11/06/2026
𝐏𝐚𝐫𝐭:- 𝟎𝟗
ড্রয়িং রুমের নরম আলোয় টিভির স্ক্রিনে জম্বিরা চিৎকার করে ছুটছে। এলেসা একদম মনোযোগ দিয়ে দেখছিল। তার চোখ দুটো স্ক্রিনের দিকে স্থির, কিন্তু মাঝে মাঝে তার ঠোঁটের কোণে একটা ছোট্ট হাসি খেলে যাচ্ছে। ভয় পেলেও এইসব মুভি তার ভেতরের অন্ধকারকে যেন একটু শান্ত করে। চিপসের প্যাকেটটা হাতে নিয়ে ঝাঁকিয়ে দেখল—একদম খালি।
পাশে তাকাতেই দেখে হিরো আরেকটা প্যাকেট খুলে নিঃশব্দে চিপস খাচ্ছে।
“এই চোর!” এলেসা বালিশটা তুলে হিরোর মাথায় মেরে দিল। “চিপস আর কোল্ড ড্রিংক নিয়ে আয় জলদি! নিজে খেয়ে খেয়ে আমারটা শেষ করলি?”
হিরো হাসতে হাসতে উঠে পড়ল। বিড়বিড় করে বলতে বলতে কিচেনের দিকে যাচ্ছিল, “আরে বাবা, একটু খেলাম আর এত রাগ! অ্যাটিটিউড কুইন…”
কিছুক্ষণ পর হিরো দুই হাত ভর্তি করে স্ন্যাক্স নিয়ে এল। চিপস, চকলেট, কোল্ড ড্রিংক, এমনকি কয়েকটা আইসক্রিমও। হাত থেকে পড়ে যাওয়ার মতো অবস্থা। দুজনে আবার মুভিতে ডুবে গেল। হাসি, গল্প, খাওয়া—সব মিলিয়ে রাতটা বেশ মজারই ছিল।
কিন্তু ধীরে ধীরে ঘুম তাদের চোখে ভর করে আসতে লাগল। এলেসা সোফার এক পাশে কুঁকড়ে শুয়ে পড়ল। হিরো অন্য সোফায়। দুজন দুই দিকে মুখ করে ঘুমিয়ে পড়ল। টেবিলের উপর চিপসের খালি প্যাকেট, ক্যান আর কয়েকটা চকলেটের মোড়ক ছড়িয়ে আছে। যেন দুই বাদর রাতভর আনন্দ করে ঘুমিয়ে পড়েছে।
সকালের নরম আলো জানালা দিয়ে ঢুকছে। মায়া ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে মিহিদের রুমের সামনে এসে দাঁড়াল। দরজায় নক করতেই দেখল দরজা ভেজানো। সে হালকা করে ঠেলে ভেতরে ঢুকল।
“মিহিদ?”
রুম খালি। মায়া ঘুরে বেরিয়ে যেতে যাচ্ছিল, হঠাৎ পিছন থেকে মিহিদ এসে তার হাতটা ধরে ফেলল। মায়া চমকে উঠে পিছনে তাকাল।
মিহিদ তার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল, “সকাল সকাল আমার রুমে কী হুম?”
