09/08/2026
আমাদের সংসারে দাদি শাশুড়ি ছিলেন প্রকৃতির সবচেয়ে কাছে থাকা জেনারেশনের শেষ মানুষটা।
অবসরে বলতেন মাতৃত্বের আর একাকীত্বের কষ্টের কথা। পুকুরপাড়ে বসে বসে কান্না করতেন। ৩/৪ নম্বর প্রেগন্যান্সির পেট নিয়েও রোজ মসলা বাটতেন। যুগ আর সময় পাল্টেছে। পাল্টেছে পারিবারিক ধরন আর বাচ্চা লালন-পালনের ধরনও। কিন্তু মাতৃত্বের একাকীত্ব বা কষ্ট রয়ে গেছে একই রকম। তাঁরা ছিলেন অনেকের সাথে থেকেও একা, আর আমরা লালন-পালনেই একা।
প্রথম বাচ্চা হওয়ার আগে থেকেই তিনি আমাকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতেন। এই যুগের মেয়ে, কীভাবে একা একা এত কাপড়, কাঁথা জোগাড় করব! নিজে সাহায্য করতে পারছেন না বলেও খুব কষ্ট পেতেন। তাঁর কাছে বাচ্চা মানেই অবশ্যই কাঁথা-কাপড় নিয়ে আগে থেকে প্রস্তুত থাকা লাগবে। আনাড়ি আমি মোটামুটি যা পারি গোছালাম। আস্তে আস্তে পরিচিত হলাম কটন ডায়াপারগুলোর সাথে। দাদি দেখে অবাক হতেন, "ডায়াপার আবার কাপড়েরও হয়!"
এভাবেই দেখতে দেখতে এখন দুইটা বাচ্চার মা আমি। দাদি কিন্তু আমার দ্বিতীয় বাচ্চার কিছুই জেনে যেতে পারেন নাই। অথচ তাঁর মাধ্যমেই প্রথম বাচ্চার খবর সবাই জানতে পেরেছিল। দ্বিতীয় বাচ্চা কনসিভ করার ১ মাস আগেই তিনি মারা যান। আল্লাহ তাঁকে বেহেশত নসিব করুক।
আপনার মাতৃত্বের জার্নি বা পোস্টপার্টামের সময়গুলো কেমন কাটছে? আমাদের দাদি-নানিদের মতো এমন নিঃস্বার্থ মায়া কি আপনিও পেয়েছিলেন? শেয়ার করতে পারেন আপনার গল্পটাও... ❤️🍃