28/01/2026
নির্বাচনের সময় এলে পৃথিবীর আকাশ বদলে যায়। কোথাও আকাশ হয় শান্ত, কাগজের মতো সাদা—কোথাও আবার রঙিন, শব্দে ভারী, ঢেউ খেলানো।
ইউরোপ: নীরবতার ভিতর আলো
ইউরোপের শহরগুলোতে নির্বাচন আসে নিঃশব্দ পায়ে।
জার্মানির ঠান্ডা সকালে নেতা দাঁড়ান কাচের জানালার সামনে, হাতে কোনো মাইক নেই—আছে সংখ্যার হিসাব, ভবিষ্যতের মানচিত্র। তিনি কথা বলেন কম, কিন্তু প্রতিটি শব্দ যেন ওজন মেপে বলা।
ফ্রান্সে সন্ধ্যার আলোয় টেলিভিশনের স্টুডিও জ্বলে ওঠে। দুই নেতা মুখোমুখি বসেন—তাদের কণ্ঠে আগুন নেই, আছে যুক্তির তাপ। তারা স্বপ্ন দেখান না, বরং প্রশ্ন করেন—রাষ্ট্র কীভাবে আরও মানবিক হতে পারে?
ইংল্যান্ডের সরু রাস্তায় এক নেতা ধীরে ধীরে হাঁটেন। দরজায় কড়া নাড়েন, চোখে চোখ রেখে শোনেন—বৃদ্ধের পেনশন, তরুণের চাকরি, মায়ের স্কুলের চিন্তা। এখানে ভোট মানে কাগজ নয়, মানুষের কথা।
সুইডেন আর নেদারল্যান্ডসে নির্বাচনী প্রচারণা যেন নদীর মতো—শান্ত, স্বচ্ছ। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছোট বার্তা ভাসে, কোনো চিৎকার নেই। নেতা বলেন, “সব পারব না”—আর সেই সত্যবাদিতাই তাদের শক্তি।
ইউরোপে নির্বাচন মানে—
চুপচাপ ভাবা, ধীরে বলা, গভীরভাবে দায় নেওয়া।
বাংলাদেশ: কোলাহলের ভিতর আগুন
বাংলাদেশে নির্বাচন আসে ঝড়ের মতো।
রাস্তায় রাস্তায় ব্যানার—লাল, সবুজ, নীল। মাইকের শব্দে বাতাস কাঁপে। ট্রাকের ওপর দাঁড়ানো নেতা হাত নাড়েন, কণ্ঠে বজ্র। শব্দের ভিড়ে শব্দ হারায়, কিন্তু আবেগ ছড়িয়ে পড়ে মানুষের রক্তে।
এখানে বক্তৃতা মানে গল্প বলা—মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি, ত্যাগের কথা, শত্রুর নাম। নেতা বলেন, “আমি তোমাদেরই একজন”—আর জনতা বিশ্বাস করতে চায়।
মিছিল চলে, ঢোল বাজে, পতাকা উড়ে। পরিকল্পনা কাগজে থাক বা না থাক—আবেগ চোখে দেখা যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় রাত জাগে বিতর্কে, কে দেশের জন্য বেশি কেঁদেছে তার হিসাব চলে।
বাংলাদেশে নির্বাচন মানে—
মানুষ জাগানো, আগুন ধরানো, হৃদয় ছুঁয়ে ফেলা।
দুই পথ, এক ভবিষ্যৎ
একদিকে ইউরোপ—যেখানে নির্বাচন নদীর মতো শান্ত,
অন্যদিকে বাংলাদেশ—যেখানে নির্বাচন সমুদ্রের মতো উত্তাল।
নদী জানে কোথায় বাঁধ ভাঙবে না,
সমুদ্র জানে কীভাবে তীরে প্রাণ এনে দেয়।
শেষ পর্যন্ত দুটোই পানি।
শেষ পর্যন্ত দুটোই জীবন।
যেদিন বাংলাদেশের কোলাহলের ভেতর ইউরোপের স্বচ্ছতা ঢুকবে,
আর ইউরোপের নীরবতার ভেতর বাংলাদেশের উষ্ণতা—
সেদিন নির্বাচন হবে শুধু ক্ষমতার লড়াই নয়,
মানুষ আর ভবিষ্যতের মাঝে এক গভীর অঙ্গীকার।
সংগৃহীত