02/02/2026
যারা দোয়া করছেন, কিন্তু কবুল হচ্ছে না—
যারা আমল করেও ফল পান না, তারা পুরো লেখাটা অবশ্যই পড়বেন।
সেদিন হাদিস পড়ছিলাম মধু নিয়ে। যেহেতু নিয়মিত মধু খাওয়া শুরু করেছি, মনে হয়েছে মধু নিয়ে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) কি বলেছেন, তা জানা উচিত।
বুখারীর একটা হাদিস পড়েছিলাম, মধু নিয়েই। হাদিস নাম্বার মনে নেই। সরাসরি হাদিসটা বর্ণনা না করে আমি আমার মতো বলি!
একবার একজন লোক এসে রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-কে বললেন যে, তাঁর ভাইয়ের পেটব্যথা। সম্ভবত ডায়রিয়া হয়েছিলো, এক্সাক্ট মনে নেই। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ওই লোককে মধু খাওয়ানোর নির্দেশ দিলেন। কারণ, মধুতে শেফা আছে। তো ওই লোক চলে গেলেন। আবার ফিরে এসে জানালেন যে, তাঁর ভাইয়ের অসুস্থতা ভালো হয়নি। তিনি (ﷺ) আবারও মধু খাওয়ানোর নির্দেশ দিলেন।
এভাবে কয়েকবার লোকটার ফিরে আসার পর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) মধু খাওয়ানোরই নির্দেশ দিলেন এবং বললেন যে, “আল্লাহ সত্য বলেছেন, আর তোমার ভাইয়ের পেট মিথ্যা বলছে।” অতঃপর লোকটা ফিরে গিয়ে তাঁর ভাইকে মধু খাওয়ালেন এবং অবশেষে সে (লোকটার ভাই) সুস্থ হলো।
হাদিসটা পড়তে পড়তে আমার চিন্তা মধু থেকে সরে গিয়ে অন্য জায়গায় গেলো।
আমাদের মধ্যে অনেকেই আছি, দু’আ করে অভিযোগ করি যে, আল্লাহ দু’আ কবুল করেন না। দুরুদ-ইস্তেগফার করে বলি, পেরেশানি দূর হয় না; বিপদ কাটে না। সদকাহ্ করেও সম্পদ বৃদ্ধি হতে দেখি না। হাদিসে উল্লেখিত ঋণমুক্তির দু’আগুলো পড়েও ঋণ থেকে মুক্ত হতে পারি না।
আচ্ছা, আল্লাহ কি কখনোই মিথ্যা বলতে পারেন?
তাঁর বাণী তো মহাসত্য! তাঁর রাসূলের (ﷺ) হাদিস কি মিথ্যা হতে পারে? কখনোই নয়!
আপনি কুরআন খুলুন। সূরা বাকারাহতে রমাদানের আয়াতগুলোতে দেখুন। আল্লাহ বলেছেন, তিনি বান্দাদের ডাকে সাড়া দিবেন। তিনি বলেছেন, বান্দার দু’আ তিনি কবুল করবেনই। সূরা বাকারাহ’র শেষ দিকে সদকাহ্-র আয়াতগুলো দেখুন! সম্ভবত ২৬১ থেকে শুরু। আল্লাহ ওয়াদা করেছেন, তিনি দানকারীর দান ৭০০ গুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিবেন কিংবা তারচেয়ে বেশি। তিনি দানকারীকে অভয় দিয়েছেন, যারা গোপনে-প্রকাশ্যে দিনে/রাতে সদকাহ্ করে, তাদের ভয় নেই, দুঃশ্চিন্তা নেই।
আপনি সূরা নূহ এ ইস্তেগফারের আয়াতগুলো পড়ুন। আল্লাহ বলেছেন, বান্দা যদি ক্ষমা চায়, তিনি বান্দাকে ক্ষমা তো করবেনই, সাথে দিবেন অঢেল রিজিক; সন্তান, বাগান, ফলফলাদি। এবং বান্দা যতক্ষণ ইস্তেগফারে থাকবে, ততক্ষণ তাকে আযাব স্পর্শ করবে না।
হাদিসে এসেছে, দুরুদ পড়লে হাজত পূর্ণ হয়৷ পেরেশানি দূর হয়। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) যখন বলেছেন, তারমানে এটা যে সত্য, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ঋণমুক্তির দু’আ আছে। ওই দু’আগুলো পড়লে পাহাড়সম ঋণও আল্লাহর পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যাবে, এমনটাই হাদিসে এসেছে।
আমাদের প্রতিটা দু’আ আল্লাহ কবুল করেন। কারণ, আরশের মালিক ওয়াদা দিয়েছেন। আমাদের সদকাহ্ বিফলে যায় না। তা বেড়ে যায় বহুগুণ। দুরুদ পড়লে সত্যিই হাজত পূর্ণ হয়। ইস্তেগফারে রিজিকে বারাকাহ্ আসে। হাদিসে বর্ণিত ঋণমুক্তির আমলে, ঋণ থেকে মুক্ত হওয়া যায়। প্রতিটি আমলই সত্য এবং কার্যকরী। যদি কাজ না হয়, বুঝতে হবে– হয় আমাদের আমলের মাঝে ত্রুটি আছে, না হয় রব্ব সবরের পরীক্ষা নিচ্ছেন।
মধুতে শেফা থাকা সত্ত্বেও একবারে তা কাজ করেনি। লোকটা কয়েকবার ফিরে এসেছিলেন। তবুও আল্লাহর রাসূল (সঃ) মধু খাওয়ানোরই নির্দেশ বহাল রেখেছিলেন। কারণ আল্লাহ সত্য বলেছেন।
আমাদের আমলগুলোকেও এই হাদিসের সাথে রিলেট করতে পারি। আল্লাহর জন্য করা সবকিছুই লাভজনক। আমরা সেটা বুঝতে পারি, আর না পারি; আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের বাণী অবশ্যই সত্য, মহা সত্য। এবং কাবার মালিক আমাদের প্রত্যেকের আমলের প্রতিদান দিবেন ইংশাআল্লাহ্।
— তাহিয়া ইসলাম copy