25/07/2026
মেছতা (Melasma) হলো ত্বকের একটি অতি পরিচিত সমস্যা, যার ফলে প্রধানত মুখের ত্বক—বিশেষ করে গাল, কপাল, নাক এবং ঠোঁটের ওপর কালচে বা বাদামি ছোপ ছোপ দাগ দেখা দেয়। নিচে মেছতা হওয়ার কারণ এবং তা দূর করার কার্যকর উপায়গুলো আলোচনা করা হলো:
মেছতা কেন হয়?
মেছতার মূল কারণ হলো ত্বকে অতিরিক্ত মেলানিন (রঞ্জক পদার্থ) তৈরি হওয়া। এর পেছনে কয়েকটি প্রধান বিষয় কাজ করে:
* সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি (UV Rays): রোদের সংস্পর্শে এলে ত্বকে মেলানিন উৎপাদন বহুগুণ বেড়ে যায়, যা মেছতা হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ।
* হরমোনের তারতম্য: গর্ভাবস্থায়, গর্ভনিরোধক বড়ি খেলে বা হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপির কারণে মেলানিনের মাত্রা বেড়ে গিয়ে মেছতা হতে পারে।
* বংশগত কারণ: পরিবারে কারও মেছতার ইতিহাস থাকলে এর প্রবণতা বেশি থাকে।
* অনুপযুক্ত প্রসাধন বা কেমিক্যাল: ত্বকে মানানসই নয় এমন প্রসাধনী, সুগন্ধযুক্ত প্রোডাক্ট বা অতিরিক্ত রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করলে ত্বক সংবেদনশীল হয়ে মেছতা বাড়তে পারে।
* মানসিক চাপ ও থাইরয়েড: দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ এবং থাইরয়েডের সমস্যাও হরমোনের ওপর প্রভাব ফেলে মেছতা তৈরি করতে পারে।
মেছতা দূর করার উপায়
মেছতা পুরোপুরি নির্মূল করা কিছুটা সময়সাপেক্ষ, তবে সঠিক যত্ন ও চিকিৎসার মাধ্যমে এটি অনেকখানি হালকা ও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
১. দৈনিক ত্বকের যত্ন (Skincare Routine)
* সানস্ক্রিন ব্যবহার: বাইরে বের হন বা ঘরের ভেতরে থাকুন—প্রতিদিন অন্তত SPF 30 বা তার বেশি মাত্রার ব্রড-স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। রোদে গেলে প্রতি ২-৩ ঘণ্টা পর পর পুনরায় লাগান।
* ত্বক রক্ষাকারী উপাদান: স্কিন কেয়ার রুটিনে ভিটামিন সি (Vitamin C), নিয়াসিনামাইড (Niacinamide), আজেলিক এসিড (Azelaic Acid) বা কোজিক এসিড (Kojic Acid) সমৃদ্ধ সিরাম বা ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন। এগুলো মেলানিন উৎপাদনে বাধা দেয়।
২. ডাক্তারি ও পেশাদার চিকিৎসা
মেছতা গভীরে থাকলে একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের (Dermatologist) পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে ভালো। তারা সাধারণত নিচের চিকিৎসাগুলো দিয়ে থাকেন:
* প্রেসক্রিপশন ক্রিম: হাইড্রোকুইনন (Hydroquinone), ট্রেটিনোইন (Tretinoin), বা ট্রানেক্সামিক এসিড (Tranexamic Acid) যুক্ত ক্রিম।
* কেমিক্যাল পিলিং (Chemical Peels): ত্বকের ওপরের ক্ষতিগ্রস্ত স্তর তুলে ফেলে নতুন ও দাগহীন ত্বক তৈরিতে সাহায্য করে।
* লেজার থেরাপি: অন্যান্য চিকিৎসায় কাজ না হলে