05/05/2026
তানভীর ছোটবেলা থেকেই নামাজ রোজার ধার ধারত না। মুসলিম ঘরে জন্ম হলেও ইসলাম তার কাছে ছিল শুধুই একটা পরিচয়পত্র—জাতীয় পরিচয়পত্রের “ধর্ম” ঘরে লেখা একটা শব্দ। সে বড় হয়েছে শহরের ব্যস্ততা, বন্ধুদের আড্ডা, মিউজিক, গেম আর দুনিয়াদার আনন্দের মাঝে। নামাজ কাকে বলে, সে জানত—কিন্তু তা কখনো পড়েনি।
তার মা বারবার বলত, “বাবা, নামাজটা পড়, কুরআনটা একটু পড়ে দেখ।” তানভীর হেসে এড়িয়ে যেত। বলত, “মা, আমি খারাপ না। আমি কাউকে মারি না, চুরি করি না। এটুকুই তো যথেষ্ট।”
কিন্তু সে জানত না—আল্লাহকে ভুলে থাকা নিজেই এক বড় ভুল।
একদিন এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় সে গুরুতর আহত হয়। হাসপাতালে যখন অচেতন অবস্থায় পড়ে ছিল, তখন চিকিৎসকরা বলে দিয়েছিল—বাঁচার সম্ভাবনা কম। সেই সময়ে তার মা চোখে পানি নিয়ে সিজদায় পড়ে গিয়ে কাঁদতে থাকে, আর দোয়া করে,
“হে আল্লাহ, যদি আমার ছেলেকে তুমি ফেরাও, আমি জানি সে বদলে যাবে। আমি জানি সে তোমার দিকে ফিরে আসবে।”
আল্লাহ তার দোয়া কবুল করেন।
তানভীর বেঁচে যায়। কিন্তু হাসপাতালে ছয়দিন অচেতন থাকার পর জেগে উঠে সে যেন এক নতুন মানুষ। তার চোখে পানি, গলার স্বরে কান্না, আর ঠোঁটে শুধু একটি বাক্য:
“আমি কী ভুল পথে ছিলাম!”
এই দুর্ঘটনা তাকে আল্লাহর নিকট ফিরিয়ে আনে। সে প্রথমবার কুরআন হাতে নেয়, সূরা ইয়াসিন পড়ে, আর অবাক হয়—এতো সুন্দর জীবনবিধান সে এতদিন কীভাবে অবহেলা করেছে?
সে অল্প অল্প করে নামাজ শিখে, তওবা করে, হারাম কাজ থেকে ফিরে আসে। বন্ধুদের ছেড়ে দেয়, নতুন পরিবেশ খুঁজে নেয়। আর এখন সে নিজেই অন্য তরুণদের ডাকে—“ভাই, আল্লাহ দয়া করেন। ফিরে আসো, যতদিন সময় আছে।”
আজ তানভীর একজন ইসলামী দাওয়াতকর্মী। সে বলে,
“আল্লাহ আমাকে দ্বিতীয় জীবন দিয়েছেন, আমি এই জীবনটা তাঁর পথে ব্যয় করব—ইনশাআল্লাহ।”
গল্পের শিক্ষা:
আল্লাহর রহমত এত বিশাল, যে কোনো পাপী মানুষ যদি আন্তরিক তওবা করে, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন।
কখনো কাউকে দেখে হেয় ভাবা উচিত নয়—কারণ কে কখন আল্লাহর পথে ফিরে আসবে, সেটা একমাত্র আল্লাহই জানেন।
আর কখনো ভাববেন না—“আমার পাপ এত বেশি, আমি তো মাফ পাব না।” বরং আল্লাহ বলেন:
“قُلْ يَا عِبَادِيَ ٱلَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَىٰٓ أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِن رَّحْمَةِ ٱللَّهِ”
“হে আমার গোনাহগার বান্দারা! তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না।” (সূরা যুমার ৩৯:৫৩)