Trend & Style

Trend & Style Trend & Style Online Shop offers trendy women's apparel and stylish accessories. Quality fashion combining modern trends with timeless elegance.
(1)

Fast delivery across Bangladesh. Trend & Style Online Shop is a premier fashion destination dedicated to providing high-quality, contemporary apparel and accessories. Our curated collection reflects the latest trends, blending style with comfort to meet the needs of today’s discerning customers. We are committed to delivering exceptional products backed by outstanding customer service and timely d

elivery. Our goal is to empower our customers to express their individuality through fashion that is both elegant and accessible. At Trend & Style, innovation and quality drive everything we do. We continuously update our inventory to ensure you have access to the newest styles and timeless classics. Experience fashion excellence with Trend & Style Online Shop — where sophistication meets trendsetting design.

15/06/2026

সেদিন বিকেলে অফিস থেকে ফিরছিল অনির্বাণ। মেট্রো থেকে নেমে রাস্তা দিয়ে হাঁটছে। চারপাশে মানুষে ভরা, অথচ সবাই যেন নিজের নিজের ছোট্ট একটা অদৃশ্য ঘরে বন্দী। কারও চোখে চোখ পড়ছে না, কারও মুখে কথা নেই।

হঠাৎ সামনে একটা দৃশ্য দেখে তার ছোটবেলার কথা মনে পড়ে গেল।
তখন সে ক্লাস সিক্সে পড়ে।
প্রতিদিন সকালে স্কুলে যাওয়ার সময় মোড়ের মাথায় এক কাকু দাঁড়িয়ে থাকতেন। সাদা পাঞ্জাবি, হাতে বাজারের ব্যাগ।
যেদিনই দেখতেন, একই প্রশ্ন করতেন।

"কী রে, স্কুলে যাচ্ছিস?"

অনির্বাণ বিরক্ত হয়ে একদিন মাকে বলেছিল,
"মা, কাকুটা কী বোকা! স্কুল ড্রেস পরে আছি, ব্যাগ নিয়ে বেরিয়েছি, স্কুলে যাচ্ছি না তো কোথায় যাচ্ছি? রোজ এক প্রশ্ন!"

মা হেসে বলেছিলেন,
"ওটা প্রশ্ন না রে। ওটা কথা বলার অজুহাত।"

তখন সে বুঝতে পারেনি। বহু বছর পরে, আজ সে বুঝল।
কারণ আজকাল কেউ আর এমন প্রশ্ন করে না। লিফটে পাশাপাশি দাঁড়িয়েও মানুষ ফোন দেখে।
পাড়ায় নতুন কেউ এলেও পরিচয় হয় না।
কেউ কারও খোঁজ নেয় না, আবার সবাই বলে,
" মানুষ কেমন পাল্টে যাচ্ছে!! খুব একা লাগে। "

সেই দিন সন্ধ্যায় অনির্বাণ পার্কে হাঁটতে গিয়েছিল। হাঁটতে হাঁটতে খেয়াল করল, একটা ছেলে একা বেঞ্চে বসে আছে। স্কুল ড্রেস পরা। মুখটা কেমন যেন গম্ভীর।

অনেক প্রশ্ন মাথায় এলো,
স্কুল ড্রেসে সন্ধ্যাবেলা পার্কে বসে আছে কেন ছেলেটি??
টিউশন এ যাওয়ার ছিল হয়ত, কিন্তু পার্কে বসে আছে !
বাবা মা বকেছেন তাই কি রাগ করে এখানে বসে আছে?
কথা বলি? জিজ্ঞেস করি? জিজ্ঞেস করলে আবার 'personal space' এ ঢোকা হয়ে যাবে না তো? বলবে না তো, " অন্যের জীবন নিয়ে এত কৌতূহল কিসের?"
দুটো উল্টোপাল্টা উত্তর যদি দিয়ে দেয়!
থাক গে, পরের ছেলে, আমার কি!

অনির্বাণ একটু ইতস্তত করল। ©️ আত্রেয়ী চন্দ্র
আজকাল কাউকে কিছু জিজ্ঞেস করাও কঠিন। কে কী মনে করবে! আরো এক রাউন্ড মেরে এলো অনির্বাণ। ছেলেটি ঠায় বসে আছে। সাহস করে বলেই ফেলল অনির্বাণ,

"কী রে, স্কুল থেকে ফিরছিস?"
মনে মনে প্রমাদ গুনল - সেই বোকা বোকা প্রশ্ন!!

