24/05/2025
Adorn এ আমরা সবসময় কোয়ালিটির পেছনেই ছুটেছি।
এই ব্র্যান্ড শুরু করার পেছনের উদ্দেশ্যটাই ছিল — এমন একটা অনলাইন ব্র্যান্ড বানানো, যেটা ভালো মানের প্রোডাক্ট দেয়। কোয়ালিটি নিয়ে কখনও কম্প্রোমাইজ করে না।
কারণ আমরা নিজেরাই জানি, অনলাইনে ভালো কোয়ালিটির প্রোডাক্ট দেয়া ব্র্যান্ড খুঁজে পাওয়া কতটা কঠিন।
কিন্তু যখন নিজেরা মাঠে নামলাম, তখন বুঝলাম—কোয়ালিটি দেওয়া আসলেই কতোটা চ্যালেঞ্জিং।
সোজা কথা বললে, কোয়ালিটি দিতে গেলে অনেকের চোখে “খারাপ মানুষ” হতে হয়।
ইমপোর্টার থার্ড ক্লাস ফ্যাব্রিক ঢুকাতে চায়, প্রিন্টিংয়ে লোকজন সস্তা ডাই ইউজ করতে চায়।
টাইম মেইন্টেইন তো বাংলাদেশে কেও করেই না! আমরা একটা অর্ডারে ১৪ দিন সময় নেই। তাও সময়মত প্রোডাক্ট দিতে আমাদের অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। কারণ, কোয়ালিটি প্রোডাক্ট বের করতে কেও আপনাকে সাহায্য করবে না।
একটা সস্তা প্রোডাক্ট আমরা ৩ দিনে বের করে দিতে পারব। কিন্তু Adorn এ আমরা যেই মান বজায় রাখার চেষ্টা করি, তাতে কেও সাপোর্ট করে না। প্রত্যেকটা থার্ড পার্টি লোক ভুজুং ভাজুং বুঝ দেয়ার চেষ্টা করে।
কাটিং-সেলাইয়ে কখনও সাইজ গণ্ডগোল, কখনও এক লটে আলাদা আলাদা কোয়ালিটির সেলাই।
ওরা একটা ভালো স্যাম্পল দেখিয়ে বাকি বাজে কোয়ালিটি চাপিয়ে দেওয়ার ট্রাই করে।
আর এগুলো নিয়ে যেই চেপে ধরবেন, সবার চোখে খারাপ মানুষ।
এই ঈদে আমরা সত্যিই একটা বড় ধাক্কা খেয়েছি।
যে সাপ্লায়ার সবসময় ভালো কাপড় দিতো, এবার খারাপ ফ্যাব্রিক দিয়ে দিয়েছে।
আমরা বিশ্বাস করেছিলাম, কিন্তু ওরা সেই বিশ্বাস ভেঙেছে।
ফলাফল—আমাদের আবার নতুন করে ফ্যাব্রিক ইম্পোর্ট করতে হয়েছে। সেটাই দু-সপ্তাহ টাইম খেয়েছে।
এইদিকে ঈদের চাপ পিক টাইমে, আর যেহেতু ফ্যাব্রিক সময়মতো পাইনি, থার্ড পার্টি ফ্যাক্টরিগুলোও আমাদের স্লট রাখতে পারেনি।
তারপর হুট করে নতুন ফ্যাক্টরিতে সুইচ করতে হয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশে ফ্যাক্টরি অনেক থাকলেও, কোয়ালিটি দেয়ার মতো লোক খুব কম।
অনেক অনেক ফ্যাক্টরির সাথে কথা বলে, স্যাম্পল বানায়ে, কাজ করেও, একটা জাতের ফ্যাক্টরি পাওয়া যায় না, যার মুখের কথার দাম আছে।
এই ঈদ আমাদের ব্যবসার দিক থেকে সবচেয়ে খারাপ সময় গেছে।
তবুও একটা জিনিসে আমরা কম্প্রোমাইজ করিনি—কোয়ালিটি।
আমাদের সব ঈদের অর্ডার ডিলে হয়ে গেছে, আর এজন্য আমরা সত্যিই দুঃখিত। এবং ১৪ দিন পরেও যখন প্রোডাক্ট পাওয়া যায় না, সেটা যে কত খারাপ লাগে, তা আমরা ভালো করেই বুঝি।
কিন্তু আমাদের এই মুহূর্তে এটা মেনে নেয়া ছাড়া আর কোনো গতি বাকি নেই।
আমরা চেষ্টা করছি ঈদের আগেই সব অর্ডার ডেলিভার করতে।
আমরা লজ্জিত, আমরা দুঃখিত, কিন্তু আমরা হাল ছাড়ছি না।
আমরা এমন একটা ব্র্যান্ড বানাবো, যেটার ওপর আপনি চোখ বন্ধ করে ভরসা করতে পারবেন।
আমরা সেই মানুষদের খুঁজে বের করবো যারা কোয়ালিটি নিয়ে তামাশা করবে না,
যারা বিশ্বাস, কোয়ালিটি আর সার্ভিসের মূল্য বুঝে।
কারণ, এই ব্যবসা আমাদের জন্য শুধু ব্যবসা না — এটা একটা দায়িত্ব!