08/08/2026
দুদিন আগে আমার ছোট মামা ফোন করেছিলো। আমি জীবনে যতগুলো ভালো মানুষ দেখেছি তার মধ্যে এই মামা প্রথম সারিতে থাকবে।
ফোন ধরে সালাম দিতেই - অরণ্য তোর কাছে সবথেকে দামী নেকলেস কোনটা আছে। ছবি দে।
আমি অবাক হলাম। কারণ সে নেকলেস দিয়ে কী করবে বুঝলাম না। আমার মামী মারা গেছে গত বছর। মামীকে মামা প্রচন্ড ভালোবাসতো জানতাম। এত দামী একটা উপহার সে আর কাকে দিবে!! হতভম্ব হয়ে জিজ্ঞেস করলাম- মামা কী ব্যাপার, কার জন্য?
মামা অবাক করে দিয়ে বললো- তোর জানার দরকার কী! আমি আবার বিয়ে করতেছি। হইছে? এবার পাঠা জলদী। কালকেই বিয়ে।
এটা খুশির খবর হয়তো, তবুও মামার উপর রাগ হলো। মামী যাওয়ার পর বছর ঘুরতে না ঘুরতেই আবার বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললো! এটা কিভাবে সম্ভব। আমি জানতাম সে মামীকে এতটাই ভালোবাসে, প্রতি শুক্রবার কবরস্থানে গিয়ে মৃত মামীর সামনে চুপচাপ ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়ায়া থাকে। কেউ তাকে নিয়ে আসতে চাইলে বলে- এখনো কথা শেষ হয়নি।
মোটামুটি বিরক্তি নিয়েই নেকলেস মেইক করে মামাকে পাঠালাম। সাথে একটা এক লাইনের চিঠিও লিখে দিলাম- মামা তুমি আসলেই আমার সেই মামা?
পার্সেল হাতে পেয়ে মামা একবারও ফোন করেনি। আমি ফোন করেছি রিসিভ করেনি। আরও মেজাজ খারাপ হলো মামার উপর।
কিছুক্ষন আগে দেখি মামা স্টোরি দিয়েছে। একটা ফটোফ্রেম। আমার সেই মৃত মামীর ছবি। ছবিতে মামী মুচকী হাসছে, তার গলায় ফ্রেমের উপর দিয়ে মুক্তার নেকলেসটা ঝুলছে।
মামীর এই ছবিটা বিয়ের রাতে তোলা। বাসর রাতে ঢুকে স্ত্রীর রূপে মুগ্ধ হয়ে পকেট থেকে ফোন বের করে ফটোগ্রাফারকে ধমক দিয়ে বললো - ৫ মিনিট টাইম দিলাম বাসায় আয়, নইলে কাল থেকে তোর স্টুডিও বন্ধ। আমরা সবাই হা হয়ে দাঁড়িয়ে আছি। ফটোগ্রাফারের চোখে মুখে ভয়, হাঁত কাঁপছে তার সামনে সাবজেক্ট বসে আছে একটা চেয়ারে।
মামার এইসব পাগলামি দেখে মামী হঠাৎ হেসে ফেললো। ঠিক তখনই ক্লিক।