ছেলেটা মাথা তুলল।

"হ্যাঁ।"

"কোন ক্লাস?"

"ইলেভেন"

তারপর দুজনেই চুপ।

অনির্বাণ ভাবল, এখানেই কথার শেষ। কিন্তু কয়েক সেকেন্ড পরে ছেলেটাই বলল,

"আঙ্কেল, আপনি এখানে রোজ আসেন?"

"হ্যাঁ, প্রায়ই। যেদিন অফিস থেকে তাড়াতাড়ি ফিরি।"

"আমি মাঝে মাঝে আসি। বাড়িতে ভালো লাগে না।"

অনির্বাণ চমকে গেল। ছেলেটির পাশে ব

06/06/2026
04/06/2026

আপনার বাচ্চার দুষ্টুমি যদি অন্য কারো বির'ক্তি কিংবা ক্ষ'তির কারন হয় তাহলে দয়া করে আপনি আপনার বাচ্চাসমেত নিজের বাসাতেই থাকুন।😊🙏
বাচ্চারা দুষ্টুমি করবে এটা একদম স্বাভাবিক। কিন্তু দুষ্টুমি আর বেয়াদবি এক জিনিস না।কিছু parents দুষ্টুমি আর বেয়াদবি এই দুইটার মাঝের সুক্ষ্ম পার্থক্যটা ভুলে যান যার ফল ভোগ করতে হয় অন্য মানুষদের।

অন্যের বাসায় গিয়ে জিনিসপত্র নষ্ট করা, অন্য বা চ্চাদের সাথে মারা*মারি করা এসবকে শুধু “শৈশব” বলে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক না।আপনার বাচ্চার শৈশবের জন্য অন্য কারো শখের জিনিস কেনো নষ্ট হবে? অন্য কারো বাচ্চা কেনো আ*হত হবে? আর কেনোই বা এসব কেউ মেনে নিবে?🙂

আমরা সবাই বাচ্চাদের ভালোবাসি, তাদের খেলাধুলা, দৌড়ঝাপও মেনে নিই। কিন্তু বাচ্চাকে ছোট থেকেই এটাও শেখাতে হয় যে কোথায় কীভাবে আচরণ করতে হয়। অন্যের বাসায় গেলে কিছু নিয়ম মানতে হয়, অন্যের জিনিস ও ব্যক্তিগত স্পেসকে সম্মান করতে হয়।

দাওয়াত দেওয়া যেমন ভদ্রতা, তেমনি দাওয়াতে গিয়ে নিজের বাচ্চার দিকে খেয়াল রাখাও ভদ্রতা।🙂

অনেক মা-বাবা বলেন- “বাচ্চা তো বাচ্চাই।” অবশ্যই। কিন্তু তাই বলে বাচ্চা যা খুশি করবে আর কেউ কিছু বলবে না-এমনটা আশা করাও ঠিক না।

শৈশব উপভোগ করতে দিন কিন্তু শৈশবের নামে খারাপ আচরণকে প্রশ্রয় দিবেন না। কারণ ভালোবাসার পাশাপাশি manners আর দায়িত্ববোধ শেখানোও বাবা-মায়ের দায়িত্ব।

বাচ্চার দুষ্টুমি সবাই মেনে নেয় কিন্তু বেয়াদবি এবং দায়িত্বহীনতা কেউ পছন্দ করে না🙏

https://www.facebook.com/share/p/17cijtzzjH/আপনার মা আপনার সঙ্গ পাচ্ছেন তো? আপনার ইচ্ছামত না তার ইচ্ছামত?
04/06/2026

https://www.facebook.com/share/p/17cijtzzjH/

আপনার মা আপনার সঙ্গ পাচ্ছেন তো? আপনার ইচ্ছামত না তার ইচ্ছামত?

