ্টা করাঃ

যে কাজগুলো রমজান মাসে একজন মুসলমানের ইবাদত বন্দেগীতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে সেগুলো দ্রুত সমাধান করার চেষ্টা করা। পাশাপাশি, রমজানের ফযীলত লাভ করার জন্য সাধ্যমত চেষ্টা করতে হবে। ইবাদতের মাধ্যমে রমজানে নিজেকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করতে না পারলে তা হবে চরম ব্যর্থতা। হযরত মালেক ইবনুল হুওয়াইরিছ (রাঃ) বলেন,

صَعِدَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمِنْبَرَ فَلَمَّا رَقِيَ عَتَبَةً قَالَ آمِينَ ثُمَّ رَقِيَ عَتَبَةً أُخْرَى فقَالَ آمِينَ ثُمَّ رَقِيَ عَتَبَةً ثَالِثَةً فقَالَ آمِينَ ثُمَّ قَالَ أَتَانِي جِبْرِيلُ فقَالَ يَا مُحَمَّدُ مَنْ أَدْرَكَ رَمَضَانَ فَلَمْ يُغْفَرْ لَهُ فَأَبْعَدَهُ اللهُ قُلْتُ آمِينَ قَالَ وَمَنْ أَدْرَكَ وَالِدَيْهِ أَوْ أَحَدَهُمَا فَدَخَلَ النَّارَ فَأَبْعَدَهُ اللهُ قُلْتُ آمِينَ فقَالَ وَمَنْ ذُكِرْتَ عِنْدَهُ فَلَمْ يُصَلِّ عَلَيْكَ فَأَبْعَدَهُ اللهُ قُلْ آمِينَ فَقُلْتُ آمِينَ-

‘রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিম্বরে আরোহণ করলেন। অতঃপর ১ম সিঁড়িতে পা দিয়ে বললেন, আমীন! ২য় সিঁড়িতে পা দিয়ে বললেন, আমীন! এরপর ৩য় সিঁড়িতে পা দিয়ে বললেন, আমীন! লোকেরা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আপনাকে তিন সিঁড়িতে তিন বার ‘আমীন’ বলতে শুনলাম। তিনি বললেন, আমি যখন ১ম সিঁড়িতে উঠলাম, তখন জিবরাঈল আমিন আমাকে এসে বললেন, হে মুহাম্মাদ! যে ব্যক্তি রমজান মাস পেল। অতঃপর মাস শেষ হয়ে গেল। কিন্তু তাকে ক্ষমা করা হ’ল না, সে জাহান্নামে প্রবেশ করল। আল্লাহ তাকে স্বীয় রহমত থেকে দূরে সরিয়ে দিলেন। আমি বললাম, আমীন’! ২য় সিঁড়িতে উঠলে জিবরাঈল আমিন বললেন, যে ব্যক্তি তার পিতা-মাতাকে বা তাদের একজনকে পেল। অথচ সে তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করল না, সে জাহান্নামে প্রবেশ করল। আল্লাহ তাকে স্বীয় রহমত থেকে দূরে সরিয়ে দিলেন। আমি বললাম, আমীন! অতঃপর ৩য় সিঁড়িতে পা দিলে তিনি বললেন, যার নিকটে তোমার কথা বলা হ’ল, অথচ সে তোমার উপরে দরূদ পাঠ করল না। অতঃপর সে মারা গেল, সে জাহান্নামে প্রবেশ করল। আল্লাহ তাকে স্বীয় রহমত থেকে দূরে সরিয়ে দিলেন। আপনি বলুন, আমীন। আমি বললাম, আমীন’! -ছহীহ ইবনু হিববান হা/৪০৯, ছহীহ লিগাইরিহী

অন্যত্র তিনি বলেন,

أَتَاكُمْ رَمَضَانُ شَهْرٌ مُبَارَكٌ فَرَضَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ عَلَيْكُمْ صِيَامَهُ تُفْتَحُ فِيهِ أَبْوَابُ السَّمَاءِ وَتُغْلَقُ فِيهِ أَبْوَابُ الْجَحِيمِ وَتُغَلُّ فِيهِ مَرَدَةُ الشَّيَاطِيْنِ لِلَّهِ فِيهِ لَيْلَةٌ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ مَنْ حُرِمَ خَيْرَهَا فَقَدْ حُرِمَ،

