18/07/2025
লাবুবু নামক পুতুল নিয়ে বেশ কদিন ধরেই হাইপ দেখছিলাম। আপনারাও নিশ্চয়ই দেখেছেন?
কিম্ভূতকিমাকার ভয়ংকর দেখতে, দাঁত বের করা এই পুতুলটাকে কিউট হিসেবে আখ্যা দিয়ে রাতারাতি সোস্যাল মিডিয়াতে হাইপের তুঙ্গে তুলে ফেলা হয়েছে।
আমরা এমন একটা সময়ে বাস করছি, যখন অস্বাভাবিক, বিকৃত ও ভয়ানক জিনিসও আধুনিকতা কিংবা পশনেসের মোড়কে আমাদের ঘরে ঢুকে পড়ছে! কুল সাজতে এসব কিনে শো অফ করছি, সাজিয়ে রাখছি ইভেন বাচ্চাদের খেলনা হিসেবেও ব্যবহার করতে দিচ্ছি।
ট্রেন্ডে গা ভাসাতে গিয়ে আমরা বুঝতেই পারছি না কোনটা স্বাভাবিক, আর কোনটা অস্বাভাবিক।
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিন্তু আমাদেরকে ঠিক এমন বিষয়েই সতর্ক করেছিলেন।
যখন মন্দকে সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য করে তোলা হয়, তখন ধীরে ধীরে আমাদের মন-মস্তিষ্ক সেই মন্দকে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে।
এই অভ্যস্ততা আমাদের এমন এক অবস্থায় নিয়ে
যেতে পারে, যেখানে দাজ্জালের প্রতারণাকেও স্বাভাবিক মনে হবে।
নবীজি (সা.) আমাদের সতর্ক করে দিয়েছেন, দাজ্জালের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হবে ধোঁকাবাজি! হারামকে হালালরূপে উপস্থাপন করা, কুৎসিতকে সুন্দর দেখানো।
আমরা দানবাকৃতি পুতুল কিনে তা ‘কিউট’ বলে আনন্দে গ্রহণ করছি, আমাদের সন্তানদের কাছেও খারাপ জিনিস কে নরমালাইজ করছি।
একবার ভাবুন, যেদিন সত্যিকারের ভালো আর মন্দের পার্থক্য করার মতোন সিচুয়েশন আসবে, আমরা তখন কি করবো? কীভাবে চিনবো যদি আমরা আগে থেকেই খারাপকেই আকর্ষণীয় রূপে দেখে অভ্যস্ত হয়ে পড়ি?
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিসসালাম বলেছেন:
ফেরেশতারা সেই ঘরে প্রবেশ করেন না,
যেখানে কুকুর অথবা প্রাণীর ছবি (تصاویر) রয়েছে।
(সহিহ বোখারি ৩২২৫, সহিহ মুসলিম ২১০৬)
পুতুল হারাম,লাবুবুও। এটি কোনো খেল তামাশার বিষয় না। আমাদের উচিত সতর্ক হওয়া, বাচ্চাদেরকেও ইসলামের আলোকে জীবনযাপনে অনুপ্রেরণা দেয়া। স্রোতে গা ভাসাতে গিয়ে ভালো মন্দের হিতাহিতজ্ঞানশূন্য হবেন না!
আল্লাহ আমাদের সকলকে হেফাজত করুন(আমীন)।
©️