আমার বিয়ের পরদিন সকালে একটা অদ্ভুত ব্যাপার ঘটলো।আমার শ্বাশুড়ি মা কোনো কিছু নিয়ে রাগ হয়ে তার বাবার বাড়ি চলে গেলেন।আমার শ্বশুড় এই নিয়ে খুব কথা শোনালো তাকে।রাগ অবশ্য আমারও হয়েছিল খানিকটা।বউ ভাতের অনুষ্ঠান।ছেলের মা বাড়িতে নেই।বিষয়টা কেমন দৃষ্টিকটু না?

পরে অবশ্য মা ফিরে এসেছিল।দুপুরের আগেই হাতের ব্যাগটা শক্ত করে খাঁমচে ধরে মা আবারো এই বাড়ির চৌকাঠে এসে দাঁড়িয়েছিলেন।আমি সেদিন ফ্যালফ্যাল করে তার দুই চোখ দেখলাম।এতো ফ্যাকাশে কোনো মানুষের চোখ হতে পারে?

মা আসতেই বাবা বললেন,'এ্যাই নিলু! রান্নাঘরে যাও তো।গিয়ে দেখো সব হলো নাকি।'

মা রোবটের মতো হেঁটে রান্নাঘরে চলে গেলেন।আমার মন চাইল জিজ্ঞেস করতে,'মা আপনার কি মন খারাপ?'

পরে অবশ্য আর জিজ্ঞেস করা হয়নি।আমি নতুন বউ।পারিবারিক ভাবেই আসিফের সাথে আমার বিয়ে হয়েছে।বিয়ের পরেই সবকিছুতে এতো আগ্রহ দেখানো আমার সমীচীন মনে হয় নি।

আসিফের পোস্টিং ছিলো যশোরে।আমরা থাকতাম রাজশাহী।বিশাল দূরত্ব।যাওয়া আসাতেই অনেকটা সময় লেগে যেত।বিয়ের পর সপ্তাহ খানেকের মতো আমরা রাজশাহী ছিলাম।তারপরই দু'জন চলে এলাম যশোরে,দুই রুমের একটি ছোট্ট বাসায়।বাসাটা আসিফই বিয়ের একমাস আগে ঠিক করেছিল।

আমাদের সংসার ভালোই যাচ্ছিলো।আসিফ পেশায় ডাক্তার।প্রচুর ব্যস্ততায় দিন যায় তার।বাড়ি ফিরতে ফিরতে মাঝে মধ্যে বেশ রাত হয়।সে বাড়ি ফিরলেই আমি খেতে বসতাম।আমরা দু'জন রাত করে আড্ডা দিতাম।দু'জনের সংসার অনেকটা বাবুই পাখির সংসারের মতো কাটছিলো।

আমি প্রায়ই আমার বাড়িতে ফোন দিতাম।আম্মু আব্বুর সাথে বেশ সময় নিয়ে কথা হতো।আসিফ মহা ব্যস্ত মানুষ।বাড়িতে ফোন দেওয়ার সময় তার হতো না।তার বড় ভাই মানে আমার ভাসুর কানাডায় স্যাটেল।তার স্ত্রী,দুই সন্তানসহ সে আলবার্টায় থাকে।দেশে ফোন দেওয়ার মতো সময় আরিফ ভাইয়ার কখনই হয়ে উঠে না।আমার বিয়েতেও সে আসেনি।আসিফের কাছ থেকে শুনতে পেয়েছিলাম,এই কথা জানার পর নাকি আমার শ্বাশুড়ি খুব কান্না করেছিলেন।

যাই হোক।জীবন চলছিল জীবনের মতো।বছর যেতেই আমাদের ঘরে সুখবর এলো।আমি যেদিন মাকে ফোন দিয়ে সেই কথা জানাই,মা শুনতে পেয়েই বাচ্চাদের মতো কেঁদে দিলেন।খুব জোরাজুরি করছিলেন রাজশাহী চলে আসার জন্য।

আমার তখন দুর্বল শরীর।রান্নাঘরে গেলেই মাথা ঘুরতো।কোনো কাজ ঠিক মতো করতে পারতাম না।আসিফকে বললাম,'আমাকে তোমার মায়ের কাছেই রেখে আসো আসিফ।আমি আর পারছি না একা একা সব সামলাতে।'

