20/07/2026
"সন্তানের জন্য ম*রতে পারবেন, কিন্তু তার জন্য বাঁচতে শিখছেন তো?"
প্রায় প্রতিটি বাবা-মাই বলেন,"আমার সন্তানের জন্য আমি জীবনও দিয়ে দিতে পারি।" কিন্তু একটি প্রশ্ন কি কখনও নিজেকে করেছেন? আপনার সন্তান কি একজন ক্লান্ত, সবসময় দুশ্চিন্তাগ্রস্ত, রাগী ও মানসিকভাবে বিধ্বস্ত বাবা-মাকে বেশি প্রয়োজন, নাকি একজন সুস্থ, প্রাণবন্ত, হাসিখুশি ও জীবনের প্রতি কৃতজ্ঞ বাবা-মাকে?
আমরা অনেকেই সন্তানের জন্য দিন-রাত পরিশ্রম করি। ভালো স্কুল, ভালো খাবার, ভালো পোশাক, ভালো খেলনা সবকিছু দেওয়ার চেষ্টা করি।
কিন্তু কখনও কি খেয়াল করেছেন, সে সবচেয়ে বেশি কী চায়?
হয়তো অফিস থেকে ফিরে মাত্র ১০ মিনিট আপনার সঙ্গে মন খুলে হাসতে। হয়তো একসাথে বারান্দায় দাঁড়িয়ে বৃষ্টি দেখতে। হয়তো রাতে ঘুমানোর আগে একটি গল্প শুনতে। হয়তো আপনার চোখের দিকে তাকিয়ে একটি আন্তরিক হাসি দেখতে।
শিশুর মস্তিষ্কের মিরর নিউরন (Mirror Neurons) তাকে আশেপাশের মানুষের আবেগ ও আচরণ অনুকরণ করতে সাহায্য করে। তাই আপনি যদি প্রতিদিন উদ্বিগ্ন, বিরক্ত, অস্থির বা হতাশ থাকেন, আপনার সন্তানও অজান্তেই সেই আবেগের ছাপ নিজের মস্তিষ্কে ধারণ করতে শুরু করে। অন্যদিকে, যখন সে দেখে, মা ছোট একটি ফুল দেখে আনন্দ পাচ্ছেন। বাবা ভুল করেও হেসে বলছেন, "আচ্ছা, আবার চেষ্টা করি।" পরিবারের সবাই একসাথে বসে গল্প করছে। ছোট ছোট সাফল্যও উদযাপন করা হচ্ছে।তখন তার মস্তিষ্ক শিখে জীবন শুধু টিকে থাকার জন্য নয়, উপভোগ করারও।
গবেষণায় দেখা গেছে, বাবা-মায়ের শান্ত, স্নেহপূর্ণ ও নিরাপদ উপস্থিতি শিশুর মস্তিষ্কে নিরাপত্তার অনুভূতি গড়ে তোলে। এতে স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণে সাহায্যকারী স্নায়ুতন্ত্র আরও ভারসাম্যপূর্ণভাবে কাজ করতে পারে, আর শেখা, মনোযোগ ও আবেগ নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে জড়িত অংশগুলোও ভালোভাবে বিকশিত হওয়ার পরিবেশ পায়।
ভাবুন তো, আপনি সারাক্ষণ বলছেন,"পড়ো... পড়ো... পড়ো..." কিন্তু আপনার সন্তান কখনও আপনাকে বই পড়তে দেখে না। আপনি তাকে বলছেন,"রাগ করা খারাপ।" কিন্তু সে প্রতিদিন আপনাকেই সামান্য কারণে চিৎকার করতে দেখে।
আপনি বলছেন,"জীবন সুন্দর।" কিন্তু সে আপনাকে কখনও জীবন উপভোগ করতে দেখে না।
শিশুরা আমাদের কথা কম শোনে, আমাদের জীবনটাই বেশি পড়ে।তাই নিজের জন্য একটু সময় দিন। নিজের শরীরের যত্ন নিন।বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করুন। প্রিয় বই পড়ুন। হাসুন। প্রকৃতি দেখুন।কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন। প্রয়োজনে বিশ্রাম নিন।
এগুলো কোনো বিলাসিতা নয়। এগুলো আপনার সন্তানের ভবিষ্যতের জন্যও বিনিয়োগ। কারণ একটি সুখী শিশু গড়তে গেলে প্রথমে দরকার একজন মানসিকভাবে সুস্থ বাবা-মা।
আপনার সন্তান আপনার কাছে সবচেয়ে দামী খেলনা, জামাকাপড় বা বাড়ি চায় না। সে চায় এমন একজন মা-বাবা, যাদের চোখে জীবনের প্রতি ভালোবাসা আছে...যাদের হাসি সত্যিকারের...
যাদের পাশে দাঁড়ালে পৃথিবীটাকে নিরাপদ মনে হয়।
সন্তানের জন্য শুধু ম*রার কথা ভাববেন না। তার জন্য এমনভাবে বাঁচুন, যাতে সে আপনাকে দেখে জীবনকে ভালোবাসতে শেখে।
ধন্যবাদ
Collected