‘তোমাদের জন্য রমজানের বরকতময় মাস এসেছে। এ মাসে ছিয়াম রাখা আল্লাহ তোমাদের জন্য ফরয করে দিয়েছেন। এ মাসে আসমানের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয় এবং বন্ধ করে দেয়া হয় জাহান্নামের সব দরজা। এ মাসে বিদ্রোহী শয়তানগুলোকে বন্দি করা হয়। এ মাসে একটি রাত আছে যা হাযার মাস অপেক্ষা উত্তম। যে ব্যক্তি এ রাতের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হ’ল, সে অবশ্যই প্রত্যেক কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত রইল’। -নাসাঈ হা/২১০৬; মিশকাত হা/১৯৬২; ছহীহ আত-তারগীব হা/৯৯৯; ছহীহুল জামে‘ হা/৫৫

সুতরাং কল্যাণ বঞ্চিত না হয়ে এবং রামাযানে নিজেকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করতে না পারার ব্যর্থতা ঘোচাতে রামাযানে সাধ্যমত ইবাদত-বন্দেগী, যিকর-আযকার ও তাসবীহ, তেলাওয়াতের মাধ্যমে পূর্ণ নেকীর হকদার হওয়ার জন্য চেষ্টা করতে হবে।

৭. নফস ও শয়তানের কু-মন্ত্রণা হ’তে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ রাখাঃ

মানুষের অন্তর মন্দপ্রবণ। আল্লাহ বলেন,إِنَّ النَّفْسَ لَأَمَّارَةٌ بِالسُّوْءِ، ‘নিশ্চয়ই মানুষের মন মন্দপ্রবণ’ (ইউসুফ ১২/৫৩)। অপরদিকে শয়তান সর্বদা মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য ব্যস্ত রয়েছে। আল্লাহ শয়তানের ভাষ্য উল্লেখ করে বলেন,فَبِعِزَّتِكَ لَأُغْوِيَنَّهُمْ أَجْمَعِيْنَ ‘আপনার ইয্যতের কসম! আমি অবশ্যই তাদের সবাইকে বিপথগামী করব’ (ছোয়াদ ৩৮/৮২)। সুতরাং ইবাদতের ক্ষেত্রে অন্তরায় হ’ল মানুষের নফসে আম্মারা ও শয়তানের কু-মন্ত্রণা। এই মাসে যদিও শয়তান শৃংখলিত থাকে তবুও ষড়রিপুর তাড়নায় মানুষ অন্যায় ও পাপ করে বসে। অনেক সময় নিজেকে ইবাদতে মশগূল রাখতে পারে না। তাই এই বিষয়ে সতর্ক ও সচেতন হয়ে তা মোকাবেলা করতে হবে।

৮. উপকারী গ্রন্থ অধ্যয়নঃ

যে বইগুলো ঘরে পড়া যায় এমন কিছু বই সংগ্রহ করা অথবা মসজিদের ইমামকে হাদিয়া দেয়া যেন তিনি মানুষকে পড়ে শুনাতে পারেন।

৯. রমজানের রোজার প্রস্তুতি স্বরূপ শাবান মাসে কিছু রোজা রাখা:

عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ : كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصُومُ حَتَّى نَقُولَ لا يُفْطِرُ وَيُفْطِرُ حَتَّى نَقُولَ لا يَصُومُ ، فَمَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اسْتَكْمَلَ صِيَامَ شَهْرٍ إِلا رَمَضَانَ ، وَمَا رَأَيْتُهُ أَكْثَرَ صِيَامًا مِنْهُ فِي شَعْبَانَ . رواه البخاري ( 1868 ) ومسلم ( 1156 )

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেন: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমনভাবে সিয়াম পালন করতেন যে, আমরা বলতাম–তিনি আর সিয়াম ভঙ্গ করবেন না এবং এমনভাবে সিয়াম ভঙ্গ করতেন যে আমরা বলতাম–তিনি আর সিয়াম পালন করবেন না। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে রমজান ছাড়া অন্য কোন মাসের গোটা অংশ রোজা পালন করতে দেখিনি এবং শাবান ছাড়া অন্য কোন মাসে অধিক সিয়াম পালন করতে দেখিনি।” -এটি বর্ণনা করেছেন আল-বুখারী (১৮৬৮) ও মুসলিম (১১৫৬)