আমরা রাজশাহী ফিরে গেলাম পরের সপ্তাহেই।সদর দরজায় আমাদের দু'জনকে দেখে মার সেকি আনন্দ! মনে হলো আমরা আসাতে তিনি আকাশের চাঁদ হাতে পেয়েছেন।

সেদিন মা খুব খাতির যত্ন করল আমাদের।আসিফ বেশিদিনের ছুটি আনেনি।সে চলে গেল পরদিন সকালে।ঘরে রইলাম কেবল আমি,মা আর বাবা।আসিফের একজন বড় বোন আছে।তিনি স্বামী সন্তান নিয়ে ঢাকায় থাকেন।দুই বছরেও তার এই বাড়িতে আসার সুযোগ হয় না।

আমি দিনের বেশিরভাগ সময় আমার ঘরেই কাটাতাম।ঘর মোছা আর কাপড় ধোয়ার কাজ রাফিয়া খালাই করতো।আর রান্না সব মা নিজের হাতেই করতো।আমাকে সত্যি বলতে তেমন কিছুই করা লাগতো না।

আমি বেশ কিছুদিন যাবত লক্ষ্য করছি মা প্রায়ই আমার দরজার সামনে এসে দাঁড়ান।ভেতরে আসেন না।তবে উঁকি দিয়ে কিছুক্ষণ দেখে তারপর আবার চলে যান।আমি নিজেও সংকোচে তাকে কিছু বলতাম না।একদিন অবশ্য জিজ্ঞেস করেছিলাম,'মা! কিছু বলবেন?'

ওমনি মা ঘরে চলে এলো।প্রথমে কিছুটা ইতস্তত করছিলো।শেষে সমস্ত জড়তা দূরে ঠেলে বলল,'শাম্মি! তুমি কি অবসর?আমার সাথে একটু কথা বলবে?'

আমি আশ্চর্য হয়ে বললাম,'এমন করে কেন বলছেন মা?অবশ্যই কথা বলব।বসুন আপনি।'

মা সেদিন সত্যি সত্যি আমার সাথে লম্বা সময় কথা বললেন।আমি ধৈর্যশীল শ্রোতার মতো পুরোটা শুনলাম।মনে হলো মা তার জীবনে অনেক গুলো বছর প্রাণ খুলে কথা বলেনি।অন্যভাবে বলতে গেলে কেউ তাকে সেভাবে প্রাণ খুলে কথা বলার অনুমতিই দেয়নি।

এরপর থেকে মা রোজ রোজ আমার ঘরে আসতেন।কখনো আমার মাথায় বিলি কাটতে কাটতে গল্প করতেন,কখনো বা মাথায় তেল দিতে দিতে গল্প করতেন।কখনো আবার আমার এলোমেলো কাপড় গুলো কথার ফাঁকেই ভাঁজ করে দিতেন।তার জীবনের নানারকম গল্প শুনে কখনো আমরা খিলখিল করে হাসতাম।কখনো আবার অদ্ভুত বিষন্নতা আমাদের আচ্ছন্ন করে রাখতো।

আমি প্রতিদিন একটু একটু করে নিলুফা নামের সেই চমৎকার মানুষটিকে চিনতে পারছিলাম।যার ভেতর হাজার হাজার বাক্য,হাজার হাজার অনুভূতি জমা হচ্ছিল,অথচ প্রকাশ করার মানুষের অভাবে সেই অনুভূতিগুলো প্রতিনিয়ত পি/ষ্টন হচ্ছিল।

মা কে দেখতাম প্রায়ই অন্যমনস্ক হয়ে কিছু ভাবতো।পরে ধীরে ধীরে বুঝেছিলাম মা তার সন্তানদের মিস করতো,তাদের কথা তার খুব মনে পড়তো।বাড়ির কালো রঙের টেলিফোনের সামনে মা ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকতো একটা ফোন কলের আশায়।অথচ কানাডায় থাকা সেই ব্যস্ত ছেলের সময় হতো না চব্বিশ ঘন্টার মাঝে পাঁচ মিনিট বাঁচিয়ে মাকে ফোন দেওয়ার।