মায়া লজ্জায় লাল হয়ে গেল। “না… ওই আমি এদিক দিয়ে যাচ্ছিলাম, তাই ভাবলাম দেখি তুমি কী করছ…”
“হুম, বুঝেছি,” বলেই মিহিদ তাকে জড়িয়ে ধরল। তার হাত মায়ার কোমরে শক্ত হয়ে বসল। মায়া প্রথমে একটু নড়াচড়া করল, কিন্তু মিহিদ ছাড়তে চায় না। তার চোখে সেই চেনা আদর আর অধিকারের মিশ্রণ।
ঠিক তখনই দরজার কাছে পায়ের শব্দ হলো। রিটস এসে দাঁড়িয়েছে। তার ঠোঁটে একটা মুচকি হাসি। চোখ দুটো ঠান্ডা, কিন্তু ভেতরে যেন আগুন জ্বলছে।
মায়া লজ্জায় এক ঝটকায় মিহিদকে সরিয়ে দিয়ে দ্রুত রুম থেকে বেরিয়ে গেল। তার গাল লাল, চোখ নিচু।
রিটস ভেতরে ঢুকে মিহিদকে দেখে শুকনো গলায় বলল, “সকালেই এত এনার্জি? ভালো ভালো।”
মিহিদ হেসে কাঁধ ঝাঁকাল। রিটস আর কিছু বলল না। কিন্তু তার চোখে সেই চিরকালীন গম্ভীরতা আর একটা তীক্ষ্ণ জেলাসির ছায়া।
দুজনে নিচে ড্রয়িং রুমে এসে দেখল—একটা সোফায় এলেসা, অন্যটায় হিরো। দুজনেই ঘুমিয়ে আছে। টেবিলের উপর চিপসের খালি প্যাকেট, কোল্ড ড্রিংকের ক্যান, চকলেটের মোড়ক ছড়ানো। রাতভর দুজনের আড্ডার স্পষ্ট চিহ্ন।
রিটসের চোয়াল শক্ত হয়ে গেল। তার চোখ এলেসার দিকে স্থির। হিরোর সাথে এত কাছাকাছি ঘুমিয়ে থাকাটা তার একদম পছন্দ হচ্ছে না। ভেতরে ভেতরে একটা রাগী ঝড় উঠছে। তার আঙুল আবার সেই রাগী রিদমে টোকা দিতে শুরু করল। মুখে কোনো কথা নেই, কিন্তু চোখ দুটো যেন বলছে—এটা আমার সহ্য হয় না।
মিহিদ এলেসার কাছে গিয়ে ডাকল, “এলেসা, উঠ। সকাল হয়ে গেছে।”
এলেসা বিরক্ত হয়ে চোখ খুলল। ঘুম জড়ানো গলায় বলল, “কী হয়েছে? আরেকটু ঘুমাতে দে না…”
দুই-একটা গালি দিয়ে সে আবার চোখ বন্ধ করতে যাচ্ছিল। মিহিদ হাসতে হাসতে বলল, “উঠ উঠ, নয়তো জোনাকি আপু এসে দেখলে আবার লেকচার শুরু করবে।”
রিটস চুপচাপ দাঁড়িয়ে সব দেখছিল। তার মনে একটা প্রশ্ন ঘুরছিল—এলেসা কেন হিরোর সাথে এত স্বাভাবিক? আর আমার সাথে কেন এত দূরত্ব?
এলেসা উঠে বসল। চুলগুলো এলোমেলো, চোখে এখনো ঘুম। কিন্তু রিটসের দিকে তাকাতেই তার অ্যাটিটিউড কুইন মোড অন হয়ে গেল। সে ভ্রু কুঁচকে একবার তাকাল, তারপর মুখ ঘুরিয়ে নিল।
রিটস কিছু না বলে সোজা রান্নাঘরের দিকে চলে গেল। কিন্তু তার ভেতরের জেলাসি আর রাগটা আরও গভীর হয়ে বসে গেল।
To be continued...
~[𝐓𝐢𝐤𝐭𝐨𝐤:- 𝐧𝐚𝐝𝐢𝐲𝐚.𝐪𝐮𝐞𝐧𝐧𝟎
𝐅𝐚𝐜𝐞𝐛𝐨𝐨𝐤:- 𝐓𝐚𝐧𝐡𝐚_আপু/𝐧𝐚𝐝𝐢𝐲𝐚𝐪𝐮𝐞𝐧𝐧𝟎𝟎
𝐈𝐧𝐬𝐭𝐚𝐠𝐫𝐚𝐦:- 𝐧𝐚𝐝𝐢𝐲𝐚.𝐪𝐮𝐞𝐧𝐧𝟎]
অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষিদ্ধ 🚫