01/01/2026
শীতের সকালের নীরবতায় মোড়ানো এই ছবিটি তোলা হয়েছিল ভোর সাতটা–সাড়ে সাতটার দিকে। চারপাশে ঘন কুয়াশা, তবুও শহর থেমে নেই—কেউ বেরিয়েছে জীবিকার সন্ধানে, কেউ নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার সংগ্রামে। এই নীরব সকালের মাঝেই বারবার মনে পড়ে যায় আমাদের প্রিয় শহীদ ভাই শরীফ ওসমান বিন হাদীকে।
যিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর অপরাধে, ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরোধিতা করার কারণে নির্মমভাবে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। এক সপ্তাহ মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে তিনি এই ফানি দুনিয়া ছেড়ে মহান রব্বুল আলামিনের ডাকে সাড়া দিয়ে চলে যান।
আজ কেটে গেছে বহু দিন, অসংখ্য ঘণ্টা—তবুও তাঁর রক্তের বিচার আজও হয়নি। রাষ্ট্র নীরব, আর সেই নীরবতা প্রতিনিয়ত আমাদের বিবেককে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
তিনি আমাদের শিখিয়ে গেছেন কীভাবে অন্যায়ের সামনে মাথা নত না করে দাঁড়াতে হয়, কীভাবে ইনসাফ ও ন্যায়ের ভিত্তিতে একটি রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন দেখতে হয়।
শহীদ শরীফ ওসমান হাদী ভাই শুধু একটি নাম নন—তিনি ছিলেন একটি আদর্শ। শীতের কনকনে ভোরে ফজরের নামাজ শেষে মসজিদের সামনে দাঁড়িয়ে মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতেন সত্য ও ন্যায়ের বার্তা। তিনি বারবার বলতেন—
“সকালের সময় বরকতময়; এই সময়কে কাজে লাগাতে পারলে জীবন বদলে যায়।”
আজ সেই কথাগুলোই আমাদের জন্য হয়ে উঠেছে দিকনির্দেশনা।
এই জীবনসংগ্রামে অলসতার কোনো স্থান নেই। আমরা যে যেই পেশায় থাকি—ব্যবসা, চাকরি কিংবা পড়াশোনা—সব ক্ষেত্রেই আমাদের হতে হবে সচেতন, দায়িত্বশীল ও সক্রিয়। কারণ একটি জাতি গড়ে ওঠে দায়িত্বশীল মানুষের হাত ধরেই।
পরিশেষে একটাই কথা বলতে চাই—এই রক্তের দাম আছে।
শহীদ শরীফ ওসমান হাদী ভাইয়ের রক্ত কোনোভাবেই বৃথা যেতে পারে না।
এই জাতিকে একদিন জবাব দিতেই হবে, ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বিচার হতেই হবে।
কারণ ন্যায়বিচার ছাড়া শান্তি আসে না, আর শহীদের রক্ত উপেক্ষা করে কোনো রাষ্ট্র টিকে থাকতে পারে না।
আজ যদি আমরা নীরব থাকি, আগামীকাল ইতিহাস আমাদেরই কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে।
শহীদ হাদী ভাইয়ের আত্মত্যাগ আমাদের মনে করিয়ে দেয়—
ন্যায়ের পথে হাঁটতে গেলে ভয় নয়, প্রয়োজন দৃঢ়তা ও অটল কণ্ঠস্বর।
আমরা সেই কণ্ঠস্বর হবো—ইনশাআল্লাহ।
#শহীদ_শরীফ_ওসমান_হাদী
#ন্যায়বিচার_চাই
#শহীদের_রক্ত_ব্যর্থ_হবে_না
#ইনসাফের_পথে
#সচেতন_হও_ঐক্যবদ্ধ_হও
#শীতের_সকালের_বার্তা