আমি খেয়াল করলাম বাড়িতে মায়ের তেমন গ্রহণযোগ্যতা নেই।সবার তার প্রতি আচরণ দেখে মনে হতো রসাইঘর সামলানো বাদে মায়ের আর কোনো কিছুতেই হস্তক্ষেপ করার অধিকার নেই।বাবাও গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয়ে মায়ের মতামত নিতেন না।আমি ব্যাপারটার গভীরে যেতেই বুঝলাম মায়ের শিক্ষাগত যোগ্যতায় সামান্য পিছিয়ে থাকাই বাড়িতে তার অবহেলার প্রধান এবং একমাত্র কারণ।

মা ছিলেন একেবারে নীল পদ্মের মতো কোমল এবং স্নিগ্ধ।অথচ সন্তানদের অবহেলায়,স্বামীর ভৎসনায় মা কেমন ক্ষয়ে যাচ্ছিলেন একটু একটু করে।অথচ এই চমৎকার মানুষটিকে আমি ততোদিনে বাড়াবাড়ি রকমের ভালোবেসে ফেলেছি।মা ছাড়া তখন আমি এক মুহূর্তও থাকতে পারতাম না।বাড়ি থেকে ফোন করে বলল,আমি যেন শেষের দুই মাস সেখানেই থাকি।আমি জেদ ধরলাম।বিরোধ করে বললাম,আমি আমার শ্বশুড়বাড়িতে আমার শ্বাশুড়ির কাছেই থাকবো।

মা সেদিন ভেজা চোখে আমায় কতোক্ষণ দেখলেন।শেষে জড়ানো কন্ঠে বললেন,'তুমি খুব লক্ষী মেয়ে শাম্মি।বাবু হওয়ার পর তুমি চলে গেলে আমার ভীষণ কষ্ট হবে।আমি বোধহয় সঙ্গীর অভাবে ম'রেই যাবো।'

আমি সে কথা গায়ে মাখি নি।আমার মনে তখন অন্য পরিকল্পনা চলছে।এক বিকেলে মা কে বললাম,'মা তাড়াতাড়ি রেডি হন তো।আমাদের দশ মিনিটেই বের হতে হবে।' মা অবাক হয়ে জানতে চাইলেন,'সেকি! কোথায় যাবো আমরা?'

আমি সে কথা শুনিনি।কেবল নীল পাড়ের একটা সুতির শাড়ি পরিয়ে মাকে নিয়ে এক প্রকার ছুটতে ছুটতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলাম।মা হাঁপাতে হাঁপাতে বললেন,'সেকি! তুমি বাচ্চা মানুষ।তুমি শাড়ি না পরে আমায় পরিয়েছো কেন?'

আমি সে কথারও উত্তর দেইনি।কেবল তার হাত টা শক্ত করে চেপে ধরে গলির মোড়ে একটা রিকশা নিয়েছিলাম।মা বলেছিলো তার নাকি রিকশায় করে শহর ঘুরতে ভালো লাগে,সেই সাথে মাথায় গাজরা গুঁজে একাকী রাস্তায় কারো হাত ধরে হাঁটতে ভালো লাগে।আমার শ্বশুর মশাই তার স্বল্প শিক্ষিত স্ত্রীর জন্য ঐটুকু সময় খরচা করতে অপরাগ করলেন।আমি ভেবে নিয়েছিলাম নিলুফা ইয়াসমিনের সেই ছোট্ট স্বপ্ন টুকু আমিই পূরণ করবো।

রিকশায় উঠার পর মা কিছুক্ষণ অভিভূত হয়ে রাস্তাঘাট দেখলেন।শহরের অলিগলি দিয়ে লাল রঙের রিকশাটা একটু একটু করে এগিয়ে যাচ্ছিল।মা বাচ্চাদের মতো ঠোঁট ভেঙে বললেন,'তুমি এতো ভালো কেন শাম্মি?'

