29/06/2022
হযরত আলী, যুবাইর এবং মিকদাদ রাদিয়াল্লাহু আনহুমকে বিশেষ এক কাজের জন্য তলব করলেন। তাঁরা তড়িৎবেগে আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর দরবারে উপস্থিত।
লাব্বাইক ইয়া রাসূলুল্লাহ ﷺ! আমাদের কী করতে হবে, বলুন, ইয়া হাবিবাল্লাহ। বিনয়াবনত হয়ে তাঁরা জানতে চাইল।
রাসূল ﷺ- বললেন, খাখ নামক স্থানে উটে চড়ে জনৈকা মহিলা মক্কার দিকে যাচ্ছে। ওর কাছে গোপন একটা পত্র আছে। তোমরা তার কাছ থেকে সেই গোপন পত্রটি ছিনিয়ে নিয়ে আসবে। যাও।
হযরত আলী, যুবাইর এবং মিকদাদ রাদিয়াল্লাহু আনহুম একমুহূর্ত বিলম্ব করলেন না। নির্দেশ পাওয়া মাত্রই ঘোড়ার ওপর সওয়ার হয়ে বিদ্যুতবেগে ছুটে চললেন মহিলার সন্ধানে। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁরা সেই কাঙ্ক্ষিত মহিলার দেখা পান। তাঁরা তিনজন সেই মহিলাকে ঘিরে ধরলেন। হযরত আলী রাদিআল্লাহু আনহু বললেন, "তোমার কাছে রহস্যময় একটা পত্র আছে। ভালো থাকতে থাকতে দিয়ে দাও।"
মহিলা আকাশ থেকে মাটিতে পড়ল। এমন একটা ভাব দেখাল যেন, পৃথিবীর ইতিহাসে এরচেয়ে জঘন্য অপবাদ বা মিথ্যা বুঝি আর ঘটে নি। ধূর্ত মহিলাটি নানান কিছুর নামে কসম খেয়ে বলল, তার কাছে পত্র থাকবে তো দূরে থাক, এক টুকরো ফেলনা কাগজও নেই।
এদিকে তাঁরা তিনজন চিরুনী অভিযান শুরু করলেন। তন্নতন্ন করে খুঁজলেন হাওদার উপর-নিচ, তল্পিতল্পা, সবকিছু। বাকি শুধু মহিলার শরীর। কোথাও পেলেন না। তার দাবি সত্য হতে চলেছে—এই ধারণায় মহিলার বুকটা সাহসে ফুলেফেঁপে উঠছিল।
এবার হযরত আলী রাদিআল্লাহু আনহুর হুঙ্কার, নবী ﷺ বলেছেন তোমার কাছে গোপন পত্র আছে। এটা অসত্য হতেই পারে না। আছেই। তুমি বের করবে, না কি ভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করব?
হযরত আলী রাদিআল্লাহু আনহুর ক্রোধান্বিত চেহারা দেখে মহিলা এবার নড়ে উঠল। তথ্যগোপন করার আর কোনো উপায় তার কাছে না থাকাই বাধ্য হয়ে সে চুলের খোঁপা মতান্তরের কোমরের গাঁট থেকে সেই গোপন পত্রটি বের করে দিল। সেই পত্রটি নিয়ে তাঁরা দরবারে রাসূল ﷺ আসলেন সহাস্যমুখে।
আরে ভাই আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন, শেষ জমানায় মুঠোয় জ্বলন্ত অঙ্গার রাখার মতোই কঠিন হবে ঈমান ধরে রাখা। আমার নবী ﷺ যা বলেছেন তা অসত্য হয় কীভাবে? মুমিন হবা অথচ জ্বলন্ত অঙ্গার বহন কররা মতো কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হবা না, ভাবো কী করে?
Nazrul Islam