19/05/2026
রান্নাঘরে মাছ ধুতে গিয়ে হঠাৎ নখের ভেতরে কাঁটা ঢুকে যায়…
এক ফোঁটা রক্ত বের হয়, তারপর কয়েকদিন ধরে সেই আঙুলটা টনটন করে ব্যথা করে।
তবুও কাউকে কিছু বলা হয় না।
কারণ এই ছোট ছোট ব্যথাগুলোর জন্য আলাদা কোনো ওষুধ থাকে না… শুধু সহ্য করে নিতে হয়।
মাছগুলোতে মসলা মাখিয়ে গরম তেলে ছেড়ে দিতেই কয়েক ফোঁটা তেল ছিটকে এসে হাতে, গলায় কিংবা জামা ভেদ করে পেটে লাগে।
হঠাৎ ঝলসে ওঠা সেই জ্বালায় চোখ বন্ধ হয়ে আসে, তবুও চুলার সামনে দাঁড়িয়ে রান্নাটা শেষ করতে হয়।
কারণ সংসারের রান্না মাঝপথে থেমে থাকে না…
আর এই কয়েক ফোঁটা পোড়ারও কোনো ওষুধ নেই, শুধু সহ্য করার অভ্যাস আছে।
বাচ্চা ঘুমিয়ে যাওয়ার পর সারাদিনের জমে থাকা কাজগুলো শেষ করতে গিয়ে হঠাৎ খাটের কোণায় পায়ের ছোট আঙুলে প্রচণ্ড একটা ধাক্কা লাগে।
উফ!
চোখে পানি চলে আসে…
ইচ্ছে করে জোরে চিৎকার করতে, কিন্তু করা যায় না — বাচ্চা উঠে যাবে।
তাই দুই সেকেন্ড চুপ করে বসে থেকে আবার খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে কাজে ফিরে যেতে হয়।
ব্যথাটা দুই-একদিন ঠিকই থাকে, তবুও থেমে থাকা যায় না…
কারণ এই ব্যথারও কোনো ছুটি নেই।
তরকারি কাটতে গিয়ে আঙুলে বড় একটা আচড় লাগে, সামান্য রক্তও বের হয়।
তারপরও কাটাকাটি থামে না, রান্নাটাও শেষ হয়।
পেঁয়াজ কাটলে জ্বলে, পানিতে ভিজলে জ্বলে, খাবার খেতেও জ্বলে…
তবুও সেই আঙুলে ব্যান্ডেজ জড়ানো হয় না।
কারণ সংসারের কাজের মাঝে এইটুকু ব্যথাকে গুরুত্ব দেওয়ার সময় কোথায়!
এই ব্যথাগুলোর কোনো ওষুধ হয় না… শুধু সহ্য করতে হয়।
নারীরা আসলে অনেক ব্যথা লুকিয়ে বেঁচে থাকে…
শরীরের ছোট ছোট ক্ষতগুলো কেউ দেখে না, অনুভবও করে না।
কারণ তারা অভ্যাস করে ফেলেছে —
চুপচাপ সহ্য করে যেতে।
মনের আঘাতের গল্পটা না হয় আরেকদিন বলা যাবে…!