আমি সেই কথার জবাবে কেবল একগাল হাসলাম।ফুলের দোকান থেকে একটা সুন্দর গাজরা কিনে তার খোঁপায় গুজে দিয়ে বললাম,'আমি খুব সাধারণ মা।আপনি অসাধারণ বলেই সবাইকে আপনার অসাধারণ লাগে।'

সেদিন আমরা দীর্ঘসময় হাতে হাত রেখে পার্কের মেটে রাস্তায় হাঁটলাম।মা দুঃখ করে বলল আসিফ হওয়ার পর তিনি তার অন্য নাম রাখতে চেয়েছিলেন,কিন্তু বাবা রাখতে দেয় নি।আমি সেদিনই সিদ্ধান্ত নিলাম আমার বাচ্চা হলে তার নাম মা ই রাখবে।

যথাসময়ে আমার আর আসিফের ঘর আলো করে একটি কন্যা সন্তান পৃথিবীতে এলো।তার দিদুমণি ভালোবেসে তার নাম রাখলো চিত্রলেখা।এতো সুন্দর নাম আমি এর আগে শুনিনি।

চিত্র হওয়ার পর আমার যশোরে ফেরার দিন ঘনিয়ে এলো।মায়ের মুখ সময়ের সাথে সাথে বিষন্ন থেকে বিষন্নতর হতে লাগলো।আমি আসিফ কে অনুরোধ করলাম এবার যেন আমরা মা আর বাবা দু'জনকে নিয়েই শহরে ফিরি।অর্থবিত্ত তো আমাদের ভালোই আছে।একটা বড় বাড়ি ভাড়া নিলে মন্দ হয় না।

মা প্রস্তাব শুনতেই শুরুতে না করে দিলেন।অথচ কয়েকবার অনুরোধ করতেই কেমন নরম হয়ে গেলেন।কেবল কন্ঠ নামিয়ে বললেন,'তোমার বাবাকে রাজি করাতে পারো নাকি দেখো।'

বাবাকে রাজি করাতে আমাদের বেশ বেগ পোহাতে হলো।অবশেষে অনেক অনুনয়ের পর তিনি আমাদের সাথে যেতে রাজি হলেন।দুই সপ্তাহ রাজশাহী থাকার পরেই আমরা গাড়িভর্তি লাগেজ নিয়ে যশোরের রাস্তায় রওয়ানা দিলাম।

আমি ইদানীং লক্ষ্য করছি মায়ের গায়ের রংটা কেমন আগের চেয়ে উজ্জ্বল হয়ে গেছে।তার চোখে মুখে আগে যেই নিদারুণ ক্লান্তি ভাব দেখা যেত,সেটাও গায়েব।তাকে দেখলে মনে হয় তার বয়স দশ বছরের মতো কমে গেছে।

আমরা যশোরে এসেছি একমাসের মতো হয়েছে।মা এখানে আসার পর থেকেই প্রবল উৎসাহে একটার পর একটা কাজ করে যাচ্ছেন।চিত্রলেখার সমস্ত যত্ন তার দিদুমণিই করে থাকে।কেবল ঘুমানোর সময় আর খাওযার সময় সে তার মায়ের কাছে আসে।নয়তো পুরোদিন সে তার দিদুমণি আর দাদাভাইয়ের কাছেই থাকে।

আমি আর মা রোজ বিকেলে নিয়ম করে ঘন্টাখানেকের মতো ছাদে আড্ডা দেই।

নয়নতারা মায়ের প্রিয় ফুল।আমাদের ছাদে একটা নয়নতারা গাছ আছে।সেখান থেকে মাঝে মাঝে হালকা বেগুনি রঙের নয়নতারা ফুল ঝরে পড়ে।আমি অতি সন্তর্পণে সেই ফুল মায়ের খোঁপার ভাঁজে গুজে দেই।মা কখনো প্রাণ খুলে হাসেন,কখনো আবার আবেগ আপ্লুত হয়ে অন্যমনস্ক হয়ে যান।আমি দুই চোখ মেলে সেই মমতাময়ীর স্বরূপ দেখি।কি আশ্চর্য! আমাদের মন ভালো থাকলে কি আমাদের বয়স কমে যায় নাকি?

******সমাপ্ত*****

অনুগল্প- ক্ষয়িষ্ণু নীলপদ্ম 🪷
কলমে- মেহরিমা আফরিন ✍️

#সংগৃহীত

29/05/2026

১৯৭৩ সালে আটজন সম্পূর্ণ সুস্থ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন মানসিক হাসপাতালে ভর্তি হন। তাদের কারো কোনো মানসিক রোগ ছিল না, আর হাসপাতালের কোনো বিশেষজ্ঞ সেটা বুঝতেও পারেননি! 🧠

এটি কোনো ভুল ছিল না। এটি ছিল স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির বিখ্যাত মনোবিজ্ঞানী ডেভিড রোজেনহানের একটি যুগান্তকারী পরীক্ষা। তিনি একটি সাধারণ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে চেয়েছিলেন— চিকিৎসকরা কি সত্যিই সুস্থ মানুষ আর মানসিক রোগীর মধ্যে পার্থক্য করতে পারেন?