عَنْ أُسَامَة بْن زَيْدٍ قَالَ : قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ لَمْ أَرَكَ تَصُومُ شَهْرًا مِنْ الشُّهُورِ مَا تَصُومُ مِنْ شَعْبَانَ ، قَالَ : ( ذَلِكَ شَهْرٌ يَغْفُلُ النَّاسُ عَنْهُ بَيْنَ رَجَبٍ وَرَمَضَانَ ، وَهُوَ شَهْرٌ تُرْفَعُ فِيهِ الأَعْمَالُ إِلَى رَبِّ الْعَالَمِينَ فَأُحِبُّ أَنْ يُرْفَعَ عَمَلِي وَأَنَا صَائِمٌ ) . رواه النسائي ( 2357 ) وحسَّنه الألباني في " صحيح النسائي "

উসামাহ ইবনে যায়েদ (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন: “আমি বললাম : ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমি আপনাকে শাবান মাসের মত অন্য কোন মাসে এত রোজা পালন করতে দেখিনি। তখন তিনি বললেন:“এটি রজব ও রমজানের মধ্যবর্তী মাস। এ মাসের ব্যাপারে মানুষ গাফেল। অথচ এ মাসে বান্দাদের আমল রাব্বুল আলামীনের কাছে উত্তোলন করা হয়। তাই আমি পছন্দ করি যে, রোজা পালনরত অবস্থায় আমার আমল উত্তোলন করা হোক।” -হাদিসটি বর্ণনা করেছেন ইমাম নাসা’ঈ (২৩৫৭) এবং আলবানী একে ‘সহীহুননাসা’ঈ’গ্রন্থে হাসান বলেছেন।

এ হাদিসে শাবান মাসে রোজা পালনের হেকমত (গুঢ় রহস্য) বর্ণনা করা হয়েছে। সে হেকমত হচ্ছে- এ মাসে বান্দার আমলগুলো উত্তোলন করা হয়। জনৈক আলেম আরো একটি হেকমত উল্লেখ করেছেন সেটা হচ্ছে- শাবান মাসের রোজা যেন ফরজ নামাজের আগে সুন্নত নামাজের তুল্য। এই্ সুন্নতের মাধ্যমে ফরজ পালনের জন্য আত্মাকে প্রস্তুত করা হয় এবং ফরজ পালনের জন্য প্রেরণা তৈরী করা হয়। একই হেকমত রমজানের পূর্বে শাবানের রোজার ক্ষেত্রেও বলা যেতে পারে।

সামনে রেখে। ৬. ফিতরা আদায়ের কারণে। সুতরাং এসব খাতে এবং কারণে প্রয়োজনীয় অর্থ ব্যয়ের জন্য আপনিও প্রস্তুতি গ্রহণ করুন।

১৭. বাজার স্বচ্ছ ও নিয়ন্ত্রিত রাখতে উদ্যোগ নিনঃ

নীতি নৈতিকতার দিক থেকে আমাদের সমাজ পুরোপুরি সৎ ও স্বচ্ছ না হবার কারণে দেখা যায়, রমজান মাসেও খাদ্যে ভেজাল, মাপ জোপে হেরফের, ফটকা বাজারি, প্রতারণা ও মূল্য বৃদ্ধির অদম্য প্রবণতা বিদ্যমান থাকে। ফলে রোজাদার জনগণকে প্রচুর ভোগান্তির শিকার হতে হয়। বাজার স্বচ্ছ ও নিয়ন্ত্রিত রাখার ক্ষেত্রে একজন সচেতন নাগরিক এবং একজন মুসলিম হিসেবে আপনারও রয়েছে বিরাট দায়িত্ব। আপনিও হয়তাে একজন ব্যবসায়ী, আইনজীবী, ডাক্তার, সরকারি চাকরিজীবী, প্রাইভেট চাকরিজীবী, পুলিশ, সেনা সদস্য, কারখানার মালিক, কারিগর, শিক্ষক, ছাত্র, কিংবা কৃষিজীবি বা অন্য কোনো কর্মজীবী। বাজার স্বচ্ছ ও নিয়ন্ত্রিত রাখার ক্ষেত্রে আপনিও ভূমিকা পালন করুন। আপনি নিজের অবস্থানে নিজে স্বচ্ছ ও নিয়ন্ত্রিত থাকুন। অন্যদেরকেও স্বচ্ছতার ব্যাপারে সচেতন করুন, উৎসাহিত করুন, উদ্বুদ্ধ করুন। রমযান শুরু হবার আগে থেকেই একাজগুলাে করুন।

