02/08/2026
||আমার গল্প, আমার রং||
ছোটবেলা থেকেই আঁকাআঁকি ভালো লাগতো। কোনো হাতেখড়ি ছিলো না। শুধু খাতা-কলম আর দেখে দেখে শেখা। ইন্টারে উঠে মা ফোন কিনে দেয়ার পর ফেসবুকে বেশিরভাগ সময় আঁকার ভিডিওই দেখতাম। ইচ্ছা ছিলো জামা-কাপড়ে কাজ করবো, কিন্তু শুরুটা কোথা থেকে করবো বুঝতাম না।
২০২৩ সালে কাজিনের এক বান্ধবী বাসায় এসে ফেব্রিকের কাজ দেখিয়ে দেয়। সেখান থেকেই শুরু। প্রথমে কাজিনদের কাপড়ে, তারপর নিজের জামায় সুতা আর রঙ দিয়ে কাজ করলাম। খারাপ হয়নি।
ভাইয়ের কথায় একটা পেজ খুললাম। নিজের কাজগুলা ছবিসহ পোস্ট করতাম। আমি কাঠের ডাইস ব্যবহার করি না। সব নিজের হাতে আঁকি, তাই সময় লাগে অনেক। এ পর্যন্ত ৪৫+ কামিজ, কূর্তি, ব্লাউজ, ফ্রক, শাড়িতে কাজ করেছি। তাছাড়াও হ্যান্ডমেইড জুয়েলারি ও বানিয়েছি। এর মধ্যে ২৫+ কাজই ছিলো স্বজনদের জন্য। ভালোবেসে বিনা পারিশ্রমিকে করেছি। এতে আমার আফসোস নেই। কিন্তু আফসোস ত তখন লাগে যখন শুনি আমি নাকি আমার শিল্পসত্ত্বা নিয়ে দম্ভ করি।অথচ এত কাজ তাদের জন্যই করেছি।
অনলাইনে অর্ডারও আসে। কিন্তু কাস্টমার "সেরা ডিজাইন" চায়, আর পারিশ্রমিক দিতে চায় ২০০/২৫০ টাকা। তাই অর্ডার নেই না। কেননা আমি অভাবে পড়ে এই ধৈর্য্যের কাজ করি না। এই কাজে প্রচুর সময় লাগে,শ্রম লাগে। আমার ত এই সেলাই,রঙ এইগুলার কাজ করতে করতে পিঠে ব্যথার রোগ'টা চলে এসেছে।যারা এই কাজ করে আর যারা কেনে, তারাই কেবল এর মূল্য বোঝে।
আমি আমার প্রতিটা কাজে নিজস্বতা রাখি হুবুহু কপি করি না। হয়তো আমার শেখাটা শুধু মানুষকে বিনামূল্যে দেয়ার জন্যই ছিলো।
কিন্তু এখন থেকে নিজের মূল্যটাও বুঝতে শিখেছি।
এটা দম্ভ না, এটা আমার আত্মসম্মান।