এই আটজন সাধারণ মানুষের মধ্যে ছিলেন একজন চিত্রশিল্পী, একজন গৃহিণী, একজন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ এবং কয়েকজন শিক্ষার্থী। হাসপাতালে গিয়ে তারা মাত্র একটি মিথ্যা বলেছিলেন। তারা জানিয়েছিলেন, তারা কানে শুধু তিনটি শব্দ শুনতে পাচ্ছেন— "ফাঁকা (Empty)", "শূন্য (Hollow)" এবং "ধপ (Thud)"।

ব্যস, এটুকুই! আটজনকেই সাথে সাথে হাসপাতালে ভর্তি করে নেওয়া হলো।

হাসপাতালে ঢোকার পর মুহূর্ত থেকেই তারা আর কোনো অভিনয় করেননি। তারা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক আচরণ শুরু করেন এবং ডাক্তারদের জানান যে তারা এখন সুস্থ এবং বাড়ি ফিরে যেতে চান। 🚪

কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, ডাক্তার বা নার্সরা তাদের কথা বিশ্বাস তো করলেনই না, উল্টো তাদের স্বাভাবিক কাজগুলোকেও রোগের লক্ষণ হিসেবে লিখে রাখলেন! তাদের ডায়েরি লেখাকে বলা হলো 'অবসেসিভ বিহেভিয়ার', আর ভদ্রভাবে কথা বলাকে ধরে নেওয়া হলো মানসিক রোগের একটি ধাপ হিসেবে।

হাসপাতালের বিশেষজ্ঞরা তাদের সুস্থতা ধরতে না পারলেও, মজার ব্যাপার হলো সেখানকার আসল মানসিক রোগীরা ঠিকই তাদের আসল পরিচয় ধরে ফেলেছিলেন! তারা ফিসফিস করে বলতেন, "তুমি তো পাগল নও, তুমি নিশ্চয়ই কোনো সাংবাদিক।"

সাত জনকে 'সিজোফ্রেনিয়া' রোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। গড়ে ১৯ দিন (সর্বোচ্চ ৫২ দিন) তাদের সেখানে আটকে রাখা হয়। ⏳

রোজেনহান যখন তার এই গবেষণাপত্রটি প্রকাশ করেন, তখন মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মাঝে ঝড় ওঠে। একটি স্বনামধন্য হাসপাতাল রোজেনহানকে চ্যালেঞ্জ করে বসে, "আমাদের কাছে ভুয়া রোগী পাঠিয়ে দেখান, আমরা ঠিকই ধরে ফেলব।"

রোজেনহান রাজি হলেন। পরবর্তী কয়েক মাসে সেই হাসপাতাল ৪১ জন রোগীকে "ভুয়া" বা সুস্থ বলে চিহ্নিত করে ফিরিয়ে দেয়। কিন্তু ভয়ংকর সত্যটি হলো— রোজেনহান সেখানে নতুন করে একজন ভুয়া রোগীও পাঠাননি! অর্থাৎ, যাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল তারা সবাই ছিলেন সত্যিকারের রোগী।

এই পরীক্ষাটি প্রমাণ করেছিল, একবার কারো গায়ে কোনো '
Next part.