১৮. সিয়াম পালনের উপযোগী পবিত্র পরিবেশ সৃষ্টির উদ্যোগ নিনঃ

মাহে রমজানের বিশেষ ও মহোত্তম পবিত্র মর্যাদাকে সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রে রমজান শুরু হবার আগে থেকেই সমাজে মানসিক ও বাস্তব পরিবেশ সৃষ্টির উদ্যোগ গ্রহণ করুন। এ উদ্দেশ্যে আগে থেকেই ১. জনগণকে সচেতন করতে থাকুন। ২. মসজিদের খতিব ও ইমাম সাহেবগণ খুতবায় এবং নামাযের আগে পরে আলােচনা করুন। ৩. ঘরে, মসজিদে, অফিস আদালতে কুরআন ও হাদিসের সিয়াম সংক্রান্ত আয়াত ও হাদিস গুলোর ব্যাপক পাঠ ও আলোচনা করুন। ৪. রমযানের ক্যালেন্ডার মুদ্রণ ও বিতরণ করুন। ৫. লিফলেট ও বুকলেট ছেপে বিতরণ করুন।

১৯. মসজিদগুলোতে মুসল্লিদের সুবিধা বৃদ্ধির ব্যবস্থা করুনঃ

রমযান মাসে মুসলিমগণ মহান আল্লাহ প্রদত্ত অবারিত রহমত, মাগফিরাত ও নেকি হাসিলের প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হন; পুরুষগণ দিনের এবং রাতের নামাজে ব্যাপকহারে মসজিদে আগমন করেন; আমাদের দেশের মসজিদগুলোতে, শহরে কম হলেও বিশেষ করে মফস্বলের মসজিদগুলোতে মুসল্লিদের প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধার ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে।

সুতরাং ব্যক্তিগত ও যৌথ উদ্যোগে মসজিদগুলোতে মুসল্লিদের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ০১. স্থান সংকুলান না হলে স্থান সম্প্রসারণ করুন। ০২. ওযু খানার সুব্যবস্থা করুন এবং অযুর পানির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখুন। ০৩. প্রস্রাবখানা/ টয়লেট ইত্যাদির ব্যবস্থা রাখুন। ০৪. মসজিদে ফ্যান না থাকলে, ফ্যান লাগানোর ব্যবস্থা করুন। ০৫. ফ্যানের স্বল্পতা থাকলে সংখ্যা বৃদ্ধি করুন। ০৬. বিদ্যুৎ লাইন না থাকলে বিদ্যুৎ লাইনের সংযোগ লাগান। ০৭. শহরের অনেক মসজিদেই এখন এয়ার কন্ডিশনার রয়েছে। মুসল্লিদের সামর্থ্য বিবেচনায় সম্ভব হলে আপনার মহল্লার মসজিদেও তা লাগানোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে। ০৮. মসজিদের জানালা দরজা ইত্যাদি ঠিকঠাক করে রাখুন। ০৯. মুসল্লিদের সুবিধার জন্য চাটাই/ চট/ কার্পেট ইত্যাদির ব্যবস্থা রাখুন। ১০. যারা ইতেকাফ করবেন, তাদের সুন্দর ও সুরক্ষিত অবস্থানের জন্য ভালো ব্যবস্থা রাখুন। এগুলোসহ এ ধরনের আরো যেসব ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন ব্যক্তিগত উদ্যোগে যতােটা সম্ভব করুন। মসজিদ কমিটি এ ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করুন। এছাড়া আল্লাহ পাক যাদের বেশি তাওফিক দিয়েছেন তারা এগিয়ে আসুন।

২০. মসজিদে তারাবিহ বা রাতের নামাজের সুব্যবস্থা করুনঃ

ব্যাপক সওয়াব হাসিলের উদ্দেশ্যে তারাবির নামাজে মুসল্লির ব্যাপক সমাগম হয়। এ উদ্দেশ্যে ১. সুন্দর সুললিত কণ্ঠে দীর্ঘ কুরআন তিলাওয়াতের উদ্দেশ্যে হাফেজদের দ্বারা তারাবি পড়ানোর ব্যবস্থা করুন। ২. তারাবির নামাজে দ্রুত কুরআন পাঠ না করে ধীরে ধীরে তারতিলের সাথে পাঠের ব্যবস্থা করুন। ৩. যেদিন কুরআনের যে অংশ পাঠ হবে ইমাম সাহেব বা হাফেজ সাহেব সেদিন নামায শুরুর আগেই সে অংশের অর্থ/মর্ম মুসল্লিদের শুনিয়ে দিন।

২১. মাহে রমযানকে স্বাগত জানানঃ

রমজানের চাঁদ দেখার ছোটবেলার স্মৃতি আমাদের অনেকেরই রয়েছে, যা আজও আমাদের আনন্দিত করে, স্মৃতিকাতর করে দেয়। শাবান মাসের শেষলগ্নে পবিত্র মাহে রমজানের চাঁদ দেখা গুরুত্বপূর্ণ একটি সুন্নত আমলও বটে। একাকি কিংবা দলবেঁধে, যে কোনভাবে রমজানের চাঁদ দেখা যায়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখাে; তাই রমজানের চাঁদ দেখুন; এভাবে চাঁদ দেখার মাধ্যমে মাহে রমজানকে স্বাগত জানান এবং পুরো মাস রোজা রাখার তাওফিক চেয়ে আল্লাহ তাআ'লার কাছে দোয়া করতে থাকুন। রমজানের চাঁদ দেখাকে আজকাল গুরুত্ব দেয়া হয় না অথচ এটি একটি সুন্নাত আমল হিসেবে ইবাদত হিসেবেও আমলটি আমাদের করা উচিত। পবিত্র মাহে রমজানের সর্বপ্রথম সুখবরদানকারী তো এই নতুন চাঁদই, তাই না? তো, চলুন, এ বছর পবিত্র মাহে রমজানের চাঁদ দেখার এই অনন্য আমলটি থেকে নিজেকে বঞ্চিত করবো না বলে আজই সিদ্ধান্ত নিই ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ তাআ'লা আমাদের প্রতিটি ভালো কাজে অগ্রগামী হওয়ার তাওফিক দান করুন।

২২. পরস্পরের মধ্যে বিদ্যমান বিবাদ মীমাংসা করে নিতে হবেঃ

রামাযানে মহান আল্লাহ অনেক মানুষকে ক্ষমা করে দেন। কিন্তু যাদের মাঝে বিবাদ-বিসম্বাদ আছে, তাদেরকে আল্লাহ ক্ষমা করেন না, যতক্ষণ না তারা তাদের মধ্যকার বিবাদ মিটিয়ে নেয়। রাসূল (ছাঃ) বলেন,

تُفْتَحُ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ يَوْمَ الِاثْنَيْنِ وَيَوْمَ الْخَمِيسِ فَيُغْفَرُ لِكُلِّ عَبْدٍ لَا يُشْرِكُ بِاللهِ شَيْئًا إِلَّا رَجُلًا كَانَتْ بَيْنَهُ وَبَيْنَ أَخِيهِ شَحْنَاءُ فَيُقَالُ: أَنْظِرُوا هَذَيْنِ حَتَّى يَصْطَلِحَا أَنْظِرُوْا هَذَيْنِ حَتَّى يَصْطَلِحَا أَنْظِرُوْا هَذَيْنِ حَتَّى يَصْطَلِحَا-

‘সোমবার ও বৃহস্পতিবার জান্নাতের দরজা খোলা হয় এবং প্রত্যেক বান্দাকে ক্ষমা করা হয় এ শর্তে যে, সে আল্লাহ তা‘আলার সাথে কোন কিছুকে অংশীদার করবে না। আর সে ব্যক্তি এ ক্ষমা থেকে বঞ্চিত থেকে যায়, যে কোন মুসলিমের সাথে হিংসা ও শত্রুতা পোষণ করে। ফেরেশতাদেরকে বলা হয় যে, এদের অবকাশ দাও, যেন তারা পরস্পর মীমাংসা করে নিতে পারে’। -মুসলিম হা/২৫৬৫; আবূদাঊদ হা/৪৬১৬; তিরমিযী হা/২১০৯; মিশকাত হা/৫০২৯