ধর্ষণ বাড়ছে,,,শিশু থেকে বৃদ্ধা কেউই বাদ যাচ্ছেনা।কিন্তু একদল শেয়াল কুকুর হায়েনাদের উস্কে দেয়ার জন্য আরও কয়েক দল শুয়োরনী,...
28/05/2026

ধর্ষণ বাড়ছে,,,
শিশু থেকে বৃদ্ধা কেউই বাদ যাচ্ছেনা।
কিন্তু একদল শেয়াল কুকুর হায়েনাদের উস্কে দেয়ার জন্য আরও কয়েক দল শুয়োরনী,কুত্তিও রাস্তা ঘাটে কম নাই‼️

আজকে সারাদিনে যেই কয়টা উঠতি বয়সি,মাঝ বয়সি মেয়েদের দেখছি এরা আসলে কেমন জঘন্য রুচির পরিবার থেকে উঠে আসছে ভাবতেই পারছিনা।
এক সাইড বের করে আচল টানার ট্রেন্ড তো বহুদিন যাবত ই পপুলার হয়ে আছেই এখন পারলে ২সাইড ই বের করার আপ্রাণ প্রচেষ্টা চলছে‼️
একদল তো ওড়না পড়েই না,,,আরেক দল ওড়না গলায়,কিংবা পিঠের দিকে ঝুলায়ে ২হাতের কুনিয়ের ভাজে রেখে নিজেকে স্মার্ট ভাবছে‼️
একজন ৩৫+ বয়সী নারী আমি,২সন্তানের মা।
নারী দেহের আকর্ষণীয়তা আলাদা করে ব্যাক্ষার প্রয়োজন পড়েনা।
এরা অল টাইম হট এন্ড সেক্সি লুকে কড়া পারফিউম আর স্ট্রেইট করা চুলের ঝাকুনিতে নিজেকে ডিমান্ডিং,,,ভাবে অথচ রিক্সাওয়ালা টু রাস্তার ভিখারি এদের এই আকর্ষণীয় শরির কে কত শত সহস্রবার ধর্ষণ করে যায় নিজেরাও বুঝে না।
উহু ঠিক বুঝে না তা না।এরা বুঝে এবং চায় হাজারও চোখ তার দিকেই আটকে যাক💔

সুশীল দোচায়ে কেউ আবার বলতে আইসেন না আমি ধর্ষকদের পক্ষে যুক্তি দাড় করাচ্ছি🙄
জাস্ট পারলে কয়টা উত্তর দিয়েন-

পতিতালয়ে পতিতারা আকর্ষণীয় সাজে নানা রঙ এবং ঢং দেখিয়ে যেই ইনকাম টা করে তার নাম দেহ ব্যাবসা।।
তাদের উদ্দেশ্য ই থাকে কাস্টমার কে তার প্রতি আগ্রহী করা।
কিন্তু এরা কেন করে??
রোড সাইড ব্যানার টু পত্রিকার পাতা সব এডেই থাকবে নারীদেহের আকর্ষণ দেখিয়ে পন্যের প্রচার এটাও নাকি নারীকে সন্মানিত করা😂
কেন⁉️
রিসিপশন টু বসের পার্সোনাল পিএ কেন নারী কে লাগে বলতে পারেন??

এভাবে লিখলে ইতিহাস হয়ে যাবে,,,
তাই সহজে বলি-
আল্লাহ পর্দার আয়াতে নারী এবং পুরুষ ২দলকে
২টা কাজ করতে বলেছেন।
একদল কে ঢেকে চলতে,,আরেক দলকে চোখের হিফাজত করতে।
একটা নারী হয়েই আমি সেই হিফাজত করতে পারছিনা আর পুরুষের আজন্ম আগ্রহের কেন্দ্র বিন্দু সেই নারীদেহ দেখা থেকে কিভাবে বাচবে⁉️
হ্যাঁ বেচে থাকে অনেকে তবে পর্দাশীল নারী যেমন সমাজে কম,,
তেমনি চক্ষু হিফাজত কারী পুরুষ ও ম্যালাই কম‼️

এরা এই ইনকাম হীন দেহ ব্যাবসায়ীদের দেখে উৎসাহিত হয় তারপর শিশু গুলো বলি হয়😓‼️

ধর্ষকের শাস্তির বেলায় শরিয়াহ বিধান চাইলে বাকি বেলায় চান না কেন ⁉️

গোড়ায় কেটে আগায় পানি ঢালেন🤬⁉️shared post

21/05/2026

খুব কষ্ট লাগল। এতিমের দেখাশোনা কে করে?

21/05/2026

সময় থাকলে পড়েন ও কমেন্ট করেন...

Address

South Badda, Titash Road
Dhaka
1212

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Trend & Style posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share