২৩. আল্লাহর নিকটে তাওফীক কামনা ও কঠোর পরিশ্রম করাঃ

রামাযানে ছিয়াম পালন ও ফরয ছালাত সহ অধিক নফল ছালাত আদায় করার চেষ্টা করা এবং এজন্য আল্লাহর নিকটে তওফীক কামনা করতে হবে। কেননা এ মাসে বেশী বেশী ছিয়াম-ক্বিয়ামের গুরুত্ব অপরিসীম। তালহা ইবনে ওবায়দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, দু’ব্যক্তি দূর-দূরান্ত থেকে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিকট আসলো। তারা ছিল খাঁটি মুসলমান। তাদের একজন ছিল অপরজন অপেক্ষা শক্তিধর মুজাহিদ। তাদের মধ্যকার মুজাহিদ ব্যক্তি যুদ্ধ করে শহীদ হ’ল এবং অপরজন এক বছর পর মারা গেল। তালহা (রাঃ) বলেন, আমি একদা স্বপ্নে দেখলাম যে, আমি জান্নাতের দরজায় উপস্থিত এবং আমি তাদের সাথে আছি। জান্নাত থেকে এক ব্যক্তি বের হয়ে এসে তাদের মধ্যে যে ব্যক্তি পরে মারা গিয়েছিল তাকে জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি দিল। সে পুনরায় বের হয়ে এসে শহীদ ব্যক্তিকে জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি দিল। পরে সে আমার নিকট ফিরে এসে বলল, তুমি চলে যাও। কেননা তোমার (জান্নাতে প্রবেশের) সময় এখনও হয়নি, তোমার পালা পরে। সকাল বেলা তালহা (রাঃ) উক্ত ঘটনা লোকেদের নিকট বর্ণনা করলেন। তারা এতে বিস্ময়াভিভূত হ’ল। বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর কানে গেল এবং তারাও তাঁর কাছে ঘটনা বর্ণনা করল। তিনি বললেন, কি কারণে তোমরা বিস্মিত হ’লে? তারা বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এই ব্যক্তি তাদের দু’জনের মধ্যে অধিকতর শক্তিধর মুজাহিদ। তাকে শহীদ করা হয়েছে। অথচ অপর লোকটি তার আগেই জান্নাতে প্রবেশ করল! রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, অপর লোকটি কি তার পরে এক বছর জীবিত থাকেনি? তারা বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেন, সে একটি রামাযান মাস পেয়েছে, ছিয়াম রেখেছে এবং এক বছর যাবত এই এই ছালাত কি পড়েনি? তারা বলল, হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, আসমান-যমীনের মধ্য যে ব্যবধান রয়েছে,

তাদের দু’জনের মধ্যে রয়েছে তার চেয়ে অধিক ব্যবধান’। -আহমাদ হা/১৪০৪, ৮১৯৫; ইবনু মাজাহ হা/৩৯২৫; আত-তা‘লীকুর রাগীব ১/১৪২-১৪৩, হাদীছ ছহীহ

তথ্যসূত্র ও কৃতজ্ঞতা: ইসলাম কিউএবিডি ডটকম, মাসিক আত তাহরিক, মাসিক আল কাওসার এ প্রকাশিত রমজান বিষয়ক বিভিন্ন প্রশ্নোত্তর এবং নিবন্ধ এবং অন্যান্য নির্ভরযোগ্য উৎস অবলম্বনে। রেফারেন্স ও তথ্যসূত্র স্ব স্ব স্থানে সংযুক্ত।

Address

দোকান নং-২২, আল-আরাবিয়া জামে মসজিদ মার্কেট মিল্কভিটা রোড, সেকশন-৭, মিরপুর, পল্লবী
Dhaka
১২১৬

Opening Hours

Monday 08:00 - 13:00
15:00 - 23:00
Tuesday 08:00 - 13:00
15:00 - 23:00
Wednesday 08:00 - 13:00
15:00 - 23:00
Thursday 08:00 - 13:00
15:00 - 23:00
Friday 09:00 - 12:00
16:00 - 23:00
Saturday 08:00 - 13:00
15:00 - 23:00
Sunday 08:00 - 13:00
15:00 - 23:00

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Parul Fashion House posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share